নেত্রকোনায় চাচার ধর্ষণের শিকার কিশোরীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

প্রকাশিত: ১:২৩ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ৪, ২০২০, 770 জন দেখেছেন

স্টাফ রিপোর্টার, নেত্রকোনাঃ নেত্রকোনায় চাচার ধর্ষণের শিকার হয়ে অকালে জীবন দিল ১৫ বছরের কিশোরী শাপলা।

গতকাল নেত্রকোনা সদর উপজেলাধীন মদনপুর ইউনিয়ন এর মনাং গ্রামে আনুমানিক দুপুর আড়াইটার দিকে এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানা যায়। পারিবার ও নিজের মান-সম্মান বাঁচাতে গিয়ে সে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে ।

কিশোরী শাপলা ওই এলাকার কৃষক এরশাদ মিয়ার মেয়ে এবং স্থানীয় একটি স্কুলের দশম শ্রেণীর নিয়মিত ছাত্রী । বসত ঘরের পাশে থাকা বৈঠক ঘর থেকে তার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। নেত্রকোনা মডেল থানার পুলিশ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে,একই গ্রামের পার্শ্ববর্তী বাড়ির রজব আলীর ছেলে জুলহাস (২৮) সম্পর্কে শাপলার চাচা, বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে বেশ কয়েক মাস যাবৎ ধর্ষণ করে আসছিল শাপলাকে।বিষয়টি টের পেয়ে শাপলার বাবা-মা এবং আত্মীয়-স্বজন বাধা হয়ে দাঁড়ায়। এর পর শাপলা সব ধরনের সম্পর্কে অসম্মতি জানায়।কিন্তু এরপর থেকে জুলহাস তাকে নানাভাবে বিরক্ত করে আসছিল। এসব সহ্য করতে না পেরে অবশেষে (৩এপ্রিল) শুক্রবার বাবা ও ভাই মসজিদে নামাজ পড়তে গেলে মা বসত ঘরে নামাজ পড়তে বসেন।

বাড়ি নীরব থাকার সুযোগ নিয়ে গলায় দড়ি পেঁচিয়ে ঝুলে থাকে শাপলা।শাপলার ভাই নামাজ থেকে বাড়িতে এসে মাকে জিজ্ঞেস করলে মা বলে,তর ঘরে দরজা লাগিয়ে শুয়ে আছে হয়তো ডাক দিয়ে দেখ। শাপলা কে ডাকতে গিয়ে সাড়া না পেয়ে, বাহির থেকে অনেক চেষ্টার পর ভিতরে প্রবেশ করে এবং ঘরের চৌকাঠে গলায় দড়ি পেঁচানো অবস্থায় তার বোনকে ঝুলতে দেখে।তাৎক্ষণিকভাবে কান্নাকাটি করে লোক জড়ো হলে, বিষয়টি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি কে জানানো হয়।পরে তিনি এ ব্যাপারে নেত্রকোনা মডেল থানাকে অবগত করেন।

এ বিষয়ে নেত্রকোনা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: তাজুল ইসলাম জানান-মেয়েটিকে একটি ছেলে ডিস্টার্ব করত,এটি আত্মহত্যা। লাশ মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং এ বিষয়ে মামলার কার্যক্রম চলছে।