বড় ধরনের দূর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেল বিমান

প্রকাশিত: ৫:৪৭ পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২২, 35 জন দেখেছেন

লাল সবুজ৭১ ডেস্ক : পাইলটের অবহেলার কারণে বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি বিমান বড় ধরনের দূর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে।

তথ্য মতে, গত ১ ফেব্রুয়ারি আকাশতরী নামের ড্যাস-৮কিউ মডেলের বিমানটি সিলেট থেকে ঢাকা আসছিল। ওই বিমানের পাইলট ছিলেন ক্যাপ্টেন রুবাইয়েত। বিমানটি আকাশে ওঠার পর পাইলট কোনো কারণ ছাড়া পাওয়ার লিভারটিতে ১০০ ভাগের বেশি ইমারজেন্সি পাওয়ার (ওয়াল টু ওয়াল) ব্যবহার করেছেন। সামনের মনিটরে বিপদ সংকেত জ্বলে ওঠার পর তড়িঘড়ি করে স্বাভাবিক পজিশনে নিয়ে আসা হয় লিভারটি। ততক্ষণে পেরিয়ে গেছে ১৩ সেকেন্ড। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের ঘটনায় সাধারণত বিমানের দুটি ইঞ্জিনই জ্বলে যাওয়া কিংবা ইঞ্জিনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ জ্বলে যাওয়ার কথা। এমনকি বিস্ফোরণেরও ঝুঁকি ছিল ।

সাধারণত বিশেষ প্রয়োজনে বা বড় ধরণের দুর্ঘটনা এড়াতে বিমানের পাওয়ার লিভারের সর্বোচ্চ ব্যবহার করেন পাইলট। অথচ ক্যাপ্টেন রুবাইয়েত কোনো কারণ ছাড়াই তা ব্যবহার করেছেন। ল্যান্ডিং এরপর ঘটনাটি দ্রুত লগবইতে লিখিতভাবে জানানোর কথা থাকলেও ক্যাপ্টেন রুবায়েত সেটি করেননি। বিষয়টি রীতিমত চেপেও গেছেন ক্যাপ্টেন। এ অবস্থায় পরবর্তী ফ্লাইটের উড্ডয়নেই ভয়াবহ দুর্ঘটনার শঙ্কা ছিলো। কিন্তু রক্ষা হয় ইঞ্জিনিয়ার শাখার নিয়মিত চেকিং এ।

সংশ্লিষ্টদের মতে, এ ঘটনায় আর্থিক ক্ষতি দাঁড়াতে পারে ৬০ কোটি টাকা। একই সঙ্গে মেরামতের জন্য এক থেকে তিন মাস উড়োজাহাজটি দিয়ে ফ্লাইট করা যাবে না। তাতে ক্ষতির অঙ্ক ১০০ কোটি টাকা ছাড়াতে পারে।

বিমান দুর্ঘটনা বিষয়ক বিশেষজ্ঞ ক্যাপ্টেন (অব.) সালাহ উদ্দিন এম রহমতুল্লাহ বলেন, পাইলটের বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানানো উচিত ছিল। কিন্তু এটি পাইলটদের অভ্যাস তারা লগবুকে তথ্য রেজিস্টার করে না। অথচ লগবুকে এসব তথ্য লিখে রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

এদিকে এ ঘটনায় গাফিলতি এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিমান কর্তৃপক্ষ।

উল্লেখ্য, ড্যাস-৮কিউ মডেলের বিমানটি সম্পূর্ণ নতুন। গত বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি কানাডার ডি হ্যাভিলেন্ড অ্যারোস্পেস থেকে এটি ঢাকায় আনা হয়। কানাডা ও বাংলাদেশ সরকারের জিটুজি চুক্তিতে উড়োজাহাজটি ক্রয় করা হয়।