কচুয়ায় বরুচর শ্রমিকলীগ নেতার দোকান পুড়িয়ে দেয়ার অভিযোগঃ১৫ লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি

প্রকাশিত: ৫:৪৮ পূর্বাহ্ণ, মে ৩১, ২০২০, 1097 জন দেখেছেন

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ-  

চাঁদপুরের কচুয়ার বরুচর গ্রামের অধিবাসী ও কচুয়া উত্তর ইউনিয়ন শ্রমিক লীগের সভাপতি লিয়াকত আলী পাঠানের মুদি দোকান আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে।

২৯ মে শুক্রবার রাত ৮ টায় দোকান পুড়িয়ে দেয়ার ঘটনা ঘটে। এতে দোকানে থাকা নগদ টাকা, মালামালসহ প্রায় ১৫ লক্ষ টাকার ক্ষতিসাধন হয়েছে বলে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবার দাবি করছে। এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্থ শ্রমিকলীগ নেতা লিয়াকত পাঠান বাদী হয়ে একই গ্রামের আলী আশ্রাফ, আনোয়ার মিয়াজীসহ ১২জনের নাম উল্লেখ ও ৩০/৪০ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করে শনিবার কচুয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ মে একই এলাকার হাসান গাজী এসে তার দোকানের কর্মচারী জামাল হোসেনকে টেনে হেচড়ে মারধর করে। ২৬মে তার ভাই মাহমুদ পাঠান সন্ধ্যায় দোকান থেকে ঔষুধ নিয়ে বাড়ি ফেরার পথিমধ্যে একই এলাকার পার্শ্ববর্তী মিয়াজী বাড়ীর ৪/৫ জন যুবক দেশীয় অস্ত্র শস্ত্র দিয়ে অতর্কিত হামলা চালিয়ে গুরুতর আহত করে। একইভাবে ২৯ মে বিবাদীরা দলবদ্ধ হয়ে রাত ৮টার সময় প্রকাশ্যে তার দোকানের সাটার ভেঙ্গে ভিতরে প্রবেশ করে নগদ ৪ লক্ষ ৫০হাজার টাকা নিয়ে পেট্রোল ঢেলে দোকান পুড়িয়ে দেয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করেন।এতে দোকান থাকা সিলিন্ডার,ফ্রিজ,টিভি,লোড,বিকেশের নগদ টাকা,মালামালসহ সহ প্রায় ১৫ লক্ষ টাকার ক্ষতিসাধন হয়। এসময় হামলাকারীদের তোপের মুখে কোনো রকমে জীবন রক্ষা করেন বলে দাবি করেন তিনি।

স্থানীয়রা জানান, বরুচর গ্রামের পূর্ব অংশের লোকজন বিভিন্ন সময়ে পাঠান বাড়িসহ পশ্চিম অংশের লোকজনের উপর কারণে অকারণে মারধর,হুমকি দুমকি ও হয়রানি করে। তাদের বাড়ির সীমানা হয়ে নবাবপুর-কচুয়াসহ বিভিন্ন জায়গায় যেতে হয় বলে পূর্ব পাড়ার লোকজন পশ্চিম পাড়ার লোকজনদের নানানভাবে ভয়ভীতি ও হয়রানি করে বলে অভিযোগ করেন।

প্রত্যক্ষদর্শী আবুল খায়ের জানান, শুক্রবার রাতে মিয়াজী বাড়ির মেম্বারের ছেলে আনোয়ার তার সাঙ্গু পাঙ্গুরা মুদি দোকানে লুটপাটের পর আগুন ধরিয়ে দেয়।এতে ১৫ লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়।আমরা তাদের ভয়ে দোকানের আশে পাশে আগুন নেভানোর জন্য যেতে পারিনা।এমনকি তাদের ভয়ে এলাকাবাসী রীতিমত স্বাভাবিক ও স্বাধীন ভাবে চলাফেরা করতে পারেনা।এ জন্য প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু বিচারের জোর দাবী জানান তাদের পরিবার।

অপরদিকে, বরুচর গ্রামের বাসিন্দা ইউপি সদস্য আলী আশ্রাফ মিয়াজীর ছেলে যুবলীগ নেতা আনোয়ার হোসেন মিয়াজী বাদী হয়ে তার দোকান ভাংচুর ও ক্ষতিগ্রস্থের অভিযোগ এনে ৭ জনকে অভিযুক্ত করে কচুয়া থানা একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

আনোয়ার হোসেন গংরা জানান, মাহমুদ পাঠান তার শশুর এলাকার উজানী ও বহিরাগত লোকজন এনে এলাকায় হামলা ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটায়।

উক্ত ঘটনায় শ্রমিকনেতা দোকানদার লিয়াকত আলী ভীতিকর অবস্থার সম্মুখীন হয়ে পড়েছেন।সেই সাথে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।