নারীরা ভোগের বস্তু নয়, সহযোদ্ধা : প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত: ৫:৫৭ পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ৯, ২০২১, 247 জন দেখেছেন

লাল সবুজ৭১ ডেস্ক : নারীরা ভোগের বস্তু নয়, নারীরা সহযোদ্ধা এই মানসিকতা নিয়ে সমাজকে এগুতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বৃহস্পতিবার (৯ ডিসেম্বর) সকালে বেগম রোকেয়া দিবস ও বেগম রোকেয়া পদক-২০২১ প্রদান অনুষ্ঠানে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী একথা বলেছেন। রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এবছরের বেগম রোকেয়া পদক প্রদান করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী নারীর প্রতি সহিংস আচরণ প্রসঙ্গে বলেন, শুধুমাত্র আইনের মাধ্যমে নারীদের প্রতি সহিংসতা কমানো সম্ভব নয়। এক্ষেত্রে মানসিকতার পরিবর্তন জরুরি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নারীদের এগিয়ে যাবার পথে বাধা আসবেই, তারপরও স্বনির্ভর হয়ে নারীদের এগিয়ে যেতে হবে। আমরা ক্ষমতায় আসার পর নারীদের শিক্ষা অবৈতনিক করেছি। প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক নিয়োগকালে ৬০ ভাগ নারী নেয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এতে শিক্ষায় নারীদের অংশগ্রহণ বেড়েছে। বাবা-মা’রা আশ্বস্ত হয়েছেন যে তাদের মেয়ের অন্তত একটা চাকরির ব্যবস্থা হয়েছে।

এছাড়াও কমিউনিটি ক্লিনিক করেছি যেখানে নারীদের অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ডিজিটাল সেন্টারগুলোতে নীতিমালা করা হয়েছে যে একজন নারী ও একজন পুরুষ উদ্যোক্তা থাকতেই হবে। এমনকি আশ্রয়ণ প্রকল্পে যেসব পরিবারকে ঘর দেয়া হয়েছে তাদের মাঝে যদি কখনো বিচ্ছেদ হয়ে যায় তাহলে সেই ঘরের মালিকানা পাবে পরিবারের নারী সদস্য। এভাবেই আমরা নারীদের অগ্রগতিতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছি।

নারীদের সমঅধিকারের বিষয়ে তিনি বলেন, আমাদের ইসলাম ধর্মে নারীদের সমান অধিকারের নিশ্চয়তা দেয়া হয়েছে। তারপরও আমাদের দেশে বিভিন্ন ধরনের বাধা আসে। তবুও এগিয়ে যেতে হবে। বাধা তো আসবেই। একবার সামনে এগিয়ে যেতে পারলে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হবে না।

উল্লেখ্য, নারী জাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়ার জন্ম ৯ ডিসেম্বর। আবার ১৯৩২ সালের এই ৯ ডিসেম্বরেই মারা যান তিনি। দিনটি রোকেয়া দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। দিবসটি উপলক্ষে প্রতিবছর ৫ বিশিষ্ট নারীকে সরকারিভাবে প্রদান করা হয় ‘বেগম রোকেয়া পদক’।

এবছর পদকের জন্য মনোনীত হয়েছেন, নারী শিক্ষায় অবদানের জন্য কুমিল্লার প্রফেসর হাসিনা জাকারিয়া বেলা। নারী অধিকার প্রতিষ্ঠায় যশোরের অর্চনা বিশ্বাস, নারীর আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে অবদান রাখায় কুমিল্লার শামসুন্নাহার রহমান পরাণ (মরণোত্তর), পল্লী উন্নয়নে অবদান রাখায় কুষ্টিয়া জেলার গবেষক ড. সারিয়া সুলতানা এবং সাহিত্য ও সংস্কৃতির মাধ্যমে নারী জাগরণের ক্ষেত্রে অবদান রাখায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ও রোকেয়া হলের প্রভোস্ট ড. জিনাত হুদা।