গোলাপগঞ্জে মাইক্রোবাস ও পিকআপ চালককে পুলিশের মারধরের অভিযোগে সড়ক অবরোধ

প্রকাশিত: ১:০০ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২, ২০২০, 440 জন দেখেছেন

 

গোলাপগঞ্জ (সিলেট) প্রতিনিধি : সিলেটের গোলাপগঞ্জে মাইক্রোবাস ও পিকআপ চালককে পুলিশের মারধরের অভিযোগে সড়ক অবরোধ করে রাখে শ্রমিকরা।

রোববার (২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০ থেকে ১১টা পর্যন্ত সিলেট-জকিগঞ্জ সড়কের গোলাপগঞ্জ চৌমুহনীতে অবরোধ করেন মাইক্রো-বাস শ্রমিকরা। এরপর একই স্থানে পিকআপ শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করেন। এতে দুদিকে শতাধিক ছোট-বড় যানবাহন আটকা পড়ে। চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয় যাত্রী সাধারণকে।

তৎক্ষনাৎ গোলাপগঞ্জ পৌরসভার মেয়র আমিনুল ইসলাম রাবেল ও আওয়ামী লীগ নেতা সৈয়দ মিসবাহ উদ্দিনসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিরা ঘটনাস্থলে এসে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলাপ করে সমস্যার সমাধানের আশ্বাস দিলে তারা অবরোধ তুলে নেয়।

গোলাপগঞ্জ মাইক্রোবাস উপ কমিটির সভাপতি লায়েক আহমদের সাথে কথা হলে তিনি জানান, শনিবার (১ ফেব্রুয়ারি) রাত আনুমানিক ১টার দিকে সিলেট থেকে আসার পথে মাইক্রোবাস উপ কমিটির একজন চালককে উপজেলার ফুলবাড়ী ইউপির হিলালপুরস্হ আসামাত্র পুলিশ কাগজ চেক করার নামে হয়রানি করে। কাগজপত্র ঠিক থাকা সত্যেও পুলিশ চাঁদা দাবি করে।

তিনি বলেন, এভাবে পুলিশ আমাদের বিভিন্ন সময় গাড়ি আটকিয়ে হয়রানি করে আসছে। কাগজ ঠিক থাকার পরও মামলার ভয় দেখিয়ে ড্রাইভারদের কাছে তারা চাঁদা দাবি করে। এসব কাজের প্রতিবাদে আজ আমরা সড়ক অবরোধ করেছি।

সিলেট জেলা ট্রাক-পিকআপ শ্রমিক ইউনিয়ন গোলাপগঞ্জ শাখার সভাপতি বদরুল ইসলাম বলেন , গত রাতে আমাদের এক চালককে শ্রীমঙ্গল থেকে উপজেলার লক্ষণাবন্দ ইউপির মাদ্রাসা বাজার আসামাত্র গোলাপগঞ্জ থানার টহলরত একদল পুলিশ গাড়ি আটকিয়ে কাগজপত্র চেক করার অজুহাতে লাইসেন্স ও সাথে থাকা বেশ কিছু টাকা ছিনিয়ে নেয়। এর প্রতিবাদে তারা সিলেট-জকিগঞ্জ সড়ক অবরোধ করেছেন।

পিকআপ চালক বিলাল আহমদ জানান, আমি লক্ষণাবন্দ আসা মাত্র একদল পুলিশ আমার গাড়ির সামনে এসে তাদের গাড়ি দিয়ে আমার পথ আটকায়। এসময় তারা আমার কাগজপত্র দেখতে চায়। আমি দেখাতে চাইলে তারা আমার মানিব্যাগ হাত থেকে নিয়ে আমার কাছে থাকা পাটির ৬০,০০০ হাজার টাকা ও লাইসেন্স ছিনিয়ে নেয়। আমি বাধা দিতে চাইলে তারা আমাকে কয়েকটি চড়থাপ্পড়ও মারে।

এ ব্যাপারে গোলাপগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান হয়রানি ও টাকা নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, আমরা জনগণের নিরাপত্তার জন্য রাতের বেলা গাড়ি দেখলে আটকিয়ে থাকি। এতো রাতে গাড়ি নিয়ে আসলে পুলিশ নিরাপত্তার স্বার্থে গাড়ি আটকিয়ে কাগজপত্র চেক করে। ৬০,০০০ টাকা ও লাইসেন্স চিনিয়ে নেওয়ার কথা তিনি অস্বীকার করে বলেন, এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা।