রাজারহাটে ধর্ষণ মামলা নিয়ে চলছে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, এলাকাবাসীর দাবি প্রকৃত অপরাধীর শাস্তি হোক

প্রকাশিত: ১০:৫৩ অপরাহ্ণ, মে ২২, ২০২০, 930 জন দেখেছেন

রাশেদ, স্টাফ রিপোর্টার, কুড়িগ্রামঃ-

কুড়িগ্রামের রাজারহাট ইউ পি তে সন্দেহ মুলক ভাবে শেফারুল নামের এক ছেলেকে আটক করে এলাকাবাসী। এলাকাবাসীর ডাকে সারা দিয়ে গ্রাম্য শালিশ বৈঠকে প্রতিনিধিত্ব করতে গিয়ে ষড়যন্ত্রমুলক মিথ্যা মামলায় ফেঁসে গেলেন- ক্লীন ইমেজের রাজারহাট উপজেলা ছাত্রলীগের আহবায়ক কুড়িগ্রাম জেলা পরিষদ সদস্য আব্দুছ ছালাম,ও প্রেসক্লাব রাজারহাটের সাধারণ সম্পাদক মোঃ রফিকুল ইসলাম।

মামলার এজাহার সুত্রে জানা যায়, উলিপুর উপজেলার দলদলিয়া ইউনিয়নের কর্পূরা গ্রামের মোফাজ্জল হোসের পুত্র শেফারুল হক (২৫) এর সাথে ও ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউপির কিসামত গোবধা এলাকার মাদরাসা ছাত্রী ছদ্দনাম( সাথী)খাতুনের সঙ্গে দীর্ঘ দিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। ঘটনার দিন শেফারুলের ডাকে সাড়া দিয়ে সাথী খাতুন বোতলার পাড় গ্রামের তার বড় ভগ্নিপতি শাহাজাহানের বাড়ীতে চলে আসে। সেখান থেকে তার প্রেমিক শেফারুলের সঙ্গে ঘুরতে যায়। প্রেমিক শেফারুল তার প্রেমিকা সাথীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে মটর সাইকেলে করে প্রতিবেশী এক চাচাতো বোনের বাসায় নিয়ে দৈহিক সম্পর্কে শেষে সন্ধ্যার পর তার বড় বোনজামাই শাহজাহানের বাড়ী রেখে যাওয়ার জন্য প্রেমিক শেফারুল বোতলারপাড় বটতলে নামিয়ে দিয়ে ফেরার পথিমধ্যে এলাকাবাসীর সন্দেহ হলে শেফারুলকে আটক করে।

একপর্যায়ে রাজারহাট উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আশিকুল ইসলাম মন্ডল(সাবু’র) বোতলারপাড়স্হ বাড়ীতে গিয়ে এলাকাবাসী শেফারুলকে হস্তান্তর করেন। পরদিন উভয় পক্ষকে নিয়ে সন্ধ্যায় ভাইস চেয়ারম্যানের বাসার সামনে শালিস বৈঠকের আয়োজন করা হয়। উক্ত বৈঠকে উপস্হিত ছিলেন রাজারহাট উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আশিকুল ইসলাম মন্ডল (সাবু) রাজারহাট ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ এনামুল হক কুড়িগ্রাম জেলা পরিষদ এর সদস্য আব্দুস ছালাম ও রফিকুল ইসলাম ।

শালিস থেকে সিদ্ধান্ত আসে ৩ লক্ষ টাকা দেন মহর দিয়ে বিয়ের ঘোষনা ছেলেপক্ষ মানতে রাজি হয় নি । সেই মিটিংয়ে প্রেমিক শেফারুলের কিছু বন্ধু- বান্ধব ও ওই মিটিং এ উপস্হিত ছিলেন। এ সময় উভয় পক্ষে হট্রগোল শুরু হলে ভাইস চেয়ারম্যান আশিকুল ইসলাম মন্ডল সাবু বলেন আমরা ছেলে – মেয়েকে রেখে যাচ্ছি যা ভাল হয় তোমরা কর। এ সুযোগে মেয়েটিকে ধাক্কা দিয়ে প্রেমিক শেফারুলকে নিয়ে তার বন্ধু বান্ধব সটকে পড়ে। প্রেমিকা সাথী বার বার জ্ঞান হারায় বিয়ে না হওয়ার কারনে।

