কেমন চলছে অবরুদ্ধতায় উত্তরের জনপদ নওগাঁ

প্রকাশিত: ১১:৪২ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ২৬, ২০২০, 556 জন দেখেছেন

লাল সবুজ ৭১ ডেস্ক :: বর্তমান সময়ে ভয় , অনিশ্চয়তা, উৎকন্ঠা এবং অবরুদ্ধতায় একমাস সময় পার করেছেন উত্তরের জনপদ নওগাঁ জেলার প্রায় ২৩ লক্ষাধিক মানুষ।

করোনা ভাইরাসরের কবলে দেশে  মৃত্যু ও  আক্রান্তে সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায়। এই ভাইরাস সংক্রমণ রোধে সরকার ঘোষিত নির্দেশনায় গত (২৪মার্চ) থেকে জেলায় ঔষধ এবং খাদ্য, কৃষি পন্য দোকান ব্যাতিত সব ধরনের শিল্প-কারখানা, দোকান-পাট ও হোটেল-রেস্টুরেন্ট বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

ঘোষণার পরেও মানুষ বিভিন্ন অজুহাতে স্বাস্থ্যবিধির তোয়াক্কা না করে যত্রতত্র  চলাচল করায়। সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখতে। জনগনের মাঝে সচেতনতা তৈরি করতে শুরু হয় সরকারি বেসরকারি সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক সামাজিক সংগঠনের প্রচার প্রচারনা। নওগাঁ জেলা প্রশাসনের সাথে সমন্বয় করে মাঠে কাজ করছে সেনাবাহিনী ও আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী পুলিশ ।

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে।জেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রবেশ পথে। স্থানীয়রা নিজেরা বাঁশ বেধে এলাকার লোকজন ছাড়া বহিরাগতদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করে।ব্যবস্থাকরে সাবান হাত ধোয়ার। এছাড়াও বাঁশের পাশাপাশি ,টিন ও গাছের গুড়ি দিয়ে প্রবেশপথ বন্ধ করে দিয়েছে  বলে ও জানাগেছে।

এ পর্যন্ত জেলায় প্রথম এক নারী করোনায় আক্রান্তের খবর পাওয়া গেছে।

(কোভিড১৯) এর সংক্রমণ প্রতিরোধে জেলা সিভিল সার্জন নওগাঁ এর (১২এপ্রিল) তারিখের সি/ এস/ নওগাঁ ২০/২৬/১১৪৭ নং স্মারক এবং (১৪এপ্রিল)  নওগাঁ জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির বৈঠকের সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে। সংক্রামক রোগ প্রতিরোধ ও নির্মুল আইন ২০১৮ এর ১১ (১)(২)(৩)  ধারা মোতাবেক জনগনের জান মালের নিরাপত্তা বিধান রেখে নওগাঁ জেলা কে অনির্দিষ্টকালের জন্য লকডাউন (অবরুদ্ধ) ঘোষনা করা হয়।

এদিকে জেলা প্রশাসনের পাশাপাশি। আইন শৃংঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা মাঠে কাজ করছে অবিরত।

জরুরী প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বাহিরে বের না হওয়া এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে ঘরে থাকতে বললেও আনেকেই মানছে না কোন কথা।

জেলা শহর সহ সকল উপজেলার বিভিন্ন পয়েন্ট ও সড়কে আইন শৃংঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা চেকপোস্ট বসিয়ে টহল জোরদার করছে।

সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে খাদ্য সামগ্রী ক্রয় নিশ্চিত করতে।উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশে বেশ কয়েকটি  হাট বাজার। অস্থায়ী ভাবে স্থানান্তরিত করা হয়েছে বড় ফাঁকা মাঠে।

এমন পরিস্থিতিতে পুরো জেলা অনির্দিষ্ট কালের জন লকডাউনের ঘোষণা থাকা সত্বেও।

স্বাস্থ্য বিধির তোয়াক্কা না করেই।বিভিন্ন অজুহাতে   প্রতিটি সড়কে চলছে। অটোরিক্সা, ভ্যান,নছিমন,বিভিন্ন স্টিকার লাগানো মটর সাইকেল ও সাধারন মানুষ। প্রতিটি  কাচাবাজার ,ব্যাংক ও অলিগলিতে দেখা গেছে অসচেতন  সাধারন মানুষের ভিড়। লকডাউনের পরেও সর্বোচ্চ করোনা আক্রান্ত শহর  ঢাকা নারায়ণগঞ্জ সহ স্পর্শকাতর শহর থেকে এসে  প্রবেশ করেছে তাদের নিজ বাড়িতে।

