শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে আফগানিস্তানকে হারিয়ে এশিয়া কাপের ফাইনালে পাকিস্তান

প্রকাশিত: ৬:২৮ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৭, ২০২২, 34 জন দেখেছেন

স্পোর্টস ডেস্ক : শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে আফগানিস্তানকে হারিয়ে এশিয়া কাপের ফাইনালে পৌঁছে গেল পাকিস্তান। ১১ রান দরকার হওয়া শেষ ওভারের প্রথম দুই বলে দুই ছক্কা মেরে পাকিস্তানকে ১ উইকেটের জয় এনে দেন নাসিম শাহ।

দ্বিতীয় ইনিংসে আফগানিস্তানে দেয়া ১৩০ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ওভারেই গোল্ডেন ডাক মেরে বিদায় নিয়েছেন আসরজুড়ে ব্যর্থ বাবর আজম। আফগান পেসার ফজল হক ফারুকির করা ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে পড়েন পাকিস্তান অধিনায়ক।

চতুর্থ ওভারের প্রথম বলে দলীয় ১৮ রানে দ্বিতীয় উইকেট হারায় পাকিস্তান। স্পিনার মুজিব উর রহমানের ওভারে বিদায় নেন ফখর জামান। নাজিবউল্লাহ জাদরানের থ্রুতে রান আউটের ফাঁদে পড়েন তিনি।

এরপর চারে নামা ইফতিখার আহমেদকে সাথে নিয়ে দারুণ ব্যাটিংয়ে সহজ জয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছিলেন রিজওয়ান। তবে দলীয় ৪৫ রানের মাথায় রশিদ খানের এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে পড়েন রিজওয়ান। ২৬ বলে ২০ রান করেন তিনি।

৮ ওভার ৪ বলে ৪৫ রানের মধ্যেই ৩ উইকেট পড়ে যাওয়ায় জয়ের স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছিলো আফগানরা। তবে সেখান থেকে পাল্টা আক্রমণ শুরু করেন শাদাব খান। ইফতিখারকে নিয়ে গড়েন ৪২ রানের জুটি।

তবে, এরপরই পাকিস্তানের ইনিংসে মড়ক শুরু হয়। ৮৭ রানে ইফতিখারের বিদায়ের পর ৯৭ রানে বিদায় নেন শাদাব। এ সময়ে পাকিস্তানের দরকার ছিল ২২ বলে ৩৩ রান। এরপর ১০৫ রানে মোহাম্মদ নওয়াজ, ১০৯ রানে খুশদীল শাহ ও ১১০ রানে হারিস রউফ ফিরলে জয়ের সম্ভাবনা উজ্জ্বল হয় আফগানিস্তানের। যদিও একপ্রান্ত আগলে রেখে পাকিস্তানের জয়ের আশা বাঁচিয়ে রেখেছিলেন আসিফ আলি। তবে দলীয় ১১৮ রানের মাথায় ৮ বলে ‌১৬ রান করা আসিফ বিদায় নিলে পাকিস্তানের শেষ আশাও ফিঁকে হয়ে আসে।

শেষ ওভারে পাকিস্তানের দরকার ছিল ১১ রান। শেষ জুটি হিসেবে উইকেটে নাসিম শাহ ও মোহাম্মদ হাসনাইন। তবে প্রথম ২ বলেই ২ ছক্কা মেরে পাকিস্তানের জয় নিশ্চিত করেন নাসিম।

এর আগে, প্রথম ইনিংসে ব্যাট করে ১২৯ রান তোলে আফগানিস্তান। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৩৫ রান করেন ইব্রাহিম জাদরান। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২১ রান আসে ওপেনার হজরতউল্লাহ জাজাইয়ের ব্যাট থেকে। যদিও ওপেনিংয়ে দারুণ শুরু করেছিলেন দুই ওপেনার যাযাই ও রাহমানুল্লাহ গুরবাজ। কিন্তু প্রথম হারিস রউফ ও পরে মোহাম্মদ হাসনাইন তুলে নেন এই দুই ওপেনারকে। আর এর সাথেই ম্যাচের দখল ভালোভাবেই নিয়ে নেন বাবর আজমের দল।

এরপর করিম জানাত ও ইব্রাহিম জাদরান ইনিংস মেরামতের চেষ্টা করেন। কিন্তু পেসারদের পর দুই স্পিনার মোহাম্মদ নওয়াজ ও শাদাব খানও দারুণ নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে আটকে দেন আফগানদের রানের গতি। সেই সাথে হারিস রউফ দ্বিতীয় স্পেলে বোলিংয়ে এসে তুলে নেন ইব্রাহিম জাদরানের উইকেট।
টানা দুই বুলে নাজিবুল্লাহ জাদরান ও অধিনায়ক মোহাম্মদ নবী সাজঘরে ফিরলে বড় সংগ্রহের আশা ফিকে হয়ে যায় আফগানদের।

শেষে রশিদ খান ব্যাট করতে এসে দলীয় সংগ্রহে যোগ করেন গুরুত্বপূর্ণ কিছু রান। আযমাতুল্লাহ ওমারযাইয়ের সাথে রশিদ খানের অবিচ্ছিন্ন ২৫ রানের জুটিতে পাকিস্তানের সামনে সম্মানজনক এক সংগ্রহ দাঁড়া করা আফগানিস্তান। ইব্রাহিম জাদরান করেন ইনিংস সর্বোচ্চ ৩৫ রান। পাকিস্তানের পক্ষে হারিস রউফ নেন ২ উইকেট। এছাড়া হাসনাইন, নাসিম, নওয়াজ ও শাদাব নেন ১টি করে উইকেট।

এখনও পর্যন্ত দুইটি করে ম্যাচ খেলেছে এই আসরে সুপার ফোরে ওঠা ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও আফগানিস্তান। যেখানে দুইটি করে জয় আছে পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার। অপরপক্ষে একটি জয়ও পায়নি ভারত ও আফগানিস্তান। ফলে পরিস্কারভাবে ফাইনালে পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা। তাই ভারত ও আফগানিস্তান এবং পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার মধ্যে অনুষ্ঠিতব্য ম্যাচ হবে শুধুই আনুষ্ঠানিকতার জন্য।