নওগাঁ জেলা কে করোনা মুক্ত রাখতে প্রাণপণ চেষ্টায় পুলিশ : পুলিশ সুপার আব্দুল মান্নান

প্রকাশিত: ১২:০৬ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২২, ২০২০, 694 জন দেখেছেন

জেলা প্রতিনিধি, নওগাঁ:: নওগাঁ জেলা কে করোনা মুক্ত এবং মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত রাখতে নওগাঁ জেলা বাংলাদেশ পুলিশ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রাণপণ চেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার  আবদুল মান্নান মিয়া বিপিএম।    

জেলায়  মানুষের মাঝে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে  সচেতনতা তৈরি করা এবং  মানবিক সহযোগিতা ও সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে। জনসমাগম রোধ করা সহ  জেলায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি। নাগরিকদের সার্বিক  নিরাপত্তায়  প্রাণপন চেষ্টায় দিনরাত দায়িত্ব পালন করে চলেছে জেলায় নিয়জিত প্রায় ১৫ শতাধিক  পুলিশ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ।

(কোভিড19) নামের অণুবীক্ষণ যন্ত্রে দৃশ্যমান কোষহীন অনুজীবের  অপ্রতিরোধ্য বিস্তারে থমকে গেছে জনজীবন। জনবহুল এলাকা পরিনিত হয়ছে জন মানবহীন শুনশান ভুতুড়ে রাজ্যে। স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পুরো দেশ।

নিজের এবং প্রিয়জনের স্বাস্থ্য ঝুঁকি নিয়ে ভাবনা এখন সচেতন প্রতিটি নাগরিকের চোখে মুখে ।

এমন পরিস্থিতি তে মরণঘাতি এই ভাইরাসের থেকে জেলার সকল কে সুরক্ষিত রাখার লক্ষ্যে। জেলায় গত ১৫/৪/২০২০তারিখ সন্ধ্যা ৬ ঘটিকা হইতে পরবর্তী ঘোষনা না দেওয়া পর্যন্ত(অবরুদ্ধ) লকডাউন ঘোষনা করা হয়েছ। এই ঘোষনা বাস্তবায়নে  জনগনের জান মালের নিরাপত্তা এবং প্রাণঘাতি এই ভাইরাসের সংক্রমণ রোধ করতে জেলা পুলিশ আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর পূর্ব প্রস্তুতির থাকার কারনে খুব বেশি দেরি হয়নি জেলার সাথে অন্য জেলা বা জেলার অভ্যান্তরে প্রতিটি থানার  যোগাযোগের সিমান্তে চৌকি তৈরি করতে। সকল নির্দেশনা বাস্তবায়ন সহ  জোরদার করা হয়েছে টহল ব্যাবস্থা।   

এবিষয়ে নওগাঁ জেলা পুলিশ সুপার আবদুল মান্নান মিয়া বিপিএম। বলেন,  নওগাঁ জেলা পুলিশ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।   সর্বক্ষণ অত্যন্ত ধৈর্য এবং বিনয়ের সাথে জেলার প্রতিটি মানুষ কে নিরাপদে রাখতে প্রাণপন দ্বায়িত্ব পালন করছেন।এছাড়া ও জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে শতাধিক উপজাতি পরিবারের মাঝে নগদ অর্থ প্রদান সহ, প্রায় দুই হাজার পরিবারের মাঝে খাদ্য সামগ্রী প্রদান করেছেন।এবং জেলায় দুঃস্থদের পাশাপাশি যে সকল মাদক সেবীরা আত্মসমর্পণ করে ছিলেন সেই  পরিবারের গুলোর মাঝে ও জরুরি ভিত্তিতে খাদ্য সহয়তা করার পরিকল্পনার কথা যানান এই কর্মকর্তা।

এসময় জেলার সকল নাগরিকদের উদ্দেশ্য করে বলেন, একজন দ্বায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে। করোনা ভাইরাস সংক্রমন রোধে সামাজিক দুরুত্ব বজায় রাখুন। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সকল আইন সহ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন।

যে কোন সমস্যায় আপনাদের নিকটস্থ থানা অথবা টহল রত পুলিশ সদস্যদের অবগত করুন। আপানারা এই ভাইরাস থেকে সুরক্ষিত থাকলে. আমাদের এ প্রানন্ত চেষ্টা  স্বার্থকতা ।

অণুবীক্ষণ যন্ত্রে দৃশ্যমান কোষহীন অনুজীবের  ছোবলে এ পর্যন্ত দেশে প্রাণহানির সংখ্যা ছাড়িয়েছে ১২০।

গত ৮ মার্চ প্রথমবারের মতো দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত করা হয়। প্রথম মৃত্যুর ঘটনা ঘটে ২১ মার্চে। তারপর আজ ২২ এপ্রিল পর্যন্ত মোট আক্রান্তের সংখ্যা পৌঁছেছে ৩ হাজার ৭৭২ জনে। মোট মৃত্যু ১২০ জনের। এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ আক্রান্তের ঘটনা ঘটেছে ২০ এপ্রিলে, ৪৯২ জন। সর্বোচ্চ মৃত্যুর ঘটনা ১৭ এপ্রিলে, ১৫ জন।

দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের বিপরীতে সুস্থ হওয়ার হার খুবই কম। এখন পর্যন্ত ৩৭৭২ জনের বিপরীতে সুস্থ হয়েছেন মাত্র ৯২ জন।

যারা হারাচ্ছেন তাদের প্রিয় মানুষটি কে । তারা শেষ বারের মতো দেখতে পাচ্ছেনা প্রিয় মানুষটির মুখ। তাদের শেষ বিদায়  দেবার সুযোগটা ও পাচ্ছেনা এমন ভয়াবহ পরিস্থিতিতে ।

এমন শোকাবহ নির্মম করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতি মোকাবেলায় দেশে বিভিন্ন দায়িত্বে যুক্ত করা হয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ সদস্যদের।

এমন কি প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত মৃত ব্যাক্তির সৎকারে দ্বায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে দেশের বিভিন্ন স্থানে।