মুরাদনগরে খাদ্য বান্ধব কর্মসূচির চাউল দুর্নীতি করে খোলা বাজারে বিক্রয়ের অভিযোগ।

প্রকাশিত: ৯:৪৫ অপরাহ্ণ, মে ৩, ২০২১, 332 জন দেখেছেন

নিজস্ব প্রতিবেদক:

কুমিল্লা জেলা মুরাদনগর উপজেলার পাহাড়পুর ইউনিয়নে খাদ্য বান্ধব কর্মসূচির চাউলের ডিলার মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মালেক এর বিরোদ্ধে দুর্নীতি করে অবৈধ ভাবে খোলাবাজারে চাউল বিক্রয়ের অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় সূত্রেঃ জানাযায় আব্দুল মালেক (ইউপি ডিলার) নিজে হতদরিদ্রদের জন্য ১০ টাকা কেজি দরে খাদ্য বান্ধব কর্মসূচির চাউল দীর্ঘদিন যাবৎ বিতরণে অনিয়ম ও খোলা বাজারে বিক্রয় করে আসছেন। নিরহ ভুক্তভোগী সহ এলাকার সাধারণ জনগণ বিষয়টি স্থানীয় সাংবাদিকদের জানালে স্থানীয় সাংবাদিকগন ঘটনাস্থল গিয়ে পাহাড়পুর ইউনিয়ন এলাকার পান্তি বাজারে চাউল ব্যবসায়ি মোঃ ছাইফুল ইসলামের ব্যক্তিগত গোডাউনে মুঠিবান্দা দশ বস্তা সরকারি চাউল দেখতে পায় যাহা সরকারি বস্তা পরিবর্তন করে অন্য বস্তায় রাখা ছিল। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম বলেন,এপ্রিল মাসের মাঝমাঝি সময়ে মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মালেকের ছোট ছেলে আমার দোকানে এসে চালের বস্তা গুলো রেখেছে,কিন্তু আব্দুল মালেকের গোডাউন খালি থাকা সত্বেও কেন সে আমার দোকানের চাউল রেখেছে আমি সেটা জানি না।

পান্তি বাজারের আরেক জুতা ব্যবসায়ী নূরে আলম বলেন,গত মার্চ মাসে আমার দোকানেও আব্দুল মালেক নিজে আমার দোকানে মুঠোবান্দা সাদা রঙের প্লাস্টিকের বস্তায় ১০ বস্তা চাউল কয়েকদিন রেখে তারপর ভ্যান গাড়ী দিয়ে নিয়ে যায়।

স্থানীয় সাংবাদিকগন সমস্ত বিষটি মুরাদনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কে অবগতি করলে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জনাব অভিষেক দাশ পাহাড়পুর ইউনিয়ন এর ট্যাগ অফিসারের দায়িত্বে থাকা খলিলুর রহমানকে উপস্থিত থেকে চাল বিতরণ ও অনিয়মের বিষয়ে জানাতে বলেন। খলিলুর রহমান চাল বিতরণে কোন অনিয়ম অথবা গোডাউনে থাকা কোন চাউলের বস্তায় অনিয়ম পাননি বলে উপজেলা ইউএনও কে অবগত করেন কিন্তু, সাংবাদিক বৃন্দদের তাৎক্ষণিক অনুসন্ধানে চাল বিতরণ অনিয়ম ধরা পরার পর এই ব্যাপারে ট্যাগ অফিসার খলিলুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তারা আমাকে বলেছিল মুক্তিযোদ্ধা অসুস্থ তারা এসব করবে না কিন্তু তারা আমার সাথে জালিয়াতি করেছে আমার বিশ্বাস ভঙ্গ করেছে অবশ্যই এই জালিয়াতির বিচার হওয়া উচিত। এসময় সাংবাদিকরা সার্বিক বিষয়টি আবারো মুরাদনগর উপজেলার ইউএনও কে অবগত করলে তিনি তাৎক্ষণিক পাহাড়পুর ইউনিয়নের পান্তি বাজারে ঘটনাস্থলে চলে আসেন। মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মালেক অসুস্থ্য থাকায় তার ছেলে পুলিশের কনস্টেবল পদে কর্মরত রাসেল আহমেদ খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাউল বিতরণ করছেন বলে ইউএনওকে জানান। চাউল আত্মসাতের বিষয়ে তদন্ত করে অনিয়মের সত্যতা পাওয়ায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অভিশেক দাস গোডাউনে থাকা চাল জব্দ করে পাহাড়পুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সামাদ মাঝির তত্ত্বাবধায়নে গ্রাহকদের মধ্যে চাল বিতরণের জন্য ইউনিয়ন অফিসের গোডাউনে পাঠিয়ে দেন। উপজেলা নির্বাহি অফিসার (ইউএনও) অভিষেক দাশ সাংবাদিকদের বলেন, আমি চাল বিতরণে কিছুটা অনিয়ম পেয়েছি,তদন্ত কমিটি ঘটন করে এই বিষয়ে অনিয়ম পেলে জামানত বাজেয়াপ্ত, ডিলারশিপ বাতিল সহ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মালেকের এমন অপকর্মে স্থানীয় এলাকাবাসীর মাঝে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।

এর আগে চাকরি দেওয়ার কথা বলে ৫লক্ষ টাকা আত্মসাত করার অভিযোগ এনে চট্টগ্রাম ডিআইজি অফিস,ও কুমিল্লা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মালিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন তিতাস থানার আল-আমিন নামে এক ভুক্তভোগী, যার তদন্ত চলমান। আব্দুল মালেক নিজেকে এসপি ও ডিসির আপন বেয়াই যাহির করে বিভিন্ন মানুষকে অন্যায় ভাবে সহযোগিতা করে নিরপরাধ মানুষকে বিভিন্ন মামলায় জড়িয়ে দেওয়াসহ গোটা এলাকায় নানা সুযোগ সন্ধানী প্রতারণা ও অপকর্ম করে আসছে। অনেকে লিখিত অভিযোগ করেও প্রতিকার পাচ্ছেনা অনেক ভুক্তভোগীরা।