কুড়িগ্রামের উলিপুরে পারিবারিক কলহের জেরে পিটিয়ে হত্যা

প্রকাশিত: ৫:৫৫ পূর্বাহ্ণ, মে ২৯, ২০২০, 439 জন দেখেছেন

স্টাফ রিপোর্টার, কুড়িগ্রাম:: কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর উপজেলার দূর্গাপুর ইউনিয়নের যতিনের হাটের দক্ষিণ পাশে অর্জুনের ডারা, মুন্সিপাড়া গ্রামে, জমিতে গরুর বাছুর যাওয়াকে কেন্দ্র করে কাছুয়া মাহমুদের ২য় পুত্র সিদ্দিকুর রহমান (৩০) নামে এক যুবকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ৪ জনকে এখন পযর্ন্ত পুলিশ আটক কর‍তে পারেনি । গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে উপজেলার দূর্গাপুর ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়সূত্রে জানা যায়, ৪-৫ দিন আগে অর্জুনডারা গ্রামের কাছুয়া’র(৬৫) গরু একই গ্রামের মৃত আঃ মজিদের ছেলে আইনুল ইসলামের (৩৬) জমিতে ধান খেতে গেলে আইনুল ইসলামের পরিবার ইট দিয়ে গরুকে আঘাত করে এবং অকথ্যভাষায় গালিগালাজ করে। কাছুয়ার বাড়ি ভেঙ্গে দেওয়ার ও হুমকী দেয়।

উপরোক্ত বিষয়ের প্রতিকার চেয়ে কাছুয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে এলাকায় শালিস ডাকা হলে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ আইনুলদের অবগত করে আজ শালিসের তারিখ নির্ধারণ করলে সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টার সময় আইনুল ও তার পরিবার বিচার না মেনে উঠে যায়।

এমতাবস্থায় নিহত সিদ্দিকুরের পরিবার তাদের ঘরের চালে আম পরা নিয়ে গাছ কাটতে বললে দুই পক্ষের বিবাদ শুরু হয়।বিবাদের একপর্যায়ে আইনুল ইসলাম ও তার ভাই আমান উদ্দিন এবং তাদের পরিবারের সদস্যরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে নিহত সিদ্দিকুরের পরিবারের উপর চড়াও হন এবং নিহত সিদ্দিকুর রহমানের মাথায় উপর্যুপরি আঘাত হানতে থাকে। ঘটনাস্থলে নিহত সিদ্দিকুর রহমান ঢলে পড়ে গেলে তারা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

দূর্গাপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, গরু জমির ধান খাওয়া নিয়ে দুই পরিবারের বিবাদ চলছিল, এজন্য এলাকার লোকজন আজ মীমাংসার জন্য বৈঠক ডাকে কিন্তু আইনুলের পরিবার বৈঠক না মেনে উঠে গেলে দুই পক্ষের বিবাদ শুরু হয় এবং একপর্যায়ে ঘটনাস্থলেই সিদ্দিকুর রহমান নামের একজন মারা যায়।

কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের দায়িত্বে থাকা ডাক্তার মেহেরুল ইসলাম বলেন, আজ রাত ৯ টা ৪০ মিনিটের দিকে হাসপাতালের জরুরী বিভাগে তিনজন রোগীকে নিয়ে আসা হয়। তারমধ্য একজন হাসপাতালে আসবার পূর্বের মারা গিয়েছিলেন। তার নাম সিদ্দিকুর রহমান।

অন্য দুইজনের একজনের নাম সাদেকুর রহমান তিনি মাথায় আঘাত পেয়েছেন।অপরজন নাম এনামুল, তার হাত,মাথা ও শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।
দূর্গাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবেদ আলী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

ঘটনায় জড়িত উক্ত গ্রামের ৩জন পুরুষ মোঃ আইনুল ইসলাম (৫০),আমিনুল ইসলাম (৪০), আমানুল রহমান (৩৫)। ঘটনার পর থেকে ৩ জনই পলাতক রয়েছেন।