কালাডুমুর নদ দখল-দূষণের বিরুদ্ধে মতিন সৈকতের আন্দোলন

প্রকাশিত: ১০:৩৯ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২, ২০২১, 329 জন দেখেছেন

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলা সপ্ত নদীর কন্যা। মেঘনা, গোমতী, তিতাস, কাঠালিয়া, ধনাগোদা, ক্ষিরাই এবং কালাডুমুর নদ দাউদকান্দিকে ভালোবেসে ঘিরে রেখেছে। কালাডুমুর নদ দাউদকান্দি উপজেলার গৌরীপুর বাজার সংলগ্ন গোমতী নদী থেকে উৎপত্তি হয়ে গৌরীপুর, জিংলাতলি, ইলিয়টগঞ্জ উত্তর এবং দক্ষিণ ইউনিয়ন অতিক্রম করে ইলিয়টগঞ্জ বাজার হয়ে চান্দিনা উপজেলার পশ্চিমাংশ দিয়ে কচুয়া উপজেলায় প্রবাহিত।

কুমিল্লার দাউদকান্দি, মুরাদনগর, চান্দিনা এবং চাঁদপুর জেলার কচুয়া উপজেলার আনুমানিক পঞ্চাশ হাজার বিঘা জমিনের সাড়ে বার লক্ষ মণ বোরোধান উৎপাদনে সহায়ক। একসময় বর্ষায় মালবোঝাই নৌকা, ইঞ্জিন চালিত বড় বোট এবং কার্গো চলাচল করত। সবধরনের মালামাল নৌপথে পরিবহন হত। কালের ব্যবধানে সে সব দিন এখন হারানো ইতিহাস। সাম্প্রতিক সময়ে কালাডুমুর নদের উৎস স্হলের পাশে গৌরীপুর সুবল – আফতাব উচ্চ বিদ্যালের সামনে মাইথারকান্দি খালের মুখে গৌরীপুর বাজারের সমস্ত নাগরিক বর্জ্য,
পলিথিন-প্লাস্টিক ফেলে দখলে দূষণে কালাডুমুর নদকে ময়লা-আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত করে ফেলেছে। ইলিয়টগঞ্জ বাজারের সব ময়লা আবর্জনা সরাসরি কালাডুমুর নদে ফেলে নদটি হত্যা করা হচ্ছে । দীর্ঘদিন পূনঃখনন না করায় বালি পলি জমে কালাডুমুর নদ ভরাট হয়ে গেছে। বোরোধান আবাদে মারাত্মক বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছে। ২০০৭ সালে মতিন সৈকতের উদ্যোগে কালাডুমুর নদ প্রায় দুই কিলোমিটার এবং ২০১৫ সালে কিছু অংশ পূনঃখনন করে সেচের পানি প্রবাহের গতি সৃষ্টি করে। ২০০৭ সালে মতিন সৈকত ব্যাক্তিগত উদ্যোগে গৌরীপুর থেকে ইলিয়টগঞ্জ পর্যন্ত ৪১৮৫০ ফুট প্রায় ১৩ কিলোমিটার পরিমাপ করে পানি উন্নয়ন বোর্ডে জমা দিয়েছেন। কালাডুমুর নদ পূনঃখননের জন্য মতিন সৈকত ১৯৯০ সাল থেকে ত্রিশ বছরের বেশি সময় ধরে আন্দোলন করছেন। বিশ বার সংবাদ সম্মেলন, মানববন্ধন, কোদাল মিছিল, প্রতিকী অনশন, নদী মেলা, নদী অল্ম্পিয়াড করে জনসচেতনতা সৃষ্টি করেন। জনপ্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ করে কালাডুমুর নদ পূনঃখননের আবেদন জানান। মতিন সৈকতের দীর্ঘ আন্দোলনের ফসল এবং সরকারের উদ্যোগে ইতিমধ্যে কালাডুমুর পূনঃখনন শুরু হয়েছে। গৌরীপুর এবং ইলিয়টগঞ্জ বাজারের নাগরিক বর্জ্য-আবর্জনায় কালাডুমুর নদ দখল দূষণের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা সৃষ্টির মতিন সৈকত রুখে দাড়িয়েছেন। মতিন সৈকত বলেন” আমার নদ কালাডুমুর সুরক্ষার দায়িত্ব আমার-
আর নয় দখল দূষণ ময়লা আবর্জনার ভাগাড়”।