প্রশাসনের নির্দেশ অমান্য করে পর্দার আড়ালে প্রচণ্ড ভীড়!

প্রকাশিত: ৭:১৬ অপরাহ্ণ, মে ১৬, ২০২০, 917 জন দেখেছেন

সুজন রাজশাহী প্রতিনিধি:

করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সবখানেই সামাজিক দূরত্ব মেনে চলার কঠোর নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন। রাজশাহীতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দোকানপাট ছাড়া সব মার্কেট বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত রয়েছে। কিন্তু এই সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে জমে উঠেছে নগরীর আরডিএ মার্কেটের কেনাবেচা।

পর্দার আড়ালে ঈদের কাপড় বিক্রি করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন এই মার্কেটের ব্যবসায়ীরা। সেখানে প্রচণ্ড ভিড়। সাধারণ ক্রেতারাও হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন ঈদের জামা-কাপড়সহ বিভিন্ন রকমের জিনিসপত্র কিনতে। মার্কেটটিতে সামাজিক দূরত্বের কিছুই মানা হচ্ছে না। প্রধান ফটকে পর্দা টাঙিয়ে গলিপথের পথগুলো দিয়ে মার্কেটে যাওয়া-আসা হচ্ছে ক্রেতাদের। ভেতরে খোলা সব দোকান।

আরডিএ মার্কেটসহ অন্যান্য মার্কেট খোলা হবে কিনা তা নিয়েই গত কয়েকদিন ধরেই আলোচনা চলছিলো। সামজিক নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে রাজশাহী-২ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হোসন বাদশা এবং সিটি কর্পোরেশন মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন ব্যবসায়ীদের সাথে দফায় দফায় আলোচনায় বসেন। এরপর শুক্রবার সিদ্ধান্ত হয় ঈদের আগে নগরীর কোনো মার্কেট খোলা হবে না।

কিন্তু শনিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় ভিন্ন চিত্র। আরডিএ মার্কেট বন্ধ থাকার বদলে পর্দার আড়ালে জমজমাট কেনাবেচা চলছে। প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে দোকান খুলে বসে আছেন তারা। যখনই প্রশাসনের কেউ মার্কেটের ভেতরে যাচ্ছেন তখনই তারা বন্ধ করে দিচ্ছেন। কিন্তুপ্রশাসনের কর্মকর্তারা চলে গেলে আবারও দোকান খুলে জিনিসপত্র বিক্রি করছেন তারা।

আরডিএ মার্কেটের মূল ফটক পর্দা দিয়ে বন্ধ। মূল ফটক দিয়ে আরডিএ মার্কেটের ভেতরে কেউ প্রবেশ করতে পারবে না। এমনকি মূল ফটকের সামনে দাঁড়ালে আরডিএ মার্কেট বন্ধ বলেই মনে হবে। কিন্তু পেছনের দরজাগুলোর চেহারা উল্টো। মার্কেটের পেছনের সবগুলো গেট খুলে রাখা হয়েছে। আর এই গেটগুলো দিয়েই ক্রেতারা ভেতরে প্রবেশ করছেন। তারা সামাজির দূরত্ব না মেনেই বিভিন্ন রকমের জিনিসপত্র কিনছেন। বিভিন্ন দোকানে গিয়ে তারা নানারকম পণ্য হাত দিয়ে ছুঁয়ে দেখছেন। এমনকি বেশির ভাগই মাস্ক ছাড়া মাকের্টের ভেতরে ঘোরাফেরা করেছেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, মার্কেটের ভেতরে নানাবয়সী মানুষ এসেছেন। এমনকি ছোট বাচ্চাদের সাথে নিয়েও এসেছেন কেউ কেউ। একদিকে যেমন ভিড় করছেন কাপড়ের দোকানগুলোাতে তেমনি ভিড় করছেন বিভিন্ন জুয়েলারির দোকানগুলাতে।

মার্কেটের উষা ফ্যাশন, পিয়ন্ত ফ্যাশন, তালুকাদর গার্মেন্টস, মাসুদ রানা বাসনালয়, আরিক বস্ত্রলায়, সোনা ফ্যাশন, লুক মি, শাহী গয়না হাউস, দিলরুবা এন্টিক প্লেস, অহনা অলংকারসহ সব দোকানেই উপচেপড়া ভিড় দেখা গেছে। কেউ কিনছেন শাড়ি আবার কেউবা গহনা আবার কেউ বা ছোট বাচ্চাদের কাপড় কিনতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন।

সৌদিয়া ইমিটিশন জুয়োলারীর কর্ণধার হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, কাল থেকেই আমরা দোকান খুলতে শুরু করেছি। আজ চারবার ম্যাজিস্ট্রেট এসেছিলেন। এখন পর্যন্ত চারবার দোকান বন্ধ করেছি, আবার খুলেছি। আসলে আমারাও প্রায় ৪ মাস পর দোকান খুললাম। আগে বেচাকেনা হতো, এখন নেই।

শপিং করতে এসেছিলেন দিয়া মাহবুব। তিনি বলেন, মার্কেট বন্ধ থাকার জন্য অনেক দিন কিছুই কিনতে পারিনি। সামনে ঈদ মার্কেট যখন খুলেছে তাই নিজের জন্য আর পরিবারের জন্য কিনতে আসলাম।

আরডিএ মার্কেট খোলার ব্যাপারে জানতে চাইলে নগরীর বোয়ালিয়া মডেল থানার ভরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নিবারন চন্দ্র বর্মন বলেন, দোকান খুলে রাখা কিংবা বন্ধ রাখা এটাতো সরকারি সিদ্ধান্ত। সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দোকান অল্প পরিসরে খুলে রাখার সিদ্ধান্ত আছে। তবে রাজশাহীতে ব্যবসায়ী নেতারা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন খুলবেন না। তারপরেও মার্কেট খুলেছে এটা আমরা জানি। আমরা আমাদের ঊদ্ধর্ধন কর্মকর্তাদের কাছে পর পর দুইবার রিপোর্ট দিয়েছি। এখন উপরমহল থেকে সিদ্ধান্ত আসলে আমরা পরবর্তী পদক্ষেপ নেব।

জেলা প্রশাসক হামিদুল হক বলে, রাজশাহীতে মার্কেট খুলে রাখা যাবে না বলে সিদ্ধান্ত হয়েছিলো। তারপরেও ব্যবসায়ীরা সিদ্ধান্ত মানছেন না। এমনকি সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা হচ্ছে না। এতে রাজশাহীর সকল মানুষই ঝুঁকির মুখে পড়ছেন। বিষয়টি ব্যবসায়ীরা বুঝতে চেষ্টা করছেন না। যারা শপিং করতে যাচ্ছেন তারাও বুঝতে চাইছেন না। আমরা প্রতিদিনই অনেকবার করে ম্যাজিস্ট্রেট পাঠাচ্ছি। মানুষের নিরাপত্তার স্বার্থে আমরা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করব।