শাওয়াল মাসের ছয়টি রোজার গুরুত্ব ও ফজিলত

প্রকাশিত: ৭:২৭ অপরাহ্ণ, মে ২৯, ২০২০, 862 জন দেখেছেন

মু. মাহদী হাসান,ইসলামিক কলামিস্ট  

ﻋَﻦْ ﺃَﺑﻲ ﺃَﻳﻮﺏِ ” ، ﺃَﻥَّ ﺭﺳﻮﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﷺ ﻗَﺎﻝَ : ﻣَﻦْ ﺻَﺎﻡَ ﺭَﻣَﻀﺎﻥَ ﺛُﻢَّ ﺃَﺗَﺒَﻌَﻪُ ﺳِﺘًّﺎ ﻣِﻦْ ﺷَﻮَّﺍﻝٍ ﻛﺎﻥَ ﻛﺼِﻴَﺎﻡِ ﺍﻟﺪَّﻫْﺮِ -: ﺭﻭﺍﻩُ ﻣُﺴْﻠِﻢٌ .
হজরত আবু আইয়ুব আনসারি (রা.) হতে বর্ণিত হজরত রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘যে রমজানের রোজা এবং শাওয়ালের ৬টি রোজা রাখল সে যেন সারা বছরই রোজা রাখল (পুরস্কারের দিক থেকে)।’ (মুসলিম )
নেক ইবাদতের প্রতিদান প্রসঙ্গে মহানবী সা: বলেন, মহান আল্লাহ বলেছেন, ‘তোমরা যেকোনো নেক আমলই করবে, আমার কাছে তার ১০ গুণ সাওয়াব প্রস্তুত আছে।’ (হাদিসে কুদসি)। ১০ গুণ সাওয়াব দেয়ার এই ওয়াদা দুনিয়ার কোনো মানুষের নয়, বরং মহান আল্লাহর পক্ষ থেকেই করা হয়েছে। আর এটিকে কোনো বিশেষ নেকির সাথেও সীমাবদ্ধ করা হয়নি;
উপরোক্ত হাদিস প্রসঙ্গে আন নাসাঈ তার ‘সুবুল উস সালাম’ গ্রন্থি লিখেছেন, যদি রমজানের ৩০টি রোজার সঙ্গে শাওয়ালের ছয়টি রোজা যুক্ত হয়, তাহলে মোট রোজা হয় ৩৬টি। শরিয়ত অনুযায়ী প্রতিটি পুণ্যের জন্য ১০ গুণ পুরস্কারের কথা উল্লেখ রয়েছে। তাহলে ৩৬টি রোজা ১০ গুণ পুরস্কারে পরিণত করলে তা ৩৬০টি রোজার সমতুল্য হবে।
কেননা চন্দ্র বছর ৩৬০ দিন, রমজানে ৩০ দিন রোজা রাখাটা ৩০০ দিনের সমপর্যায়ে হয়ে যায়। আর বাকি থাকে ৬০ দিন। শাওয়ালের ৬টি রোজা রাখলে ৬০ দিনের সমপর্যায়ে হয়ে যায়।
অর্থাৎ সারা বছরের রোজার সমতুল্য হবে।
পবিত্র রমজানে মাসব্যাপী যারা সিয়াম সাধনা করেছেন তাদের জন্য এ মাসে শুভ সংবাদ রয়েছে। আর তা হলো শাওয়াল মাসের ৬ রোজা।
একটি বর্ণানায় পাওয়া যায়, প্রিয় নবী (স.) আরো এরশাদ করেন, আল্লাহ তায়ালা শাওয়াল মাসের ৬ দিনে আসমান ও জমিন সৃষ্টি করেছেন। সুতরাং যে ব্যক্তি ওই ৬ দিন রোজা রাখবে আল্লাহ তায়ালা প্রত্যেক সৃষ্টি জীবের সংখ্যা হিসাবে তার আমলনামায় নেকি লিখে দেবেন, সমপরিমাণ বদি দূর করে নেবেন এবং পরকালে তার দরজা বুলন্দ করে দেবেন।
হজরত সুফিয়ান ছাওরি (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি মক্কায় ৩ বছর ছিলাম। মক্কাবাসীর মধ্য থেকে জনৈক ব্যক্তি প্রত্যহ জোহরের সময় মসজিদে হারামে এসে বাইতুল্লাহ তওয়াফ করে, নামাজ পড়ে আমাকে সালাম দিয়ে চলে যায়। ফলে তার ও আমার মাঝে হৃদ্যতা ও সম্প্রীতি সৃষ্টি হলো। হঠাৎ সে অসুস্থ হয়ে পড়লে আমাকে ডাকল এবং বলল, আমি মারা গেলে তুমি আমাকে নিজ হাতে গোসল দেবে, নামাজ পড়বে এবং দাফন দেবে। ওই রাতে তুমি আমাকে কবরে একাকী রেখে চলে আসবে না।

তুমি আমার কবরের কাছে রাত যাপন করবে এবং মুনকার নকিরের সওয়ালের সময় আমাকে সহায়তা করবে। সুতরাং আমি তাকে নিশ্চয়তা দিই।
আমি তার আদেশ মোতাবেক তার কবরের কাছে রাত যাপন করি। আমি তন্দ্রাচ্ছন্ন ছিলাম। হঠাৎ ঘোষকের ঘোষণা শুনলাম, হে সুফিয়ান। তোমার রক্ষণাবেক্ষণ ও তালকিনের প্রয়োজন নেই। আমি বললাম, কিসের জন্য? তিনি বললেন, রমজানের রোজা এবং রমজান-পরবর্তী শাওয়ালের ৬টি রোজার কারণে। আমি ঘুম থেকে জাগ্রত হয়ে কাউকে দেখতে পেলাম না। অজু করে নামাজ পড়ে ঘুমিয়ে ছিলাম। অতঃপর আমি আবার একই স্বপ্ন দেখলাম। সুতরাং আমি উপলব্ধি করলাম যে, এটা আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে, শয়তানের পক্ষ থেকে নয়। সুতরাং আমি চলে গেলাম এবং বলতে লাগলাম, হে আল্লাহ! আপনি আমাকে রমজানের রোজা এবং শাওয়ালের ৬টি রোজা রাখার তৌফিক দান করুন।
শাওয়ালের ৬টি রোজার গুরুত্ব ও ফজিলত উপলব্ধি করে প্রত্যেক মুসলমানের উচিত এ নেক আমলে নিজেকে মশগুল রাখার। মহান আল্লাহ্ সবাইকে সেই তৌফিক দান করুন।

লাল সবুজ ৭১/ সম্পাদক