রাজারহাটে করোনা মোকাবেলায় এডিপির অর্থ নয় ছয়

প্রকাশিত: ২:১৪ অপরাহ্ণ, জুন ১৭, ২০২০, 844 জন দেখেছেন

স্টাফ রিপোর্টার কুড়িগ্রামঃ কুড়িগ্রামের রাজারহাটে করোনা ভাইরাস দুর্যোগ মোকাবেলার জন্য স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের বার্ষিক উন্নয়ন প্রোগ্রাম (এডিপি)’র বরাদ্দকৃত অর্থ নয় ছয় হয়েছে।করোনা দুর্যোগে সাধারণ মানুষের খাদ্য নিশ্চিত এবং মাঠ পর্যায় কর্মকর্তাসহ জনপ্রতিনিধিদের সুরক্ষার জন্য এই অর্থ বরাদ্দ দিলেও সেই সুবিধা থেকে অনেকেই বঞ্চিত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।উপজেলার ৭টি ইউপির ৬৩টি ওয়ার্ডে করোনা প্রতিরোধ মূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জীবাণুনাশক,ব্লিচিং পাউডার,হ্যান্ড গ্লোবস,এ্যান্টিসেপটিক সাবান,পিপিআই এবং ত্রাণ সামগ্রী বিতারণে এডিপির অর্থ বরাদ্দ আসে।করোনা মহামারীর দুর্যোগ মোকাবেলার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে স্থানীয় সরকার,পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগের মাধ্যমে বার্ষিক উন্নয়ন প্রোগ্রাম (এডিপি)-র ২০১৯-২০২০ অর্থ বছরের রাজারহাটে ৪ লাখ ২হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়।এই অর্থ আত্নসাতের অভিযোগ উঠেছে।করোনা দুর্যোগ চলাকালিন সময়ে মানুষের সহায়তার জন্য সরকারের একাধিক প্রকল্পের মাধ্যমে সহায়তা একসঙ্গে আসার কারণেই এডিপি’র অর্থ হরিলুট করার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে অভিযোগ রয়েছে।রাজারহাট উপজেলায় এডিপির পুরো অর্থ ত্রাণ সামগ্রিতে ব্যয় করা হয়েছে। ত্রাণের প্যাকেটে দেখাযায়, স্টিমেট অনুযায়ী ৫৭টাকার ডিটল সাবানের পরিবর্তে ২২টাকার লাক্স।০১ কেজি সেমাই ৫৮টাকার পরিবর্তে ৩৫ টাকার দেয়া হয়েছে।এছাড়াও নিম্নমানের চাল ও ডাল দেবার অভিযোগ রয়েছে।যা ১৫ জুলাই এর মধ্যে শেষ করার নির্দেশনা রয়েছে।ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউপি সদস্য সহিদুল ইসলাম,জাহাঙ্গীর আলম মঞ্জুসহ অনেকেই জানান,এডিপির অর্থে এসব বরাদ্দ আমরা জানি না।এখানে যে ত্রাণ সামগ্রি দেয়া হয়েছে তা সবোর্চ্চ ৪শ থেকে সাড়ে ৪শ টাকার হবে।এছাড়াও আমরা ওয়ার্ড ভিত্তিক যে তালিকা দেই সে অনুযায়ী ত্রাণ পাইনা। আমাদের ইউ পি চেয়ারম্যান কাছে গেলে তিনি বলেন বরাদ্দ থেকে ইউএনও স্যার তাদের জন্য রেখে দেন।সে অনুযায়ী সকলের চাহিদা পুরণ করা সম্ভব না।ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউপি চেয়ারম্যান শ্রী রবীন্দ্র নাথ কর্মকার বলেন,এডিপি’র ত্রাণ সামগ্রির প্যাকেট কত টাকার সে বিষয় আমার জানা নেই আমি ৫০ জনের ববরাদ্দ পেয়েছি, আরো বলেন, ইউএনও স্যার বিভিন্ন ত্রাণের চাল রেখে দিয়ে ছিলেন পরিষদে।উমরমজিদ ইউপি চেয়ারম্যান বলেন,আমি পরিষদে ৫০ প্যাকেট পেয়েছি ও বিতারন করেছি, প্যাকেটের ভিতরে কি ছিলো তা দেখিনি। সেগুলো কি করেছেন তা আমার জানা নেই।বিদ্যানন্দ ইউপি সদস্য,হাসেন জানান,এডিপির অর্থ সম্পর্কে প্রথম জানলাম!চেয়ারম্যান ও সচিব কেউ এখন পর্যন্ত বলেনি।অপরদিকে রাজারহাট সদর ইউপি সদস্য, শমসের আলী বলেন,এডিপির ফান্ড নিয়ে পরিষদে আলোচনা হয়নি।এবিষয়ে রাজারহাট সদর ইউপি চেয়ারম্যান ও ক্রয় কমিটির সভাপতি মো:এনামুল হক কে একাধিকবার মুটোফোনে০১৭১২৫১০৫৭৮ কল করে রিসিভ হয় নি ।রাজারহাট উপজেলা প্রকৌশলী আবু তাহের মো: সফি উল্লাহ বলেন,উপজেলা পরিষদের মোতাবেক খাদ্যশস্য ক্রয়ের সিদ্ধান্ত হয়।সেই অনুপাতে আমরা স্টিমেট করে দেই।রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা যোবায়ের হোসেন মহোদয় সহকর্মী এনামুল হককে বলেন,প্রকৌশলী সাহেব স্টিমেট তৈরি প্রত্যয়ন করেছে সেই স্টিমেট অনুসারে উপজেলা পরিষদে আলোচনা সাপেক্ষে প্রকল্প কমিটি পণ্য ক্রয় করেছে।এ বিষয়ে রাজারহাট উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জাহিদ ইকবাল সোহরাওয়ার্দী বলেন,বিভিন্ন মহল থেকে অভিযোগ উঠেছ,বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস প্রদান করেছেন