মিনুসহ বিএনপির ৪ নেতার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ

প্রকাশিত: ৭:২০ অপরাহ্ণ, মার্চ ১১, ২০২১, 442 জন দেখেছেন

সুজন রাজশাহী প্রতিনিধি:

রাজশাহীর জেলা প্রশাসক ও ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল জলিলের কাছে মিনুসহ বিএনপির ৪ নেতার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ জমা দেন আওয়ামী লীগ।বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনু এবং রাজশাহী বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুসহ চার নেতার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।মঙ্গলবার (৯ মার্চ) বেলা ১১টার দিকে রাজশাহীর জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল জলিলের কাছে এই অভিযোগ জমা দেন রাজশাহী নগর আওয়ামী লীগের আইনবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মুসাব্বিরুল ইসলাম। এ সময় নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকারসহ শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।মামলার আসামির তালিকায় থাকা অন্য দুই বিএনপি নেতা হলেন- রাজশাহী নগর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক সিটি মেয়র মােসাদ্দেক হােসেন বুলবুল এবং নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন। মামলার বাদী অ্যাডভোকেট মুসাব্বিরুল ইসলাম বলেন, গত ২ মার্চ রাজশাহীতে বিভাগীয় সমাবেশের নামে বঙ্গবন্ধুকে কটূক্তি, প্রধানমন্ত্রীকে কটূক্তিসহ প্রাণনাশের হুমকি এবং সরকার উৎখাতের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এই কারণে বিএনপির ওই চার নেতার বিরুদ্ধে পেনাল কোডের ১২৩ (এ), ১২৪ (এ) ধারায় রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ আনা হয়েছে।তিনি বলেন, এই ধরনের মামলা দায়েরের আগে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন দরকার হয়। সেই জন্য জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বরাবর দরখাস্ত করা হয়েছে। এটি যথাযথ প্রক্রিয়ায় পুলিশ কমিশনারের মাধ্যমে তদন্ত হয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যাবে। সেখান থেকে অনুমোদন পেলেই নিয়মিত মামলা হবে।
অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও রাজশাহীর জেলা প্রশাসক আবদুল জলিল। তিনি বলেন, আবেদন পেয়েছি। এখন পরবর্তী বিষয়গুলো দেখা হবে।
গত ২ মার্চ বিকেলে নগরীর মাদ্রাসা মাঠ সংলগ্ন একটি কনভেনশন সেন্টারে রাজশাহী নগর বিএনপির আয়োজনে বিভাগীয় সমাবেশ হয়। নগর বিএনপির সভাপতি মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের সভাপতিত্বে ওই সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলনের সঞ্চালনায় ওই সমাবেশে বক্তব্য দেন মিজানুর রহমান মিনু। ওই সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ্য করে মিনু বলেন, আজ রাত, কাল আর সকাল নাও হতে পারে। ’৭৫ মনে নেই?’ সমাবেশে মিনু জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকেও কটাক্ষ করে বক্তব্য দেন। মিনুর এই বক্তব্য প্রচারের পর থেকেই প্রতিবাদে মুখর হয়ে ওঠে নগর আওয়ামী লীগ। পরদিন (৩ মার্চ) এর প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ হয়। সেখানে মিনুকে জাতির সামনে ক্ষমা চাইতে ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেন নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও রাজশাহী সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। ক্ষমা না চাইলে মিনুর বিরুদ্ধে মামলা করার ঘোষণা দেন লিটন। গত ৭ মার্চ বিতর্কিত বক্তব্যের কারণে দুঃখ প্রকাশ করে গণমাধ্যমে বিবৃতি দেন মিজানুর রহমান মিনু। ওই বিবৃতিতে তার বক্তব্যে ষড়যন্ত্র না খোঁজার অনুরোধ জানান তিনি।
এর আগে ২০১৯ সালের ১২ অক্টোবর রাজশাহী মহানগর বিএনপির এক বিক্ষোভ সমাবেশে মিনু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তুলনা করে আপত্তিকর বক্তব্য রাখেন। এ নিয়ে ওই সময় বিক্ষোভ করে নগর আওয়ামী লীগ। এরপর ফেসবুক লাইভে এসে বক্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন মিনু।