গত বছরের ঈদঃ-করোনা ঈদ

প্রকাশিত: ৮:২৪ অপরাহ্ণ, মে ২৪, ২০২০, 893 জন দেখেছেন

ইসলামিক ডেস্কঃ-  

“ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে
এলো খুশির ঈদ”..
ঈদ মানে আনন্দ।দীর্ঘ একটি মাস সিয়াম সাধনা করে শাওয়ালের চাঁদ যখন আকাশে উঁকি দেয় তখন রোজাদার তার আসল আনন্দের সংবাদ পেয়ে যায়।ধণী গরিব সবাই একসাথে আনন্দ করে খুশি ভাগাভাগি করে নেয়।সামাজিক রীতিনীতি মেনে সবাই কাধে কাধ মিলিয়ে একসাথে ঈদ গাহে যায়।
প্রথম রমজান শুরু হলেই সবাই ধর্ম চর্চার প্রতি বিশেষ মনোযোগী হয়।কুরআন হাদিস ইসলামী বইসহ বিভিন্ন ধর্মকর্ম পালনে ব্যস্ত থাকে।ছোট বড় সবাই আল্লাহর ভয়ে রোজা পূর্ণ করে।দিনশেষে যখন ইফতারের সময় হয় সবাই মসজিদ পানে ছুটে যায় ইফতারের জন্য।শুধু ইফতার নয়,এটির মাধ্যমে সামাজিক বন্ধনও দৃঢ় হয়।ফজরসহ অন্যান্য নামাজে মসজিদে থাকে ধর্মমপ্রাণ মুসলিমদের উপচে পড়া ভীড়। সবাই এক কাতারে দাড়িয়ে নামাজ পড়ে।

এ সময় ছোট বড় সকলের কুরআন শিক্ষার প্রতি বেশ গুরুত্ব দেয়।চারদিকে শুধু মহান আল্লাহ তায়ালার সুমহান বাণী উচ্চারিত হয়।
রমজান শেষে সবাই সম্মিলিত ভাবে ঈদ গাহে তাকবীর পড়তে পড়তে আনন্দ নিয়ে ছুটে চলে।
নামাজ শেষে সকল প্রকার দোকানেও যে ভীড় তা আর বলার না!কেউ মা বাবা কেউ বা ছোট ভাই বোন বা স্ত্রীর জন্য কয়েক প্রকার খাবার ক্রয় করে।আনন্দ ছড়িয়ে পড়ে চারিদিকে।

এ বছর নোভেল করোনা ভাইরাসের কারণে যেন সব কিছু উল্টে গেছে।ধারাবাহিকতার লেশমাত্রও যেন নাই। মসজিদে মুসল্লী নেই।নেই নামাজে আগে আসার প্রতিযোগিতা।সামাজিক দূরত্ব যেন সব কিছুকেই গ্রাস করে নিয়েছে।একসাথে এক কাতারে কাধে কাধ মিলিয়ে নামাজ পড়ার আনন্দটা যেন একেবারেই না।আর ইফতারের কথা নাই বললাম।যেখানে ধনী গরিব সবাই মসজিদে গিয়ে আনন্দচিত্তে নামাজ পড়ত সেখানে মসজিদ একেবারেই শূণ্য ছিল।কুরআন হাদিস পাঠও ছিল খুবই কম।

অন্যদিকে এ করোনা মহামরী প্রকট আকার ধারণ করায় শস্য তোলার কাজে ব্যস্ত থাকায় রোজা পালন করেনি অনেকেই।আল্লাহর নৈকট্য লাভ করতে তারা ছিল একেবারেই অমনোযোগী। ভ্রাতৃত্বের জায়গাটায় ছিল অনেক ফারাগ।
আর রমজান শেষে ঈদের নামাজ সরকারী নির্দেশনা অনুযায়ী শর্তসাপেক্ষে স্ব স্ব মসজিদে আদায় করতে বলায় ঈদের আনন্দটা একেবারেই বিলীন হয়ে যাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে।কোলাকুলি হ্যান্ডশেক তো করাই যাবে না,যেটা ছিল ভ্রাত্বতৃের বন্ধন দৃঢ় করার অন্যতম উপায়।ঈদগাহ হয়ে পড়েছে জনমানবশূন্য।
কিন্তু দেশ ও জাতির স্বার্থে এ সকল নির্দেশনা আমাদের মানতেই হবে।

ঈদের আনন্দটা এবার ভীড়ে না কাটিয়ে নীড়ে কাটাতে হবে।নিজে সচেতন হতে হবে অন্যদের সচেতন করতে হবে।ঈদ আনন্দ ঘরকেই ঘোরাঘুরির জায়গা বানাতে হবে।
পরিশেষে,সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে করোনা সম্পর্কে সচেতন থেকে এবারের (করোনার)ঈদ পালন করতে হবে।মহান আল্লাহর কাছে ক্ষমা ও দোয়া প্রার্থনা করতে হবে।
আল্লাহ আমাদের রোজা নামাজ ও করোনা নামাত মহামারি থেকে মুক্তি দান করুক।
আমিন।
লেখক:দিদারুল ইসলাম রাসেল
শিক্ষার্থী,
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কুষ্টিয়া