উখিয়ায় পুলিশকে সরকারের ‘গুন্ডা বাহিনী’ আখ্যা দিয়েছেন ইউপি চেয়ারম্যান!

প্রকাশিত: ৫:৩৬ অপরাহ্ণ, মার্চ ২৩, ২০২১, 518 জন দেখেছেন

আঃ রহিম, স্টাফ রিপোর্টার।

কক্সবাজার জেলার উখিয়া উপজেলার ৩ নং হলদিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান অধক্ষ্য শাহ আলম চৌধুরী পুলিশকে সরকারি গুন্ডা বাহিনী আখ্যা দিয়ে বলেন, তাদেরকে দিয়ে পিটিয়ে নৌকা মার্কার ভোট আদায় করে নিবেন । উখিয়ার হলদিয়া পালং ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের হাতির ঘোনা এলাকায় নির্বাচনি প্রস্তুতিমূলক জনসভায় ১৬ মার্চ রাতে তিনি এ ঘোষণা দেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সভায় তিনি বলেন, ‘পুলিশ কার? পুলিশ হচ্ছে সরকারের গুন্ডা বাহিনী। সেই পুলিশ দিয়ে পিটিয়ে ভোট আদায় করা হবে।

শাহ আলম উখিয়া উপজেলার ৩ নম্বর হলদিয়া পালং ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান ও আসন্ন ইউপি নির্বাচনে তিনি নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করবেন। নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবে গত ১৬ মার্চ রাতে হলদিয়াপালং ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের হাতির ঘোনা এলাকায় সভা করেন তিনি।

হলদিয়াপালং ইউপি নির্বাচনের আগাম প্রস্তুতি সভায় চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় দেওয়া বক্তব্যে বর্তমান চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ শাহ আলম বলেন, নৌকা প্রতীক আমার, শেখ হাসিনা ঘর থেকে ডেকে নিয়ে নৌকা প্রতীক দেবেন। নৌকা প্রতীক নিয়ে অন্য কোনও মার্কায় ভোট দিতে দেবো না।

সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব শফিউল আলমের ছোট ভাই শাহ আলম আরও বলেন, ‘আমার শ্রদ্ধেয় বড় ভাই প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে স্তরে তার বিভিন্ন অনুসারী বসিয়ে রেখে গেছেন। আগামী আরও ১০ বছর ক্ষমতায় আছি ও থাকব।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ৩নং হলদিয়া পালং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. ইসলাম বলেন, বর্তমান চেয়ারম্যানের বক্তব্যে সাধারণ মানুষের মধ্যে দলের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণ্ন করেছে বলে আমার মনে হয়।

উখিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান হামিদুল হক চৌধুরী বলেন, নৌকার মনোনয়ন কে পাবে বা কাকে দেওয়া হবে সেটি শুধু মাত্র দলের নির্বাচনি বোর্ড ঠিক করবে। বঙ্গবন্ধুর কন্যা দলীয় সভানেত্রী তার ঘরে এসে নৌকা দিয়ে যাবে, এই ধরনের বক্তব্য চরম শিষ্টাচার বহির্ভূত। এই ধরনের বক্তব্য দিয়ে তিনি দলীয় সভা নেত্রীকে হেয় পতিপন্ন করেছেন।

এ বিষয়ে উখিয়া থানার ওসি আহমেদ সঞ্জুর মোরশেদ বলেছেন, বাংলাদেশ পুলিশ একটি সুশৃঙ্খল বাহিনী। এই বাহিনীকে নিয়ে বিরূপ ও অশালীন মন্তব্য না করার জন্য তিনি অনুরোধ করেছেন।

এ বিষয়ে জানতে চেয়ারম্যান প্রার্থী শাহ আলমের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দিয়েও কথা বলা সম্ভব হয়নি।