বিপাকে পড়েছে জেলার সাধারণ কর্মজীবি মানুষের পাশাপাশি ভাতা ভোগী মানুষেরা। ভাতা প্রাপ্ত হওয়ায় তারা হাতে গোনা কয়েক জন ছাড়া। কারই মিলছে না সরকারি ত্রান সহায়তা।আবার দির্ঘ সময় পার হলেও মিলছে না ভাতা।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারি বেসরকারি ও রাজনৈতিক সহ সমাজসেবী, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন। ত্রাণ বা খাদ্য সহায়তা নিয়ে এগিয়ে এসেছেন সাধ্য অনুযায়ী  অনেকেই।কাজ করার সুযোগ না থাকাই অমানবিক জীবন যাপন করছেন অনেকটাই অসহায়ত্ব নিয়ে।

সামাজিক দূরত্ব মানছে না সাধারন মানুষেরা। তবে আইন শৃংঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাদের সচেতন ও সতর্কতা করছে সাধ্যমতো।   কে শুনছে কার কথা। জেলার কোথাও কোথাও লুকোচুরি খেলা চলছে ব্যবসায়ী মহলে । মুল্য বৃদ্ধি হয়েছে নিত্য প্রয়েজনীয় প্রতিটি দ্রব্যাদির।

সংকট দেখা দিয়েছে কিছু কিছু স্বাস্থ্য সুরক্ষা সরঞ্জামাদির ।

এরি মাঝে জানাগেছে জেলার সীমান্ত এলাকায় দেখা মিলেছে ঝাঁকে ঝাঁকে সাদা ও হলুদ রংঙ মিশ্রিত প্রজাপতি সদৃশ প্রানী ।ফসল বিনষ্ট হতে পাড়ে আশংকায়। হতাশায় পড়েছেন ঐ এলাকার স্থানীয় কৃষকেরা।

জেলায় সড়ক দুর্ঘটনা, খুন, আত্মহত্যা,পানিতে পড়ে ও বজ্রপাতের  কবলে প্রাণহানির ঘটানা ঘটেছে বেশ কয়েকটি।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাথে বন্দুক যুদ্ধে নিহত হয়েছেন একাধিক।

বেশ কিছু উপজেলায়  উদ্ধার করা হয়েছে।  সরকারি নিয়ম না মেনে সংগ্রহ করে মজুদ করা ১০ টাকা কেজি সরকারি  চাল।

প্রাকৃতিক দুর্যোগ শীলা বৃষ্টিতে নষ্ট হয়েছে বেশ কিছু উপজেলার কৃষকের পাকাধান সহ সবজি  ফসল।

এপর্যন্ত জেলায় ৩ শতাধিক   নমুনা সংগ্রহের পর২৪১জনের প্রতিবেদনে করোনা আক্রান্ত সনাক্ত  হয়েছেন  ১ জন। সনাক্ত হওয়ার পর তার বাড়িসহ আশপাশের কয়েকটি বাড়ি লকডাউন করে রাখেন জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।জানা গেছে করোনায় আক্রান্ত ঐ নারী জেলার রাণীনগর উপজেলার স্বাস্থ্য কর্মী বলে জানাগেছে । সামাজিক দুরুত্ব বজায় এবং সরকারি নির্দেশনা থাকায়। বাস্তবতা মেনে ধর্মীয় আচার পালন করছেন নিজ নিজ বাড়িতে।

জেলায় করোনা উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু বরণ করেছেন বেশ কয়েক জন। যদি তাদের নমুনায় রিপোর্ট করোনা নেগেটিভ বলে জানিয়েছেন জেলা সিভিল সার্জন সূত্র।

এদিকে জেলায় সম্প্রতি ,ধান কাটতে এসেছে  বিভিন্ন জেলার অগণিত শ্রমিক ।

শ্রমিক সংকটের সমাধান কিছুটা লাঘব হলে ও।জনমনে আতঙ্ক বেড়েছে ব্যাপক ভাবে।জেলায় প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে অবস্থান করছেন হাজরের অধিক বলে জানাগেছে।