পরীক্ষামূলক ঔষধে দ্রুত সুস্হ হচ্ছেন করোনা রোগীরা

প্রকাশিত: ১:৪৫ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১৭, ২০২০, 999 জন দেখেছেন

লাল সবুজ ৭১ ডেস্ক:: কোভিড-১৯ আক্রা’ন্ত যে সব রোগী ক্লিনিক্যাল ট্রায়েলের জন্য ‘রেমডেসিভির’ নামক একটি ওষুধ দেওয়া হয়েছিল, তারা দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠছেন বলে জানা গেছে। এদের অনেকেই বৃহস্পতিবার ঘরে ফিরেছেন বলেও জানিয়েছে স্টেট নিউজ। পরীক্ষামূলক ওষুধ প্রয়োগের নেতৃত্বদানকারী এক চিকিৎসকের বরাত দিয়ে স্টেট নিউজ জানিয়েছে, করোনায় আক্রা’ন্তদের মধ্যে খুব জড়াল শ্বা’সপ্রশ্বা’স সমস্যা ও জ্ব’র নিয়ে যে সব রোগী ক্লিনিক্যাল ট্রায়েলে অংশ নিয়েছে তারা এক সপ্তাহের মধ্যে সুস্থ হয়ে উঠেছেন। তারা এক সপ্তাহের কম সময় হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পর সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরেছেন।

এক ভি’ডিওর মাধ্যমে এসব তথ্য জানিয়েছে স্টেট নিউজ। ওই ভি’ডিওর মাধ্যমে জানানো হয়, ড. ক্যাথলীন মুল্ল্যানি নামের চিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সংক্রা’মক রোগ বিশেষজ্ঞ ওই ক্লিনিক্যাল ট্রায়েলে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। ড. ক্যাথলীন মুল্ল্যানি বলেছেন, সবচেয়ে ভালো খবর আমাদের বেশির ভাগ রোগী সুস্থ হওয়ায় হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। যেটা মহৎ। তবে আমাদের কেবল দুইজন রোগীকে হারিয়েছি। এ বিষয়ে এখনই সিএনএনকে কোন মন্তব্য দিতে চাননি ড.ক্যাথলীন। তবে বিশ্ববিদ্যালয় বলেছে, বিচারের জন্য আনুষ্ঠানিক ফলাফল প্রস্তুত হওয়ার পর মন্তব্য করবে তারা। ভয়ং’কর নিউমো’নিয়া ও শ্বা’সপ্রশ্বাসের সমস্যার জন্য কোন থ্যারাপির অনুমোদন দেওয়া হয়নি।

তবে প্রাতিষ্ঠানিক ভারে পরীক্ষা চালানোর জন্য কয়েটি ওষুধ অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল যার মধ্যে ‘রেমডেসিভির’। গিলিয়েড সায়েন্সেসের তৈরি ওষুধটি খুব কম সাফল্যের সাথে ইবোলার বিরু’দ্ধে পরীক্ষা করা হয়েছিল। তবে প্রাণীদের উপর একাধিকবার গবেষণা করে দেখা গেছে যে ওষুধটি কোভিড-১৯ এর মতো করোনা ভাই’রাসের চিকিৎসায়ও কাজ করে। এর মধ্যে সার্স (সিভিয়ার এ্যকুট রেসপাইরেটোরী সিনড্রোম) ও মার্স (মিডিল ইস্ট রেসপাইরেটোরী সিনড্রোম) রয়েছে। গত ফেব্রুয়ারিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলেছিল, ‘রেমডেসিভির’ ওষুধটি কোমিড -১৯ ভাই’রাস চিকিৎসায় বেশ সম্ভাবনা জাগিয়েছে।

স্টেট নিউজ জানিয়েছে, ড. ক্যাথলীন তার পরীক্ষা নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করার জন্য গত সপ্তাহে একটি ভি’ডিও নিয়েছিল। সেখানে তিনি বলেছেন, আমাদের বেশিরভাগ রোগী গুরুতর এবং তাদের বেশিরভাগ ছয় দিনের মধ্যে চলে যাচ্ছেন। বিশ্ব জুড়ে ২৪০০ গুরুতর আ’ক্রান্ত রোগীকে ১৫২ টি সাইটে পরীক্ষা করা হচ্ছে। আর মধ্যম বা পরিমিত লক্ষণের ১৬০০ রোগীকে ১৬৯টি হাসপাতালে পরীক্ষা করা হচ্ছে। গিলিয়েড বলছে, এ মাসের শেষের দিকেই সম্ভাব্য ফলাফল পাওয়া যাবে।

কম্পানিটির পক্ষ থেকে সিএনএনকে বলা হয়, আমরা বুঝতে পারছি করোনার চিকিৎসা অতি জরুরি হয়ে উঠেছে। এবং আমাদের ভাই’রাস রোধী ওষুধ রেমডিসিভিরের ফলাফলের উপরও আগ্রহ ব্যাপক। গিলিয়েড বলেছে, গবেষণাটির সমাপনীর জন্য এবং একটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে আসার জন্য পরীক্ষামূলক প্রয়োগের সকল তথ্য বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন। কৌতূহলী প্রতিবেদনগুলি উত্সাহ দেওয়ার সময় কাজে আসে। তবে কোভিড -১৯ ভাই’রাসের চিকিৎসার জন্য রেমডেসিভিয়ারের সুরক্ষা এবং কার্যকারিতার প্রোফাইল তৈরিতে যথেষ্ট নয়।

সূত্র: ইত্তেফাক