ক্যান্সারে মৃত্যুর মুখে বাবা, তাই হাসপাতালেই বিয়ে সারলেন মেয়ে

প্রকাশিত: ৬:৩৫ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২০, 858 জন দেখেছেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : সময় থমকে দাঁড়িয়েছে তাঁর মনের জোরের সামনে। ন’বছর ধরে সময়ের সঙ্গেই যেন লড়াই চলছে তাঁর। শেষ ইচ্ছা, মেয়ের বিয়ে দেখা। বিয়ের সামাজিক অনুষ্ঠান আর কয়েক দিন বাদেই। কিন্তু সময় যেন আর সময় দিতে নারাজ। তেমনটাই আশঙ্কা তাঁর পরিবার ও চিকিৎসকদের। তাই তাঁর চোখের সামনে অন্তত মেয়ের বিয়ের রেজিস্ট্রিটুকু হতে পারে, তারই ব্যবস্থা করল হাসপাতাল।

মঙ্গলবার হাওড়ার এক হাসপাতালে ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে শেষ পর্যায়ে পৌঁছে যাওয়া বাবার সামনেই তাঁর মেয়ের সরকারি মতে বিয়ে হল। হাসপাতালের ঘরে সব কিছুর ব্যবস্থা করেছিলেন কর্তৃপক্ষ। কিন্তু শরীর যেন আর সঙ্গ দিতে চাইছে না। এ দিনও ৬১ বছরের সন্দীপকুমার সরকারের শারীরিক সমস্যা বেড়েছিল। অক্সিজেন নিতে পারছিলেন না। ফলে উৎকণ্ঠায় ছিলেন পরিবারের সকলেই। মেয়ে-জামাইও চিন্তায় ছিলেন সব কিছু ভালয় ভালয় মিটবে কি না, তা ভেবে।

তবে হাল ছাড়তে রাজি ছিলেন না রেলের অবসরপ্রাপ্ত ইঞ্জিনিয়ার সন্দীপবাবু। ২০১১ সাল থেকে তিনি জিভের ক্যানসারে আক্রান্ত। মুম্বইয়ের একটি ক্যানসার হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। বর্তমানে হাওড়ার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। অপরাজেয় সন্দীপবাবু অবশ্য শেষ পর্যন্ত মেয়ের রেজিস্ট্রির শংসাপত্রে নিজেই সই করলেন। কেক কেটে অতিথিদের মুখে কেকের টুকরো তুলেও দিলেন। যদিও সন্ধ্যায় ফের তাঁর অস্ত্রোপচার হয়।

লড়াই দেখছি। এমন মনের জোর কারও দেখিনি। হাসপাতাল থেকে বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার ইচ্ছার কথাও জানিয়েছেন।’

সন্দীপবাবুর এই লড়াইয়ের সর্বক্ষণের সঙ্গী স্ত্রী সুজাতাদেবী। ভবিষ্যৎ কী, তা তিনি আন্দাজ করতে পারেন। তবুও স্বামীর মতো তিনিও হাল ছাড়তে নারাজ। সুজাতাদেবীর কথায়, ‘‘জানতাম উনি পারবেন, পেরেছেন।’’ সন্দীপবাবুর লড়াই আর কত ক্ষণের, তা সময় বলবে। তবে হাসপাতাল কর্মীদের কথায়, ‘‘এমন লড়াই বহু দিন মনে থাকবে। আমরা একটা মুহূর্তের সাক্ষী রইলাম।’’

আর পাঁচ দিন বাকি মেয়ের সামাজিক বিয়ের। হাল ছাড়তে নারাজ সন্দীপবাবু। মেয়ের বিয়ে তিনি দেখবেনই। প্রতিপক্ষ মৃত্যুর সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে লড়াইয়ে রাখতে চাওয়া বৃদ্ধ যেন বলছেন, ‘‘ফাইট সন্দীপ, ফাইট সন্দীপ।