চান্দিনায় প্রথম পজিটিভ করোনা রোগী শনাক্ত;৭টি বাড়ী লকডাউন

প্রকাশিত: ৩:৫৭ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১৪, ২০২০, 920 জন দেখেছেন

আলিফ মাহমুদ কায়সার কুমিল্লা প্রতিনিধিঃ-

কুমিল্লার চান্দিনায় এই প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয়। শনাক্ত একজন মেয়ে অবিবাহিত (১৯) উপজেলা সদরের মধ্য বাজারে অবস্থিত দত্ত ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ল্যাব টেকনেশিয়ান। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) তার করোনা পরীক্ষার রিপোর্টে পজেটিভ ফলাফল আসে। তবে করোনা আক্রান্ত ওই রোগীর কোন উপসর্গ দেখা দেয় নি।

চান্দিনা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আহসানুল হক ওই তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি আরও জানান, রোগীর অবস্থা স্থিতিশীল। তাকে চিকিৎসা পদ্ধতি ও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এর আগে রোববার (১২ এপ্রিল) তার নমুনা সংগ্রহ করে আইইডিসিআর-এ পাঠায় কুমিল্লা জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়। আক্রান্ত মেয়েটি অবিবাহিত। তার বাড়ি চান্দিনা উপজেলার এতবারপুর উত্তর পাড়া গ্রামে।

ওই রোগী শনাক্ত হওয়ার পর আক্রান্তের এতবারপুরস্থিত তার গ্রামের বাড়িতে ৬টি পরিবারকে লকডাউন করে চান্দিনা উপজেলা প্রশাসন। এছাড়া তাকে বহনকারী পার্শ্ববর্তী মধুসাইর গ্রামের একজন রিক্সা চালকের ১টি পরিবারও লকডাউন করা হয়।

এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার স্নেহাশীষ দাশ, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ও চান্দিনা থানার অফিসার ইন-চার্জ মো. আবুল ফয়সল।

রোগী শনাক্ত হওয়ার পর দত্ত মেডিকেল হল নামের একটি ফার্মেসীও লকডাউন করা হয়। এর আগে ১১ এপ্রিল শনিবার মেয়েটির কর্মস্থল দত্ত ডায়াগনস্টিক সেন্টার লকডাউন করে প্রশাসন। রবিবার মেয়েটিসহ ওই ডায়াগনস্টিকের ৪জন কর্মীর নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানাযায়, পাশ্ববর্তী দেবীদ্বার উপজেলার নবিয়াবাদ গ্রামের করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী জীবন কৃষ্ণ সাহা মৃত্যুর আগে গত ৪ এপ্রিল চান্দিনার দত্ত ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে কয়েকটি পরীক্ষা করিয়েছিলেন। এসময় ওই মেয়েটি পরীক্ষার জন্য রোগীর রক্ত সংগ্রহ করেছিল।

চান্দিনায় করোনা রোগী শনাক্ত হওয়ার পর স্থানীয়রা উদ্বিগ্ন রয়েছে। চান্দিনা জুড়ে এখন আতঙ্ক বিরাজ করেছে।কারন আক্রান্ত মেয়েটি বাড়ি থেকে চান্দিনা আসা-যাওয়া করেছে। তার ব্যবহৃত যানবাহন ও সাথের যাত্রীদের মধ্যেও করোনা ছড়িয়ে পরার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। এই বিষয়ে কন্ট্রাক্ট ট্রেসিং নিয়ে ব্যতি ব্যস্ত হয়ে পড়েছে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।

চান্দিনা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) স্নেহাশীষ দাশ জানান- আক্রান্ত রোগীর বাড়িসহ ৭টি পরিবারকে লকডাউন করা হয়েছে। এছাড়া দত্ত ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও দত্ত মেডিকেল হল নামের দুটি প্রতিষ্ঠানও লকডাউন করা হয়। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান গ্রাম পুলিশের মাধ্যমে লকডাউন করা পরিবারগুলোকে প্রয়োজন অনুযায়ী খাদ্য সামগ্রী সরবরাহ করবেন।