করোনায় দূর্ভিক্ষ, দূর্ভিক্ষে বিশ্বযুদ্ধ- ফাহিমা নিপা

প্রকাশিত: ৪:১৩ অপরাহ্ণ, মার্চ ১৬, ২০২০, 828 জন দেখেছেন

এক সময় কেউ অসুস্থ হলে সুস্থ মানুষেরা তাকে দেখতে যেতো। এটি হতো ভালোবাসা থেকে, মায়ামমতা থেকে, সামাজিকতা থেকে, মানুষের প্রতি সহমর্মিতা থেকে।

সাথে করে নিয়ে যেতো দুধ, রান্না করা ভাত তরকারি, আঙ্গুর আপেলসহ বিভিন্ন মুখরোচক খাবার। সুস্থ মানুষ অসুস্থ মানুষের শিথানে বসে মাথায় হাত বুলিয়ে সান্ত্বনা দিতো। বলতো— চিন্তা করবেন না, ভালো হয়ে যাবেন, শিগগির ভালো হয়ে যাবেন। এতে অসুস্থ মানুষ ক্ষণিকের জন্যে হলেও কিছুটা মানসিক শান্তি পেতো। হায়, এখন আর সেদিন নেই— সুস্থ মানুষ কি আর অসুস্থ আত্মীয়-স্বজন, বন্ধুবান্ধকে দেখতে যাবে আগের মতো!

এদিকে, সম্মুখ সমরে নিয়োজিত সেনাবাহিনীর মতো জীবন হাতে নিয়ে এখন বিশ্বের দেশে দেশে কোটি কোটি চিকিৎসক এবং সেবক-সেবিকা মানুষের সেবা দিয়ে যাচ্ছে। হ্যাঁ, এটা নিশ্চিত যে এদের একটি বড়ো অংশ সরকারি চাপে সেবা দিচিতোষ কিন্তু এরপরেও আরেকটি অংশ যারা আসলেই মানবিক— অসুস্থ মানুষের সেবায় তারা ত্যাগ করেছে জীবনের মায়া। প্রশ্ন হচ্ছে— মহান এ পেশায় আগামীতে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম কতোটা উৎসাহী হবে? অথবা আদৌ হবে কিনা তা এখন বড়ো প্রশ্ন। যদি না হয়, যদি চিকিৎসাসেবায় না-আসার ধারাবাহিকতা শুরু হয়ে যায় এবং তা চলতে থাকে, তবে পৃথিবীর দেশে দেশে অসুস্থ মানুষের চিকিৎসায় কারা এগিয়ে আসবে? কীভাবে নিশ্চিত হবে মানুষের সুস্বাস্থ্য। কারণ, সুস্থতা এবং অসুস্থতার মেলবন্ধনই তো মাবজীবন তথা প্রাণীজীবন।

গোটা বিশ্বে এক অদৃশ্য আতঙ্ক বিরাজ করছে। কোটি কোটি মানুষ এখন রীতিমত ঘরবন্দি। স্বেচ্ছায় গৃহবন্দী মানুষের মধ্যে যে মরণাতঙ্ক ঢুকে গেছে জানি না তা কবে শেষ হবে! বন্দী জীবনযাপন কতোদিন করবে মানুষ, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। দেশে দেশে প্রতিদিন মানুষের মৃত্যু এবং সবখানে সুস্থ ও অসুস্থ মুখোশধারী মানুষের অস্বাভাবিক জীবনযাত্রা দেখে মনে হয় নিজেরই দম বন্ধ হয়ে আসছে।

ছোটো বড়ো সুপার মার্কেটগুলোর সার্বিক অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে দুর্ভিক্ষ নেমে আসছে দুনিয়াজুড়ে। হন্যে হয়ে মানুষজন সুপার মার্কেটগুলো খালি করে নিজেদের ঘর ভরছে খেয়ে বাঁচার তাগিদে! কিন্তু কথা হচ্ছে কতো দিনের খাবার তারা কিনতে পারবে অথবা স্টক করতে পারবে একসাথে! তারপর কী হবে? কারণ, পৃথিবীর কোনো দেশই স্বনির্ভর নয়; প্রায় প্রতিটি দেশই একে অপরের প্রতি নির্ভরশীল— এক দেশের খাদ্যসামগ্রী আরেক দেশে যায়। অদৃশ্য আতঙ্ক যদি খাদ্যসামগ্রীর খাদ্যের আমদানি-রপ্তানি বন্ধ করে দেয় তবে তো খাবারের জন্য দুর্ভিক্ষ লেগে যাওয়াটা খুবই স্বাভাবিক। তখন শুরু হয়ে যাবে মারামারি-হানাহানি। আর এ পথ ধরেই হয়তো শুরু হয়ে যেতে পারে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ!

আমরা কি একটি অপ্রত্যাশিত দুর্ভিক্ষ এবং অনাকাঙ্ক্ষিত বিশ্বযুদ্ধ থেকে খুব বেশি দূরে আছি?