ঝুঁকি নিয়ে শেষ মুহূর্তে ঈদের কেনাকাটায় ছুটছে মানুষ

প্রকাশিত: ১:৫৯ অপরাহ্ণ, মে ২৩, ২০২০, 609 জন দেখেছেন

মোস্তফা রাজারহাট(কুড়িগ্রাম)প্রতিনিধি:

রোজা ২৯টি হলে রাত পোহালেই খুশির ঈদ। আর রোজা ৩০টি হলে একদিন পরই পালিত হবে ঈদ। খুশির ঈদ দুয়ারে কড়া নাড়ায় করোনাভাইরাসের ঝুঁকি নিয়েই শেষ মুহূর্তে ঈদের কেনাকাটা করতে মার্কেটে মার্কেটে ছুটছেন রাজারহাটের বাসিন্দারা।

এখন ক্রেতাদের একটি অংশ মার্কেটে ভিড় করায় করোনা ভাইরাসে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ছে। স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে বারবার সতর্ক করা হলেও মার্কেটে ছুটে যাওয়া মানুষগুলো সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি খুব একটা মানছেন না। কেউ কেউ ছোট শিশুদের নিয়ে ভিড় ঠেলে মার্কেটে ঢুকছেন।
শনিবার দুপুরে রাজারহাটের মার্কেট গুলোতে গিয়ে দেখা যায়, মার্কেটের প্রবেশ কেউ কেউ মাস্ক পড়ে অনেকেই মাস্ক না পড়ে ভিড় ঠেলে মার্কেটে চলে যাচ্ছেন। কেউ কেউ মোটরসাইকেল নিয়ে মাস্ক না পড়ে মার্কেটের চত্বরে ঢুকে পড়ছেন।
এভাবে ঝুঁকি নিয়ে রাজারহাটের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মার্কেটে মানুষ ছুটে আসায় উদ্বেগ প্রকাশ করছেন আশপাশের বাসিন্দারা।
তারা বলছেন, মানুষের মধ্যে কোনো ধরনের সচেতনতা নেই। প্রতিদিন মার্কেট করতে মানুষ হুমড়ি খেয়ে পড়ছে। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ভিড় কম থাকলেও বিকেলের দিকে এক প্রকার ঢল নামে। এতে যারা মার্কেট করতে আসছেন তারা যেমন নিজেদের ঝুঁকির মধ্যে ফেলছেন, তেমনি আশপাশের বাসিন্দাদেরও ঝুঁকিতে ফেলছেন।
ছোট শিশু নিয়ে মার্কেটে আসা রাহেলা বলেন, নতুন পোশাকের জন্য বাবু কান্নাকাটি করছিল। তাই ওকে নিয়ে এসেছি। সকালে ভিড় কম থাকে, তাই সকালে এসেছি। ভিড় বাড়ার আগেই কেনাকাটা শেষ করে ফিরে যাব।করোনা ভাইরাসের ভয় লাগে না? এমন প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, ঈদ তো চলেই এসেছে। কাল না হয় পরশু ঈদ। নতুন পোশাক ছাড়া ঈদের আনন্দ থাকে না। তাই এসেছি। করোনার ভয়ে ঘরে বন্দি হয়ে থাকলে তো জীবন চলবে না। এসব করোনার ভয় আমার লাগে না। যার করোনা হওয়ার তার এমনিই হবে। তাছাড়া কার মৃত্যু কখন হবে তা আল্লাহ্ আগেই লিখে রেখেছেন। মৃত্যুর সময় হলে সিন্দুকে ঢুকে থাকলেও কেউ রক্ষা করতে পারবে না।
রাজারহাটের রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একজন রিকশাচালক বলেন, এই রাজারহাটে প্রতিদিন প্রচুর মানুষ কেনাকাটা করতে আসে। এতে আমাদেরও আয় একটু বেড়েছে। আগে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থেকেও ভাড়া হতো না। এখন আল্লাহর রহমতে বেশ ভালো ভাড়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘দিন দশেক ধরে আমি প্রতিদিন এই মার্কেট কেন্দ্রিক ভাড়া পেয়েছি। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত মানুষের ভিড় তুলনামূলক কম হয়। বিকেলে এলে দেখবেন এখানে মানুষে ঢল।’
মার্কেটের এক পোশাক বিক্রেতা বলেন, মার্কেটে নারীদের পণ্যসামগ্রী বেশি বিক্রি হয়। ফলে এখানে যে ক্রেতারা আসেন তার বেশিরভাগই নারী। অন্য বছরের তুলনায় এবার আমাদের বিক্রি তুলনামূলক কম। ঈদের বিক্রি সাধারণত রোজার শুরু থেকেই শুরু হয়। কিন্তু করোনার কারণে এবার তো প্রথমদিকে আমরা দোকানই খুলতে পারিনি। সরকার অনুমোদন দিলে ১০ তারিখ থেকে মার্কেট খোলা হয়। তবে প্রথমদিকে ক্রেতা তেমন একটা ছিল না। গত কয়েক দিন ধরে কিছু ক্রেতা আসছেন।
রাজারহাটের মার্কেটের পাশের একটি বাসার বাসিন্দা বলেন, প্রতিদিন এই মার্কেটে হাজার হাজার মানুষ শপিং করতে আসছেন। সামাজিক দূরত্ব তো দূরের কথা, কারও মাঝে কোনো ধরনের সচেতনতা নেই। তাদের অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে, এবার ঈদের কেনাকাটা করতে না পারলে আর জীবনেও পারবে না। মানুষ এমন অসচেতন হলে করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলা কঠিন হবে। তিনি বলেন, এই মার্কেটে মানুষ হুমড়ি খেয়ে পড়ছে। কিন্তু পরিস্থিতি দেখার কেউ নেই।নেই কোনো আইনি ব্যবস্থা। মার্কেটে যারা আসছেন তারা তেমন নিজেদের জীবনকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলছেন তেমনি আশপাশের বাসিন্দাদেরও ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিচ্ছেন। বিশ্বে প্রতিদিন এত মানুষের জীবন যাচ্ছে, তারপরও তাদের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টি হচ্ছে না।