মরার আগে প্রধানমন্ত্রীর কাছে থাকার ঘর চেয়েছেন প্রতিবন্ধী ভিক্ষুক অকিয়ত আলী

প্রকাশিত: ৫:৪৬ অপরাহ্ণ, মার্চ ৩০, ২০২১, 503 জন দেখেছেন

রাশেদ,স্টাফ রিপোর্টার, কুড়িগ্রামঃ

কুড়িগ্রামের রাজারহাটে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে মরার আগে থাকার জন্য একটি ঘর চেয়েছে প্রতিবন্ধী ভিক্ষুক অকিয়ত আলী।মানুষের দ্বারে দ্বারে প্রতিদিন পরিবারের চাহিদা মেটাতে হাতের নিচে দুটি ঠ্যাংগুতে ভর করে ছুটে চলে প্রতিবন্ধী অকিয়ত আলী।

সারাদেশব্যাপী সরকারি উদ্যোগে জমি আছে,ঘর নাই প্রকল্পের আওতায় রাজারহাটে চতুর্থ দফায় উপজেলা প্রশাসন মাধ্যামে বাস্তবায়িত হলেও ঘর পায়নি অকিয়ত আলী।আবার ভিক্ষুক ও প্রতিবন্ধীদের পুর্নবাসন হলেও সেই তালিকায় যুক্ত হয়নি অকিয়ত আলীর নামটি।

সরকারিভাবে বরাদ্দকৃত ঘরের তালিকাগুলো প্রণয়ন করে থাকেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিগণ।সেই তালিকা প্রণয়নকারী জনপ্রতিনিধিদের কাছে বারবার ছুটেও পায়নি থাকার জন্য একটি ঘর।তাই শেষজীবনে প্রধানমন্ত্রীর কাছে একটি ঘর পাবার আশায় স্বপ্ন বুনছেন ভিক্ষুক প্রতিবন্ধী অকিয়ত আলী।

অকিয়ত আলী উপজেলার ঘড়িয়াল ডাঁঙ্গা ইউনিয়ন এর ৭ নং ওয়ার্ডের চেতনা গ্রামের মৃত আব্দুল আজিজের পুত্র।অভাবী সংসারে মাত্র ৩ শতক জমিতে একটি জরাজীর্ণ ঘরে স্ত্রী ও পুত্র সন্তান নিয়ে কখনও অনাহারে অর্ধাহারে বসবাস করেন।স্ত্রী নুরবানু অভাবী সংসারে দুবেলা খাবার যোগাতে গ্রামের ধনীব্যক্তিদের বাড়ীতে ঝিঁ এর কাজ করে।

ছেলে ফুয়াদুল ইতিমখানা থাকেন সেখানে প্রতিদিন খাবার ও মাসে ৩ শতটাকা ফি দিতে হয় বলেন জানান স্ত্রী নুরবানু বেগম।অকিয়ত আলী বলেন,আমি জন্মগতভাবে একটি চোখে দেখতে পাইনা।বছর কুড়ি দিনমজুরের কাজ করতে গিয়ে ঘাড়ে ধানের ভাড় বইতে পরে গিয়ে ডান পায়ে কোমড় হতে জোড়া খুলে যায়

অর্থের অভাবে সঠিকভাবে চিকিৎসা হয়নি অকিয়ত আলীর। দীর্ঘদিন ঘরে বসে সুস্থ হয়ে সংসার চালানোর জন্য বেচেঁ নেন ভীক্ষাবৃত্তি। প্রতিদিন সকালে বেড় হয়ে গ্রামগঞ্জে মানুষের দ্বারেদ্বারে ঘুড়ে হাত পেতে সাহায্য নিয়ে সংসার চালায় বলেন জানান অকিয়ত। অকিয়ত আলী বলেন আমি একাধিকবার মেম্বার কাছে থাকার জন্য একটি সরকারি ঘরের বরাদ্দ চেয়েছিলাম কিন্তু মেম্বার বলে আমার দ্বারা এইসব সম্ভব না।

এমনকি তালিকা তৈরি জন্য আমার জমির কাগজপত্রাদিও জমা নেয় নি মেম্বার।মেম্বার কয় তোমার প্রতিবন্ধী ভাতা আছে তাই ঘর পাবোনা। আমার কাগজপত্র মেম্বার জমা নিলেও পাশাপাশি লাল মিয়া ও হামিদা ঘর মেম্বারের মাধ্যামে পেয়েছে কিন্তু তাদেরও প্রতিবন্ধী ভাতা আছে।প্রতিবেশী আবু তালেব সরকার (৬৪) জানান অকিয়ত ঘর পাবে কেমনে, যারা ঘর দিবে তারাতো অকিয়তের কাগজ নেয়না,মেম্বার চেয়ারম্যান ভোট আসলে কতকি দিতে চায় ভোট পার হলে শুরু করে দেয় জনগণের সঙ্গে ব্যবসা।

এবিষয়ে কথা হয় ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীর আলম মঞ্জুর সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান এই বারে নামের তালিকায় আমাদের কোন কিছু জানায় নাই চেয়ারম্যান। তিনি একাই একাই সব সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আমি এই বিষয়ে কিন্তু জানি না।

অকিয়ত আলী মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার উদ্দেশ্যে বলেন আমি একটি থাকার ঘর চাই,অনেকেই ঘর পেয়েছে,আমার মাত্র ৩ শতক জমি আছে সেইজমিতে একটি ঘর আছে বৃষ্টি আসলে ঘরে পানি ডুকে বাতাস হলে ভয় লাগে কখন যানি ঘর উড়ে যায়।তাই আমি একটি ঘর চাই বাকিজীবনটা যেন শেখ হাসিনার দেয়া ঘরে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ পারি।

এ বিষয়ে রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নূরে তাসনীম বলেন,আমি রাজারহাটে যোগদান করার অল্প কিছুদিন হয়েছে, আমি যোগদান করার পরে খ শ্রেণির ঘর বরাদ্দ পায়নি। খ” শ্রেণির ঘর বরাদ্দ পেলে ব্যবস্থা আমি তাকে অগ্রধিকার দিবো।