বদলে গেছে রাজারহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

প্রকাশিত: ৪:৩৩ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ৪, ২০২২, 49 জন দেখেছেন

রাশেদ, কুড়িগ্রাম থেকে : কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাট উপজেলার প্রানকেন্দ্রে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। এই সরকারি হাসপাতাল দেশের অন্য উপজেলার হাসপাতাল থেকে বেশ কিছুটা আলাদা। হাসপাতালটি দেখতে বেশ ঝকঝকে, তকতকে। সেবা নিয়েও রাজারহাট উপজেলার মানুষ সন্তুষ্ট।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃপঃ কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান জুয়েলের সদ ইচ্ছা ও মনের মাদুরীর ছোয়ায় রাজারহাট সরকারি হাসপাতালটির এতো পরিবর্তন এসেছে যে প্রত্যন্ত গ্রামের দরিদ্র ও অসহায় মানুষের চিকিৎসার বড় আশ্রয়স্থল হচ্ছে রাজারহাট উপজেলার এই হাসপাতাল।

দেশে এ রকম হাসপাতাল আছে প্রতি উপজেলায় ১টি করে কিন্তু কিছু উপজেলায় হাসপাতালে নেই সীমানাপ্রাচীর। আর কিছু হাসপাতালে প্রাচীর থাকলেও তা ভাঙা। হাসপাতালের মাঠে গরু-ছাগল অবাধে যাতায়াত করে। হাসপাতালের ওয়ার্ড গুলোতে দেয়ালে পানের পিক, চুনের দাগ চোখে পড়ে। যেখানে-সেখানে থাকে ময়লা-আবর্জনার স্তুপ। ওয়ার্ড গুলোতে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে রোগীর চিকিৎসা চলে। হাসপাতাল জুড়ে থাকে উৎকট গন্ধ। সারা দিনে হয়তো একবার ঝাড়– পড়ে ওয়ার্ডে। টয়লেট গুলো ভাঙা ও নোংরা থাকায় রোগী ও তাদের আত্মীয়রা সেগুলো ব্যবহার করতে চায় না। রোগীর আত্নীয়রা আক্ষেপ করে বলতো এই সমস্ত পরিবেশে একজন অসুস্থ লোক থাকলে আরো অসুস্থ হবে । সেই জায়গায় থেকে বেড়িয়ে এসে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃপঃ কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান জুয়েলের ভালো কাজের কারণে রাজারহাট হাসপাতাল পেয়েছে আধুনিকতার ছোঁয়া।

এ বিষয়ে রাজারহাট উপজেলার স্বাস্থ্য ও পঃপঃ কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান জুয়েলের সাথে কথা বলে জানা যায় তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর বর্তমানে হাসপাতালের রাস্তাগুলো ২৪ ঘন্টা থাকে পরিচ্ছন্ন, চোখে পড়ার মতো রয়েছে ফুলবাগান। সেবার মান অসাধারণ, তিনি ভালো কাজের চমক দিয়ে রাজারহাটবাসীকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। রাজারহাট হাসপাতালকে করেছে দালাল মুক্ত, এখন দালাল বিহীন রাজারহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হয়েছে রাজারহাট বাসীর স্বাস্থ্য সেবার প্রানকেন্দ্র।

অনুসন্ধানে জানা যায় কিছু অসাধু সাংবাদিক বেশ কিছু টেন্ডারের জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃপঃ কর্মকর্তার কাছে সুপারিশ করলে তা তিনি কর্নপাত করেন নি, গত কিছুদিন পূর্বে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃপঃ কর্মকর্তার কাছ থেকে ৩০০ কম্বল দাবি করে সাংবাদিক আসাদুজ্জামান আসাদ , সেটা দিতে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃপঃ কর্মকর্তা অস্বীকার করলে ব্যক্তিগত আক্রশ নিয়ে তার উপরে ক্ষিপ্ত থাকে সেই সাংবাদিক। আরো অনুসন্ধানে জানা যায় ঔষধের টেন্ডারের জন্য একজনের নাম প্রস্তাব করে সাংবাদিক আসাদুজ্জামান আসাদ,উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃপঃ কর্মকর্তা সেই লোককে টেন্ডারটির কাজ দিতে অনিচ্ছা প্রকাশ করে এবং জানিয়ে দেয় কাজ হবে স্বচ্ছ। তিনি অনিয়মের তোয়াক্কা করে না । নিয়ম মধ্যে লটারি হবে, এতে কে কাজ পায় পাবে। সেই থেকে সাংবাদিক আসাদুজ্জামান আসাদ নানা ভাবে তাকে হেয় করার চেষ্টা চালায় এবং তাকে নিয়ে মিথ্যা ও বানোয়াট সংবাদ প্রচার করে যা ভিত্তিহীন বলে জানা যায়।

রাজারহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা সাংবাদিকদের জানায় বর্তমান আসাদুজ্জামান জুয়েল স্যার আসার পর তারা এখন দিনে পাঁচ থেকে ছয়বার হাসপাতাল ঝাড়– দেয় তারা , ড্রেন ও টয়লেট পরিষ্কার করে ।

গত ১-২-২১ ইং তারিখে ছামিউল ইসলাম শাওন হাসপাতালে ভর্তি হন। হাসপাতালের পুরুষ ওয়ার্ডে চিকিৎসকের উপস্থিতিতে তাঁর সঙ্গে কথা হয় তিনি জানায় সবার মুখে শুনি হাসপাতালের সেবার পরিবর্তন হয়েছে, এবার অসুস্থ হওয়ার পর নিজেই এসে দেখি হাসপাতাল পাল্টে গেছে। হাসপাতালে নিয়মিত ঝাড় দেওয়া হচ্ছে। বাথরুম পরিষ্কার। অনেক স্বস্তিতে আছি।

হাসপাতালের এই পরিবর্তন সম্পর্কে রাজারহাট উপজেলার স্বাস্থ্য ও পঃপঃ কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান জুয়েল বলেন, আমি ১৫-১০-২০২০ ইং তারিখে রাজারহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগদান করেছি। আমি এখানে আসার পর এই হাসপাতালে চালু করেছি আল্ট্রাসনোগ্রাম , বর্তমানে হাসপাতালে নিয়মিত আল্ট্রাসনোগ্রাম হয়, হাসপাতালে বর্তমানে যে কোন সময়ের চেয়ে বহিঃবিভাগ, অন্তবিভাগ ও জরুরি বিভাগে রুগী পাচ্ছে বেশি বেশি সেবা। রাজারহাট হাসপাতালের সেবায় সাধারণ জনগণের আস্তা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। চলতি বছরের কর্মপরিকল্পনা সম্পর্কে বলেন এই বছরেই রাজাহাট হাসপাতালে তৈরি হবে মুল ফটক। ডাক্তারদের জন্য ৩ তলা ভবন সংস্কার করা হবে এবং চালু হবে অপারেশন থিয়েটার।

উক্ত অনিয়মের বিষয় নিয়ে তাকে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন তদন্ত কমিটির তদন্ত চলছে তদন্ত শেষে রাজারহাট বাসীর কাছে সব সত্য প্রকাশিত হবে, আমি এর আগে কিছু বলবো না।