প্রথমবার করোনা সংস্পর্শে ভোলা;৬ বাড়ি লক ডাউন;পৃথক ভাবে হাসপাতালে উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু:১

প্রকাশিত: ৩:৫৬ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ২২, ২০২০, 663 জন দেখেছেন

মো. সাইফুল ইসলাম ভোলা জেলা প্রতিনিধি:

অবশেষে ভোলায় বেড়িয়ে গেল ২ করোনা রোগী। এতে তাদের বেড়ানো ৬ বাড়ি লকডাউন করা হলেও আতঙ্কিত ভোলাবাসি।

প্রশাসনিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোলা থেকে পটুয়াখালী যাওয়া এক নারী ও তার স্বামী করোনায় আক্রান্ত প্রমাণ হওয়ায় ভোলা সদর উপজেলার পশ্চিম ইলিশা ইউনিয়নের মালের হাট বাজার সংলগ্ন পশ্চিম ইলিশা ইউনিয়নের সহ-সভাপতি আবু সাইয়েদ তালুকদারের বাড়িসহ ৩ বাড়ি ও আবু সাইয়েদ তালুকদারের জামাই বাড়ি বাপ্তা হওয়ায় সেই জায়গায় তার জামাই বাড়িসহ আরও ৩ বাড়িসহ মোট ৬ বাড়ি লকডাউন ঘোষণা করেছেন প্রশাসন। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) রাত সাড়ে নয়টার দিকে প্রশাসন এ লকডাউন ঘোষণা করেন।

ভোলা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মিজানুর রহমান এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পটুয়াখালীতে কর্মরত থাকা হেল্থ ইন্সপেক্টর মো. শাহাবুদ্দিন ও তার স্ত্রী করোনা ভাইরাস (কোভিট-১৯) দ্বারা সংক্রমিত হয়েছেন। বর্তমানে তারা স্বামী স্ত্রী পটুয়াখালীতেই রয়েছেন। গত ১৩ এপ্রিল শাহাবুদ্দিন পটুয়াখালী থেকে ভোলায় এসে আবার পটুয়াখালীতে চলে গেছেন। অবশেষে আজ ২১ এপ্রিল তারা দুজন করোনায় আক্রান্ত হয়েছে বিদায় সদর উপজেলার বাপ্তা ইউনিয়নে শাহাবুদ্দিনের বাড়িসহ আরও ৩ বাড়ি ও একই উপজেলার পশ্চিম ইলিশা ইউনিয়নের দক্ষিণ চরপাতা গ্রামে মালের হাট বাজার সংলগ্ন ইউনিয়ন আ.লীগের সহসভাপতি (শাহাবুদ্দিনের শশুড়বাড়ি) আবু সাইদ তালুকদারের বাড়িসহ মোট ৬ বাড়ি ১৫ দিনের জন্য লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। জনগণের সচেতনতার জন্য এ লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে বলে জানান তিনি ইউএনও।

এদিকে ভোলা সদর হাসপাতালে শ্বাসকষ্ট নিয়ে মঙ্গলবার রাতে আব্দুর রব নামের এক যুবক মারা গেছে। আলীনগর ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডে ওই যুবকের বাড়ি তার পরিবার সুত্রে জানা যায়। ওই যুবক কৃষি কাজ করতো তবে তিনি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন কিনা তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ভোলা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাক্তার সিরাজ উদ্দিন জানান, ভোলা আলীনগর ইউনিয়নের (২০) বছরের এক যুবক মঙ্গলবার রাতে শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে আসেন সার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি হয়।তার শ্বাস কষ্ট থাকায় করোনা ভাইরাসের পরিক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করে বরিশাল পাঠানো হয়।কনসাল্টেন্ট দেখে তাকে রিলিজ করেন। ইতিপূর্বেও পেট ব্যাথা ও বমির উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়।এদিকে বিকেলে ওই রোগীর বাড়িতে তার শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে ডাক্তার মিজানুর রহমান কে দেখান তিনি ঐ রোগীর এক্সরে করে তার সন্দেহ হয় হার্ট-অ্যাটাকে সমস্যা। তখন মিজান ডাক্তার তাকে হাসপাতালে পাঠায় সেখানে ইসিজি করা হয় তাতে হার্ট অ্যাটাকের কিছু সমস্যা পাওয়া যায়। দ্রুত তাকে ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়।

ওই রোগীর সাথে থাকা দুই অভিভাবক জানান অসুস্থ যুবকের সাথে নারায়ণগঞ্জ ও বিদেশ থেকে আসা কোন লোকের সংস্পর্শে ছিল না হঠাৎ শ্বাসকষ্ট বেড়ে গেলে অসুস্থ হয়ে তিনি মারা যান। এদিকে ডাক্তার জানান ওই যুবকের নমুনা যদি পজিটিভ আসে তাহলে তার সংস্পর্শে আসা সকল এর নমুনা পরীক্ষা করা হবে।