ভোটের সময় আইসে হামার মঙ্গার সময় নাই, এমন এমপি দরকার নাই

প্রকাশিত: ৫:২২ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১৩, ২০২০, 632 জন দেখেছেন

লাল সবুজ ৭১ ডেস্ক : কুড়িগ্রামের রাজারহাটে করোনার ভয়ে ঘরবন্দি মানুষের মাঝে বিরাজ করছে নানা শঙ্কা-উতকন্ঠা। কাজ না থাকায় অতিদরিদ্ররা পড়েছেন বিপাকে। নিম্ন মধ্যবিত্তদের চোখে ঘুম নেই। কখন যেন ফুরিয়ে যায় সামান্য সঞ্চয় টুকু! এ সীমাহীন বিপদেও তাদের পাশে নেই ২৬ কুড়িগ্রাম -২ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব পনির উদ্দিন আহমেদ।

করোনা পরিস্থিতিতে জনগণের পাশে থাকার কথা থাকলেও এমপি আলহাজ্ব পনির উদ্দিন আহমেদকে রাজারহাট উপজেলায় একবারেই দেখা মেলেনি। এমনকি এই উপজেলায় তাঁর ব্যক্তিগত উদ্যোগে কোনো ত্রাণ সহায়তা দেয়ার খবর পাওয়া যায়নি। যার কারণে রাজারহাট উপজেলার দিনমজুরী, রিক্সাচালক, ভ্যানচালক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, ভিক্ষুক ও নিম্ন আয়ের মানুষজন হতাশায় ভুগছেন। জীবনে কখনো অন্যের নিকট হাত পাতেন নি এমন স্বল্পআয়ের লোকজন সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়েছেন। এ ভয়াবহ পরিস্থতিতে এমপি সাহেবের রহস্যজনক নীরবতায় অনেকেই সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করছেন।
করোনা পরিস্থিতিতে স্থানীয় এমপির এমন নীরবতা দেখে রাজারহাটে অনেকেই তাঁদের ফেসবুকে মন্তব্য করেছেন ‘এই দুঃসময়ে কেন আমাদের এমপিকে দেখতে পাই না! তিনি কি নিখোঁজ রয়েছেন। নির্বাচনের আগে উন্নয়ন ও মানুষের পাশে থাকার অনেক ফুলঝুরি ছড়িয়ে ভোট কামনা করেছিলেন তিনি। অথচ আজ এমন পরিস্থিতিতে তাঁর কোনো ভূমিকা নেই।

উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি আলহাজ্ব আব্দুস ছালাম চাষী বলেন, মানুষের দুর্দিনে এমপি পনির উদ্দিন আহমেদ কোথায়? এলাকার সর্বস্তরের মানুষ কোভিড-১৯ এর সংক্রমণ আতঙ্কে গৃহবন্দি রয়েছে। আতঙ্কে, অনাহারে -অর্ধাহারে কোনমতে বেঁচে থাকতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

বেঁচে থাকার মতো খাবারের সন্ধানে নিম্ন আয়ের মানুষগুলো যখন দিশেহারা তখন এমপির নীরবতা এলাকার মানুষদেরকে ভাবাচ্ছে এবং প্রশ্নবিদ্ধ করছে। কোনো কাজেই তাঁকে দেখা যাচ্ছে না। ফলে দেশের এই কঠিন দুর্যোগময় মুহূর্তে ঘরে বন্দি বেকার, দুঃস্থ, কর্মহীন, রিকশাচালক, পরিবহন শ্রমিক, দিনমজুর ও অসহায় মানুষরা দিন দিন হিসেব কষছেন যে কাকে তাঁরা ভোট দিয়ে এমপি নির্বাচিত করেছেন। প্রশ্ন রাখছেন করোনায় কোথায় আমাদের এমপি?

এছাড়া গতকাল উপজেলা অফিসার্স ক্লাবে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে উপজেলা পরিষদের আয়োজনে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভা বক্তরা বলেন, এই দুঃসময়ে কেন আমরা আমাদের এমপি সাহেবকে দেখতে পাই না! খড়ায় নাই মঙ্গায় নাই এমন এমপির দরকার নাই।

কর্মহীন মানুষদের সরকারি ত্রাণ সহায়তা হিসেবে চালসহ অন্যান্য ত্রাণসামগ্রী মানুষের বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দিতে বলা হলেও সেখানেও উপস্থিতি নেই এমপির।

এক্ষেত্রে রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাঃ যোবায়ের হোসেন একাই এসব বিষয় দেখভাল করছেন। প্রতিদিন রাত কিংবা দিনে উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে কর্মহীনদের বাড়ি বাড়ি ছুঁটে চলেছেন, তাদের ভাল-মন্দ খোঁজ খবর নিচ্ছেন, করোনা প্রতিরোধে মানুষজনকে সচেতন করে যাচ্ছেন এবং প্রয়োজনীয় ত্রাণ সহায়তা দিচ্ছেন। এছাড়া তিনি করোনার সংক্রমণ রোধে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে এবং প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে কাউকে বের না হতে মাঠে তৎপর থেকে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন।

এ ব্যাপারে ২৬ কুড়িগ্রাম – ২ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব পনির উদ্দিন আহমেদ এর মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন, আমি আমার নিজস্ব তহবিল থেকে ২৫ মেঃটন চাউল দিয়েছি। আমার ব্যাক্তিগত তহবিল থেকে গরিব অসহায় মানুষের মাঝে চাল, ডাল, আলু,তেল, সাবান,লবন বিতরন করা হয়েছে।
রাজারহাটে ত্রাণ বিতরণ সর্ম্পকে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি রাজারহাটে গিয়েছিলাম এবং আমার দলীয় নেতা কর্মীদেরকে সঙ্গে নিয়ে উপজেলার ৭ ইউনিয়নে ৭০০ জন গরীব অসহায় মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেছি। যারা মতবিনিময় সভায় বড় বড় কথা বলে তারা গরীব অসহায় মানুষের জন্য কি করছেন? তারা সরকারি ত্রাণ থেকে ত্রাণ দিয়ে নিজেকেই বড় মনে করেন। আমার নির্দেশে ও সহযোগিতায় রাজারহাটে তালিকা করা হচ্ছে সেখান থেকে বেঁচে বেঁচে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হয়েছে।

 তিনি বলেন,যারা বড় বড় কথা বলে তাদেরকে বলছি কে কি করল,কি দিলো সেটা না দেখে আপনারা সমাজের নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন।