তানোরে করোনা মোকাবেলায় সারা পাচ্ছেন না ইউএনও

প্রকাশিত: ৬:৪৪ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ৭, ২০২০, 613 জন দেখেছেন

সুজন রাজশাহী জেলা প্রতিনিধিঃ

মরণঘাতী করোনাভাইরাস সংক্রমণ মোকাবেলায় উদাসীন রাজশাহীর তানোর উপজেলার সরকারি প্রায় ১০টি মতো দফতরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এসব দফতর থেকে ইউএনওর ডাকে সারা দেয়া হয়নি। উপজেলার সাতটি ইউনিয়ন ও ২টি পৌরসভার বাসিন্দারা যেমন সরকারের বিভিন্ন নির্দেশনা অমান্য করে চলেছেন তেমনিভাবে অমান্য করে চলেছেন উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও। যদিও জনপ্রতিনিধিসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদানের লক্ষ্যে কর্মস্থলে সার্বক্ষণিক থাকার নিদের্শনা দিয়ে চিঠি দেয়া হয়েছে।

কিন্তু আজ ৭ এপ্রিল মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টায় এরিপোর্ট লেখা পর্যন্ত খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), থানা কর্মকর্তা ইনর্চাজ (ওসি), উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (টিএইচও), উপজেলা সমাজসেবা অফিসার, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ও তানোর বিএমডিএর সহকারি প্রকৌশলী ইউএনওর ডাকে সাড়া দিয়ে করোনাভাইরাস সংক্রমণরোধে প্রায় তিন সপ্তা ধরে সার্বক্ষনিক সহায়তা করছেন। কিন্তু উপজেলা ক্যাম্পাসের ১০টির মত গুরুত্বপূর্ণ অফিসের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীকে কর্মস্থলে পাওয়া যায়নি।
সরকারি এসব দফতরগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে উপজেলা কৃষি অফিস, উপজেলা এলজিইডি অফিস, উপজেলা মৎস্য অফিস, উপজেলা হিসাব-রক্ষক অফিস, উপজেলা প্রাণীসম্পদ অফিস, উপজেলা সমবায় দফতর, উপজেলা যুব উন্নয়ন দফতর, উপজেলা নির্বাচন অফিস, উপজেলা পল্লী উন্নয়ন সমবায় সমিতি ও উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী দফতরের কর্মকর্তা-কর্মচারীকে কর্মস্থলে পাওয়া যায়নি। তারা ইউএনওর ডাকে সারা দেননি। ফলে জনসংখ্যা ও আয়তনের দিক থেকে তানোরে করোনাভাইরাস সংক্রমণরোধে সরকারের নিদের্শনা বাস্তবায়ন করতে গিয়ে হিমশিমের মধ্যে পড়েছে উপজেলা প্রশাসন।

এসব দফতরের অফিসারদের সহযোগিতা না পেলেও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুশান্ত কুমার মাহাতো তার দপ্তরের জনবল ছাড়াও উল্লিখিত দফতরগুলোর জনবলের সহযোগিতায় করোনা মোকাবেলায় দিন-রাত পরিশ্রম করছেন। আবার করোনার প্রভাবে যে সকল কর্মজীবী মানুষ কর্মহীন হয়ে খাদ্য সমস্যায় আছে সে সকল কর্মহীন মানুষের খোঁজ-খবর নিচ্ছেন বলে জানান ইউএনও অফিসের কর্মচারী মুকুল হোসেন।
করোনা মোকাবেলায় সার্বক্ষণিক কর্মস্থলে অনুপস্থিতির বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, কর্মস্থলে থাকার নিদের্শনা রয়েছে। কিন্তু মরণব্যাধি করোনায় মৃত্যু আশঙ্কায় অফিসে যাওয়া হচ্ছে না। এটা আমার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাও অবগত আছেন বলে দম্ভোক্তি করেন তিনি। তবে, এসংক্রান্ত বিষয়ে অন্যসব দফতরের কর্মকর্তাদের মোবাইলে বেশ কয়েক বার ফোন দেয়া হলেও রিসিভ হয়নি। আবার অনেকের মোবাইল নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়।

এ বিষয়ে ইউএনও সুশান্ত কুমার মাহাতো বলেন, জনপ্রতিনিধিসহ সরকারি কর্মকর্তাদের থাকার আবাসিক ভবন রয়েছে কিন্তু দু’একজন ছাড়া তানোরে কেউ থাকে না। প্রায় সব কোয়াটার ফাঁকা থাকে। ইউএনও আরও বলেন, সরকারের নিদের্শনানুযায়ী করোনা মোকাবেলায় সার্বক্ষণিক কর্মস্থলে থাকার বিষয়ে জনপ্রতিনিধিসহ প্রতিটি দপ্তরের কর্মকর্তাদের চিঠি দেয়া হয়েছে।
কিন্তু তাঁদের অধিকাংশই কর্মস্থলে নেই। তাঁদের সহযোগিতা ও পরামর্শ পেলে করোনাভাইরাস মোকাবেলায় বিভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ নিতে সহজ হতো। স্থানীয় সাংসদ ও জেলা প্রশাসক স্যারের সঙ্গে দ্রুত আলোচনা করে অনুপস্থিতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।