রাজশাহীতে পদ্মায় নৌকাডুবির ঘটনায় নিখোঁজ ৬, নিহত বেড়ে ৩

প্রকাশিত: ৫:৩০ অপরাহ্ণ, মার্চ ৭, ২০২০, 1060 জন দেখেছেন

রাজশাহী (জেলা) প্রতিনিধিঃ রাজশাহীর পদ্মায় বিয়ের অনুষ্ঠানের নৌকা ডুবির ঘটনায় নিখোঁজদের খোঁজে উদ্ধার অভিযান চলছে। ফায়ার সার্ভিস ও বিজিবির উদ্ধার টিমের সঙ্গে বিআইডাব্লুটিএ’র একটি ডুবুরি দল যুক্ত হয়ে উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে। এখন পর্যন্ত কনেসহ সাতজন নিখোঁজ রয়েছে বলে তাদের পরিবারের বরাদ দিয়ে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

নিখোঁজ পরিবারের সদস্যদের বরাদ দিয়ে জেলা প্রশাসক মো. হামিদুল হক বলেন, রাতে ২২ জন নিখোঁজের কথা শুনা গিয়েছিল। তবে সকালে তারা জানিয়েছে আটজনকে পাওয়া যাচ্ছে না। তাদের মধ্যে সকালে মনি খাতুন নামে এক নারী ও একলাস নামে এক ব্যক্তির লাশ পাওয়া গেছে। নিহত নারীর বাড়ি পবা উপজেলার ডাইঙ্গেরহাট ও একলাসের বাড়ি কাঁঠালবাড়িয়া গ্রামে।
তিনি বলেন, নিখোঁজদের উদ্ধারে দমকল বাহিনী ও বিজিবি রাত থেকেই উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে। তাদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বিআইডাব্লুটিএ’র একটি ডুবুরি দল। সকাল ১০টা থেকে তিনটি দল উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে। জেলা প্রশাসক আরও বলেন, নিহতের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে ২০ হাজার টাকা করে দেয়া হবে। এছাড়াও আহতের চিকিৎসা ব্যয় বহন করবে সরকার। এদিকে রাতে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন ও আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার ঘটনা স্থল পরিদর্শন করেন।
শুক্রবার চরখিদিপুর এলাকায় সন্ধ্যা ৭টার দিকে বিয়ের অনুষ্ঠান থেকে ফেরার পথে ৩৬ জন যাত্রী নিয়ে দুইটি নৌকা ডুবির ঘটনা ঘটে। এতে এক শিশু মারা যায়। বিয়ের অনুষ্ঠানের যাত্রী নিয়ে পবা উপজেলার খানপুর থেকে ডাইঙ্গেরহাট যাচ্ছিল নৌকা দুইটি। রাতেই দমকল বাহিনী ও বিজিবি উদ্ধার অভিযান চালায়। খবর পেয়ে সিটি মেয়র ও রাজশাহী-৩ আসনের এমপিসহ রাজশাহী মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার ঘটনা স্থল পরিদর্শন করেন।
নিখোঁজ কনের নাম সুইটি খাতুন পুর্ণি (২০)। তিনি পবা উপজেলার ডাইঙ্গেরহাট গ্রামের শাহীন আলীর মেয়ে। আর বরের নাম আসাদুজ্জামান রুমন (২৫)। তিনি চরখানপুরের মৃত ইনছার আলীর ছেলে। নিহত শিশুর নাম মরিয়ম (০৫)। সে বসুয়া এলাকার রতন আলীর মেয়ে। দুই মাস আগে তাদের রেজিস্ট্রি বিয়ে হয়েছিল। বৃহস্পতিবার তাদের বিয়ের অনুষ্ঠান হয়। শুক্রবার বৌভাতের অনুষ্ঠান শেষে তারা ফিরছিল।
রাজশাহী সদর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সিনিয়র স্টেশন অফিসার আব্দুর রউফ জানিয়েছেন, খানপুর এলাকায় বৌভাতের অনুষ্ঠান শেষে বর কনে নিয়ে পবা উপজেলার ডাইঙ্গেরহাট যাচ্ছিল। দুইটি নৌকায় ৩৬ জন যাত্রী ছিল। এর মধ্যে ১৭ জন নারী ও ৬ জন শিশু।
বর আসাদুজ্জামান রুমন জানান, সন্ধ্যায় শ্রীরামপুর এলাকায় নৌকার ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায়,এতে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন নৌকায় থাকা যাত্রীরা এসময় নৌকা ডুবে যায়। অন্য নৌকা ডুবার কারন তার জানা নেই। এখন পর্যন্ত কনের কোন খোঁজ পায়নি তারা।