এই ঘটনা ঘটার পর মেয়ের বাবা ও চাচা মামলা করার জন্য রাজারহাট থানা ও উলিপুর থানায় মামলার জন্য যান। ঘটনার দুইদিন পর প্রেমিকা সাথী পিতা বাদী হয়ে প্রথমে শেফারুল ও তার চাচাত দুলাভাই রফিকুল ইসলাম ভাংরীকে আসামী রাজারহাট থানায় অভিযোগ দায়ের করে, ওই রাতেই একপর্যায়ে অভিযোগ পাল্টে আবার রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বশঃত রাজারহাট উপজেলা ছাত্রলীগ এর আহবায়ক ও জেলা পরিষদ সদস্য আব্দুস ছালাম এবং প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলামের নামে প্রেমিক শেফারুলকে সালিস থেকে উঠিয়ে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ দায়ের করে।।
এই বিষয়ে আব্দুস ছালাম এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন আমি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার হিকার হয়েছি।

এরপর অভিযোগের বিষয়ে সত্যতা যাচাইয়ের জন্য সালিসে উপস্হিত রাজারহাট সদর ইউপির ৫ নং ওয়ার্ডের সদস্য মোঃ হযরত আলীর সাথে কথা হলে তিনি বলেন, আব্দুস ছালাম হচ্ছেন ভোটে নির্বাচিত একজন জনপ্রতিনিধি জেলা পরিষদ সদস্য ও উপজেলা ছাত্রলীগের আহবায়ক সে একটা একজন ভদ্র প্রকৃতির মানুষ এবং মোঃ রফিকুল ইসলাম প্রেসক্লাব রাজারহাটের সাধারণ সম্পাদক এবং উপজেলা আওয়ামীলীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক, রফিকের বাড়ির পাশেই প্রেমিক সেফারুল কে আটক করে রাখার কারণে বিষয়টি সুরাহা করার জন্য তারা উভয় পক্ষ নিয়ে শালিশ বৈঠকে ডাকেন। কিন্তু বিষয়টি নিয়ে আলোচনার শেষ পর্যায়ে বিয়ের সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হলে উভয় পক্ষ বাকবিতন্ডায় জড়িয়ে পড়ে। এই সুযোগে অভিযুক্ত প্রেমিক সেফারুল সেখান থেকে কৌশলে পালিয়ে যায়। কিন্তু রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বশত আব্দুস ছালাম ও রফিকুল ইসলামের নামে মিথ্যা মামলায় ফাসানো হয়েছে।

এ বিষয়ে শালিসে উপস্হিত রাজারহাট ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ এনামুল হকের সঙ্গে উক্ত ঘটনার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, অভিযোগ দায়েরের পর মামলার সত্যতা যাচাইয়ের জন্য কুড়িগ্রাম সার্কেল এএসপি উৎপল কুমার মহোদয় রাজারহাট থানায় এসে আমাদের ডেকেছিলেন, আমরা উপস্হিত হয়ে বিস্তারিত ঘটনাবলী এ এসপি স্যারকে অবগত করি।সমস্ত ঘটনার বিষয় অবগত হয়ে এ এসপি স্যার বাদী পক্ষকে সাংবাদিক রফিক ও জেলা পরিষদ সদস্য ছালামের নাম এজাহার থেকে বাদ দিয়ে নতুন করে অভিযোগ দিতে বলেন কিন্তু বাদী পক্ষ দালালের ষড়যন্ত্রে পড়ে সাংবাদিক রফিক ও জেলা পরিষদ সদস্য ছালামকে মালমায় আসামী করেন। বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। আমি চাই সঠিক অপরাধীর শাস্তি হোক।

এলাকাবাসী বলেন ঘটনাটির সঠিক তদন্তপূর্বক প্রকৃত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্হা গ্রহন করতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার নিকট জোর দাবি জানাচ্ছি। তাহলে প্রকৃত অপরাধীরা আইনের আওতায় চলে আসবে। প্রকৃত অপরাধী শাস্তি পেলে ওই মেয়েটি সঠিক বিচার পাবে।