তানোর সরকারী খাদ্যগুদাম থেকে ১৫০ বস্তা ধান গায়েব: গুদাম সীলগালা

প্রকাশিত: ৫:২০ অপরাহ্ণ, মার্চ ২৬, ২০২০, 859 জন দেখেছেন

রাজশাহী (জেলা) প্রতিনিধিঃ রাজশাহীর তানোরের কাঁমারগা সরকারী খাদ্যগুদাম অনিয়ম ও দূর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়ে উঠেছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, গুদামের কতিপয় কর্মকর্তা-কর্মচারীর ঙোগসাজশে জনৈক জুয়েল-মিন্টু ও সেলিম সিন্ডিকেট করে দীর্ঘদিন ধরে পুরো গুদাম চত্ত্বর নিয়ন্ত্রণ করে আসছে। সিন্ডিকেট চক্রের অপতৎপরতার কারণে সরকারী গুদাম থেকে কোনো সুবিধা পাচ্ছেন না এলাকার কৃষক সমাজ।

অন্যদিকে গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসিএলএসডি) নয়ন কুমার সরকারের বিরুদ্ধে প্রায় ৬০ মেট্রিক টন ধান তছরুপের অভিযোগে গুদাম সিলগালা করা হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগের প্রেক্ষিতে ২৪ মার্চ মঙ্গলবার তানোর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), রাজশাহী জেলা খাদ্যনিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা (ডিসিফুড) ও উপজেলা খাদ্যনিয়ন্ত্রক কর্মকর্তাপ্রমূখগণ (টিসিএফ) কাঁমারগা খাদ্যগুদাম পরিদর্শনে যায় তবে পরিদর্শন টিমের যাবার খবর পেয়ে গুদাম কর্মকর্তা পালিয়ে যায়।

এদিকে পরিদর্শন টিমের সদস্যরা এদিন দিনব্যাপী কাঁমারগা থাদ্যগুদাম পরিদর্শন করে গুদাম কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রায় ১৫০ বস্তা ধান তছরুপের সত্যতা তবে গুদাম কর্মকর্তা পালিয়ে যাওয়ায় তাকে আটক করতে না পারলেও দুটি গুদাম সিলগালা করে কর্মকর্তাকে শোকজ করা হয়েছে বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

সংশ্লিস্ট বিভাগের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, গুদাম কর্মকর্তার একার পক্ষে এমন দূর্নীতি করা সম্ভব নয় এর সঙ্গে অফিস সহকারী, দারোয়ান থেকে শুরু করে কিছু মিলার জড়িত রয়েছে।

এব্যাপারে তানোর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুশান্ত কুমার মাহাতো বলেন, প্রাথমিকভাবে প্রায় ১৫০ বস্তা ধান গায়েবের সত্যতা পাওয়া গেছে। তিনি বলেন, দুটি গুদামই সীলগালা করা হয়েছে কমিটির চুড়ান্ত প্রতিবেদনের পর পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে, তবে গুদাম কর্মকর্তা পলাতক ছিল।

এব্যাপারে উপজেলা খাদ্যনিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা (টিসিএফ) আলাউল কবির বলেন, গুদাম কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রাথমিকভাবে ১৫০ বস্তা ধান আতœসাতের প্রমাণ মিলেছে এবং তাকে শোকহ করা হয়েছে।

এব্যাপারে কামারগা খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসিএলএসডি) নয়ন কুমার সরকার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি জুয়েল-মিন্টুসহ একটি বিশেষ মহলের ষড়যন্ত্রের শিকার তার কাছে ধান রয়েছে, তবে গুদাম সীলগালা করায় তিনি ধান গুদামে ঢোকাতে পারছেন না। তিনি বলেন, তিনি পলাতক নয় অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ছিলেন।