করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায়  বিপর্যস্ত প্রান্তিক সবজি চাষী কৃষক  বৃন্দ 

প্রকাশিত: ১:০৮ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১৩, ২০২০, 856 জন দেখেছেন

নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি-

নওগাঁয় করোনা ময় পরিস্থিতি মোকাবেলায় বিপাকে কৃষক। দেশে করোনা প্রাদুর্ভাব মহামারি আকারে দেখা দিতে শুরু করেছে । প্রাদুর্ভাবের গভীরতা অনুযায়ী একেক এলাকা একেক  সময় লকডাউন ঘোষণা করা হচ্ছে। সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কল কারখানা বিভিন্ন বিপনি বিতান সহ বন্ধ আছে জেলার প্রায় ২ শতাধিক হাট বাজার।  সীমিত করা হয়েছে যান চলাচল।  এপ্রিল মাসের এ পর্যায়ে সারাদেশে কার্যত অঘোষিত লকডাউন চলছে।

এমন সময়  সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের পাশাপাশি সবচেয়ে বিপাকে পড়েছে জেলা জুড়ে পচন শীল  সবজি চাষী কৃষক বৃন্দ।

জেলার প্রায় ২.৭৩.৮৩২ হেঃ আবাদি জমির  বেশী অংশ জুড়ে  সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ণ ফসল বরো ধান রয়েছে।আর এই ধান উৎপাদন করতে কৃষকের সবচেয়ে বেশি খরচ করতে হয়। হয়তো আগামী আর দুই সপ্তাহের মধ্যেই তা মাড়াই শুরু করতে হবে। সেই ধান মাড়াই করতে প্রচুর শ্রমিক ও অর্থের প্রয়োজন হয় ।

অন্যদিকে জেলার বেশির ভাগ  কৃষকদের বছরের শেষে এসে ঘরে তেমন খাবার ও মজুদ  থাকেনা কারণ জেলার কৃষকেরা বেশিরভাগ মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত। কাজেই এসময় তাদের ঘরে খাবার মজুদ থাকবেনা এটাই স্বাভাবিক। সেজন্য এসময়  তাদের হাতে প্রয়োজন নগদ টাকা। আর সেই টাকা পাওয়ার বেশ কয়েকটি উৎসের মধ্যে অন্যতম উৎস হলো তাদেরই জমিতে উৎপাদিত শাক সবজি।আমরা জানি এখনো শীত কালীন শাক সবজির মৌসুম শেষ হয়নি। রবি কালীন শাক সবজির সময় শেষ হলেও কৃষক কিছু মুল্য বেশি পাবার আশায় কিছু সবজি বিশেষ যত্নে রেখে দেয়। তাই এখনো বাজরে রবি শবজি পাওয়া যাচ্ছে। সেই সাথে খরিপ মৌসুমের বাহারি জাতের শাক শবজি এখন উৎপাদন হচ্ছে।

কিন্তু এই করোনা পরিস্থিতির কারণে হাট বাজার বন্ধ  এবং পাইকার না থাকায় কৃষকরা তাদের জমিতে উৎপাদিত কৃষি পন্য কাঙ্খিত মুল্যে  বিক্রি করতে পারছেন না বলে জানাগেছে।

এমন পরিস্থিতি তে কৃষক দিশেহারা। তারা তাদের উৎপাদিত পচনশীল এই  শাক সবজি না পারছে তাদের কাঙ্খিত মুল্যে বিক্রি করতে। না পারছে নগদ অর্থ দিয়ে তাদের জীবনমান ধরে রেখে বরো ধান উৎপাদন ও মাড়াই সহ অন্যান্য কার্যক্রম চালু রাখতে।   এমন পরিস্থিতে তারা হিমশিম খাচ্ছে এমন ধারণা সচেতন মহলের।

এবিষয়ে জানতে চাইলে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর নওগাঁ..উপ পরিচালক মোঃ সিরাজুল ইসলাম বলেন।

এমন করোনা ময় পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয় ভাবে এ সকল কৃষকের উৎপাদিত পণ্য  বিক্রির ব্যাবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন । এছাড়াও বর্তমানে ত্রাণ সহায়তার জন্য ক্রয় কৃত চাল ডাল লবণ তেল পেঁয়াজের ও সাবানের পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে কৃষকের নিকট হতে তাদের উৎপাদিত শাক সবজি ক্রয় করলে অনেকটাই  উপকৃত হবে প্রান্তিক এই   কৃষকেরা. এমনটি মনে করছেন এই কর্মকর্তা। সেই সাথে স্বাস্থ্য বিধি মেনে গ্রামের মধ্যে অথবা জেলার শহর এলাকায় ফেরি করে সবজি বিক্রির পরামর্শ দিয়েছেন এই কর্মকর্তা ।