গোলাপগঞ্জে স্বপ্নের ঘর অন্ধকার, ঘরে উঠার আগেই ফাটল

প্রকাশিত: ৭:২০ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ২৫, ২০২১, 303 জন দেখেছেন

গোলাপগঞ্জ (সিলেট) প্রতিনিধি : সিলেটের গোলাপগঞ্জে ফুলবাড়ি ইউনিয়নের হাজিপুর নোয়াপাড়া গ্রামে সরকারি খাস জমিতে অসহায়দের জন্য নির্মিত হয়েছে ১৬ ঘর। গত ৯ অক্টোবর এসব ঘরের উপকার ভোগীদের হাতে আনুষ্ঠানিক ভাবে ঘরের চাবি তুলে দেয়া হয়। তবে উদ্বোধনের ১২ দিন পেরিয়ে গেলেও স্বপ্নের ঠিকানায় ঠাঁই হয়নি অসহায় ১৬ পরিবারের। বিদ্যুৎতের তার টানানো হলেও মিটার লাগেনি ঘর গুলোতে। যে কারণে স্বপ্নের ঠিকানা অন্ধকার হয়ে আছে। ২-৩ টি ঘরের দেয়াল ও খুঁটিতে ফাটল দরেছে৷ একটি ঘরের দুটি খুঁটি যে কোন সময় মধ্যখানে ভেঙে যেতে পারে। পুঁতা হয়নি বাথরুমের রিং। নম্বার পরেনি ঘর গুলোর। নম্বার বিহীন একটি ঘরের জানালা ভেঙে পড়ে আছে ঘরের ভিতরে। এসব অসুবিধা থাকায় এখনো ঘরে উঠতে পারেননি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেওয়া ঘরের উপকার ভোগীরা৷

এদিকে প্রায় এক কিলোমিটার সড়ক কাঁচা থাকায় দুর্ভোগ পুহাতে হচ্ছে এই এলাকার হাজারো মানুষের। এর মধ্যে এ সড়ক দিয়ে যাতায়াত করতে হবে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া ১৬ ঘরের উপকার ভোগীদের। স্থানীয় ও উপকার ভোগীদের দাবি এ সড়কটি পাঁকা করে দেওয়ার৷ এ সড়কটি পাঁকা হলে সড়ক দিয়ে যাতায়াতকারীদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি লাগব হবে।

সরেজমিন অসহায়দের স্বপ্নের ঠিকানায় গেলে দেখা যায়, ১৬ পরিবারের মধ্যে একটিও পরিবার উঠেননি স্বপ্নের ঠিকানায়। সরাসরি কথা হয়নি তাদের সাথে। মুঠোফোনে কথা হয় উপকার ভোগী আলম আহমদের সাথে।

আলম আহমদ মুঠোফোনে জানান, ‘ বিদ্যুৎ নেই। অন্ধকার চারপাশ। ছেলে-মেয়েদের নিয়ে উঠতে ভয় হয়। সামনে ছেলে-মেয়ের পরীক্ষা। অন্ধকারে তাদের পড়ালেখার অসুবিধা হবে। বাথরুমে রিং ও পুঁতা হয়নি। এজন্য এখনও আসা হয়নি।’

এসময় বহু বছর আগ থেকে এখানে বসবাসরত বয়োবৃদ্ধ হাজেরা বেগম জানান, ‘এখনো কোন পরিবার ঘরে উঠেনি। কবে উঠবে তাও জানা নেই। আমাদেরকে ৩ টি ঘর দেয়া হয়েছে। কিন্তু আমরাও উঠিনি। কেন উঠেননি জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিদ্যুৎ নেই। এখনো বাথরুমের রিং পুঁতা হয়নি। আমার একটি ঘরের দেয়ালে ফাটল দরেছে। ভয় হয়, যদি কিছু হয়। এজন্য কষ্ট করে হলেও যেখানে আছি, সেখানেই বর্তমানে রয়েছি।

এদিকে যে ২-৩ টি ঘরে ফাটল দেখা দিয়েছে তারা উপস্থিত না থাকার কারণে তাদের সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা হাবিবুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি গত দুই মাস ধরে অসুস্থ আছেন বলে জানান।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. গোলাম কবির বলেন, ‘বিদুৎতের মিটারের বিষয়ে পল্লী বিদুৎতের সাথে আমাদের কথা হয়েছে। আশা করছি এক সপ্তাহের ভিতরে বিদুৎ হয়ে যাবে। ফাটলের বিষয়ে আমার জানা নেই। আর দেয়ালে এরকম ফাটল ধরার কথা নয়। তারপরও আমি লোক পাঠাব। বিষয়টি সমাধান করার জন্য।’