বজ্রপাতে বেড়েছে মৃত্যুর সংখ্যা, ঘূর্ণি ঝড় ও বন্যা মোকাবেলায় প্রস্তুতি থাকলে ও নেই বজ্র রোধে। 

প্রকাশিত: ১১:৫৪ পূর্বাহ্ণ, জুন ৬, ২০২০, 960 জন দেখেছেন

নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি- 

উত্তরের জনপদ নওগাঁ জেলায় বেড়েছ প্রাকৃতিক দূর্যোগে সৃষ্ট  বজ্রপাতে মৃত্যুর ঘটনা।কিন্তু বজ রোধে দৃশমান নেই কোন কার্যক্রম।প্রাকৃতিক দুর্যোগ  ঘূর্ণি ঝড় ও বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রস্তুতি থাকলে ও নেই বজ্রপাত রোধে। সতর্কতা বাড়ানো জরুরি  বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

বজ্রপাতের ফলে প্রাণ হারাচ্ছে মূলত কর্মক্ষম পুরুষেরা।এর ফলে নিঃস্ব হয়ে পড়ছে  পরিবার গুলো।

বেসরকারি হিসেবে গত বছর (মে- জুন) মাসে এই জেলায় প্রায় ৬ জন প্রাণ হারিয়েছেন বজ্রপাতে।

গত বছর দেশ জুড়ে বহু মানুষের প্রাণহানির পর প্রথম বজ্রপাতকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে চিহ্নিত করে সরকার।

এরপর বজ্রপাত রোধে নেয়া হয় বিশেষ পরিকল্পনা এবং শুরু হয় সতর্কীকরণ কর্মসূচি।কিন্তু তারপরও থেমে নেই এমন মৃত্যু।

জেলায়  এ বছর সর্বশেষ বজ্রপাতে মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।চলতি মাসের গত বৃহস্পতিবার (৪জুন)জেলার রাণীনগর উপজেলায় লোহাচুড়া গ্রামের ময়েজ উদ্দিনের ছেলে মিজানুর রহমান মিঠু(৪৫)  এঘটনায় আরো একজন আহত হয়েছেন বলে জানাগেছে। এছাড়া  মঙ্গলবার (২জুন)আত্রাই উপজেলায় পার-পাঁচুপুড় গ্রামের মৃত আব্দুর গনির ছেলে।আব্দুর রাজ্জাক (৪২) নামের এক জন করে বজ্রপাতের কবলে পড়ে মৃত্যু বরন করেছে বলে জানাগেছে।

এর আগে গত এপ্রিল মাসে জেলার নিয়ামতপুর  উপজেলায় সদর ইউনিয়নের চৌধুরিপাড়া গ্রামের আমিনুল ইসলামের ছেলে। হাফেজ আঃ ওয়াহেদ শিমুল(৩২) মে মাসে নিয়ামতপুর উপজেলার কুমার পাড়া গ্রামের রুস্তম আলীর ছেলে। রবিউল ইসলাম(২৬) একই গ্রামের জিল্লুর রহমানের ছেলে. নাজমুল হক(১৮) বজ্রপাতের কবলে পড়ে মৃত্যু বরন করেন। সেই সাথে আলাউদ্দিনের ছেলে, মিলন(৩২)ও খালেকের ছেলে শাহিন(১৭) নামে দুইজন আহত হয়েছে বলে জানাগেছে।

বজ্রপাতে মৃত্যুর সংখ্যাটি যেহেতু বাড়ছে। সে দিক থেকে বাড়েনি সতর্কতা মূলক প্রচার প্রচারণা।

বজ্রপাতের ফলে প্রাণ হারাচ্ছেন মূলত কর্মক্ষম পুরুষেরা। এর ফলে পরিবার গুলো নি:স্ব হয়ে পড়ছে। বজ্রপাতের কবলে পড়ে মৃত ব্যাক্তির পরিবারের মাঝে সরকারের পক্ষ থেকে আর্থিক সহোযোগিতা বৃদ্ধি করা এবংআহতদের মাঝে দির্ঘমেয়াদি চিকিৎসার ক্ষেত্রে ও আর্থিক অনুদান প্রদান করা উচিৎ বলে মনে করেন সচেতন মহল।

যেহেতু ঘরের বাইরে বজ্রপাতের সময় মাঠে ঘাটে নদীতে কাজ করার সময় এই মর্মান্তিক মৃত্যুর ঝুঁকি থাকে। তাই  মেঘ দেখলেই সাবধান হতে হবে এবং বৃষ্টি, বজ্রপাত  শুরুর আগে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে হবে। নিজেকে নিরাপদ রাখতে সর্বোচ্চ সতর্ক রাখা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের  সচেতনতা মূলোক প্রচার প্রচারনা  বাড়ানো অত্যান্ত জরুরী বলে মনে করেন সচেতন মহল।

বজ রোধে পরিকল্পনা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে। জেলা দূর্যোগ ব্যাবস্থাপনা কমিটির সভাপতি,নওগাঁ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা প্রশাসক হারুন অর রশিদ বলেন।  প্রাকৃতিক সৃষ্ট  দূর্যোগ বজ্রপাত মোকাবেলায়, তাল গাছের চারা রোপন এবং সতর্কতা মুলোক প্রচারোনা, ছাড়া তেমন কোন কার্যক্রম এখন নেই।

সেই সাথে জেলার প্রতিটি নাগরিক কে আকাশে মেঘ, ঝড়,বৃষ্টি /বজ্রপাত দেখা দিলে নিজেকে নিরাপদ রাখতে সর্বচ্চো সতর্কতা অবলম্বন করার আহ্বান জানান এই জেলা প্রশাসক।