রামেক হাসপাতালে নমুনার চাপে হিমশিম খেতে হচ্ছে ল্যাব সংশ্লিষ্টদের, সংক্রমণ ছড়ানোর ঝুঁকি

প্রকাশিত: ১১:৫৪ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ৩০, ২০২০, 705 জন দেখেছেন

রাজশাহী (জেলা) প্রতিনিধি : রাজশাহীর আট জেলার মধ্যে ৬ জেলার নমুনা এখানে পরীক্ষা করা হলেও সেটি করতে গিয়েও হিমশিম খেতে হচ্ছে ল্যাব সংশ্লিষ্টদের। 

গত (১ এপ্রিল) থেকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজের ভাইরোলজি ল্যাবে চালু হয় করোনাভাইরাসের পরীক্ষা। এ ল্যাবে প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৯৪ জনের নমুনা পরীক্ষা করা সম্ভব।

কিন্তু এখন অতিরিক্ত নমুনার চাপে এবং প্রয়োজনীয় হিমশিম খেতে হচ্ছে পরীক্ষা করাতে গিয়ে। ফলে যতগুলো নমুনা পরীক্ষা করা যাবে, তার চেয়ে বেশি নমুনা জমা হচ্ছে।

এমনকি বগুড়ার ল্যাবেও একই অবস্থা সৃষ্টি হচ্ছে। আর সঙ্কট নিরসনে বিকল্প হিসেবে রাজশাহী বিভাগের নমুনাও পাঠানো হচ্ছে ঢাকায়। তবে সেখান থেকেও নমুনা প্রতিবেদন আসতে দেরি হচ্ছে আরও তিন-চার দিন। আর এতে বাড়ছে করোনা সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি।

রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তার দপ্তর সূত্র মতে, ঢাকা থেকে নমুনা পরীক্ষার প্রতিবেদন আসায় গত মঙ্গলবার একদিনেই রাজশাহী বিভাগে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত সংখ্যা বেড়ে দ্বিগুন হয়েছে। এদিনে করোনা সংক্রমণ রোগী নতুন করে নাটোর জেলাতেও দেখা মিলে।

অথচ এই নমুনাগুলো পাঠানো হয়েছিলো গত ২৩ এপ্রিল। ৫ দিন পরে গত ২৮ এপ্রিল প্রতিবেদন আসে রাজশাহীতে।

এদিকে রাজশাহী বিভাগে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা নতুন করে সাতজনসহ মোট সংখ্যা দাঁড়ালো ১০৩ জনে। রাজশাহী ও বগুড়ার ল্যাবে এই সাতজনের করোনা শনাক্ত করা হয়। এর মধ্যে রাজশাহী ল্যাবে তিনজনের এবং বগুড়ায় চার জনের করোনা শনাক্ত করা হয় বলে রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তার দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে।

এর আগে গত মঙ্গলবার পর্যন্ত রাজশাহী বিভাগে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ছিল ৯৬ জন। তার আগের দিন সোমবার ছিলো ৫২ জন। কিন্তু বুধবার শতক পার হয়ে সেই সংখ্যা দাঁড়ালো ১০৩ জনে।

রাজশাহী বিভাগের মধ্যে এখন পর্যন্ত জয়পুরহাটে ৩১ জন, বগুড়ায় ১৯ জন, নওগাঁয় ১৭ জন, রাজশাহীতে ১৩ জন, পাবনায় ১০ জন, নাটোরে ৯ জন, সিরাজগঞ্জে ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে ২ জন করে আক্রান্ত রোগীকে শনাক্ত করা হয়েছে।

রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তার দপ্তর সূত্র মতে, এ বিভাগে করোনাভাইরাসের প্রাদূর্ভাব দেখা দেয় গত ১২ এপ্রিল।

রাজশাহীর পুঠিয়াতে প্রথম করোনা সংক্রমণ দেখা দেওয়ার পর বিভাগের অন্যান্য জেলাতেও একে একে বাড়তে থাকে এ রোগে সংক্রমিত রোগীর সংখ্যা। এখন গোটা বিভাগেই সেটি ছড়িয়ে পড়েছে।

রাজশাহীর একজন স্বাস্থ্য কর্মকর্তা নাম প্রকাশে অনিচ্ছার শর্তে বলেন, রাজশাহী বিভাগের এখন ক্রমেই বাড়ছে আক্রান্তের হার। কিন্তু বিভাগের দুটি ল্যাবে সেই পরিমাণে পরীক্ষা করা যাচ্ছে না। এতে করে আরও ব্যাপক হারে করোনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছি। এই অবস্থায় পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক করতে কিছু নমুনা ঢাকায় পাঠানো হচ্ছে।

কিন্তু সেখান থেকেও প্রতিবেদন আসতে দেরি হচ্ছে। ফলে আক্রান্ত ব্যক্তিকে নিয়ে পরবর্তি করোনীয় ঠিক করা যাচ্ছে না আগে থেকেই। এ কারণেই করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা বেশি থাকছে। সর্বশেষ গতকাল বুধবার রাজশাহী ল্যাবে নমুনা এসেছে ১৪৬ জনের।

বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক গোপেনন্দ্র নাথ আচার্য বলেন, এখন পর্যন্ত বিভাগের করোনা হটস্পট হয়ে উঠেছে জয়পুরহাট। এ জেলাকে বিশেষ নজরদারিতে রেখেছি আমরা। সার্বক্ষণিক সেখানকার সিভিল সার্জনদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। খোঁজ-খবর রাখা হচ্ছে আক্রান্ত রোগীদের। পাশাপাশি বাড়ছে অন্য জেলাগুলোতেও আক্রান্তের সংখ্যা।

অন্যদিকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজের উপাধ্যক্ষ ও ভাইরোলজি বিভাগের প্রধান বুলবুল হাসান বলেন, নমুনা জমা হচ্ছে অতিরিক্ত। বাধ্য হয়ে আমরা ঢাকায় পাঠাচ্ছি। এ পর্যন্ত তিন ধাপে ৫৩০ টি নমুনা পাঠানো হয়েছে। কিন্তু সেখান থেকে প্রতিবেদন আসতে আরো ৪-৫ দিন লেগে যাচ্ছে। এতে করে পজিটিভ রোগী যেগুলো পাওয়া যাচ্ছে, তাদের মাধ্যমে করোনা ছড়ানোর আতঙ্ক থেকেই যাচ্ছে। কারণ এই রোগীগুলোর নমুনা পরীক্ষা হতে দেরি হওয়ায় অনেকেই সে বিষয়ে সচেতন হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে না। ফলে আতঙ্ক বাড়ছে। এ ক্ষেত্রে রাজশাহীতে আরও অন্তত দুটি মেসিন বসানো হলে এই সঙ্কট দ্রুত কাটিয়ে উঠা যাবে।

তিনি আরও বলেন, রাজশাহী ল্যাবে এখন পর্যন্ত প্রায় দুই হাজার ২০০ নমুনা এসেছে। কিন্তু আমরা এতো নমুনা পরীক্ষা করতে পারিনি। কারণ প্রতিদিন ৯৪ টির বেশি নমুনা পরীক্ষা করা যায় না এখানে। তাই অতিরিক্ত নমুনা ঢাকায় পাঠানো হচ্ছে। আর আমরা প্রায় ১৬৮০ টি নমুনা পরীক্ষা করেছি।