উখিয়ায় পানচাষীদের মুখে হাসি

প্রকাশিত: ৭:৪২ পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ৫, ২০২১, 629 জন দেখেছেন

আবদুর রহিম, স্টাফ রিপোর্টার::

আবহাওয়া ও শীতের প্রকোপে এবার কক্সবাজারের উখিয়াতে পানের আবাদ ভালো হয়েছে। গত বছর বিভিন্ন সমস্যার কারণে পানের ব্যাপক ক্ষতি হলেও এবার ফলন ও দাম ভালো পাওয়ায় খুশিতে মেতে উঠলো উখিয়ার পানচাষিরা।

উখিয়ায় বিভিন্ন প্রান্তরে মানুষ কৃষি কাজের মধ্যে আয়ের উৎস খুঁজে পাই। বিভিন্ন মৌসুমি চাষাবাদের পাশাপাশি পানের চাষাবাদ খুবই ভালো জমেছে কক্সবাজারের উখিয়ার প্রান্তিক অঞ্চলে।

পান চাষীর সুত্রে পাওয়া যায় বর্তমান বালুখালী, উখিয়া, কোটবাজার, মরিচ্যা বাজার, সোনার পাড়া, এবং শামলাপুর বাজারে সপ্তাহে দুই দিন করে পানের হাট বসে। এসব বাজারে পানের ক্রেতা-বিক্রেতার ভিড় জমে ওঠে। তা ছাড়া গ্রামের বিভিন্ন মহলে পাইকারদের আনাগোনা দেখা যায়।

কোটবাজার বিশিষ্ট পান ব্যবসায়ী ওবায়দুল হক বলেন গত বছর উখিয়ার পান চাষীরা বিভিন্ন সমস্যায় সম্মুখীন হয়, পানের চাষ ভালো হলেও বিক্রির ক্ষেত্রে নাজুক। এবং চলতি মৌসুমে যেসব চাষিদের পানের বাম্পার ফলন হয়েছে তারা পানের ভালো দাম পাওয়ায় চাষিদের মুখে হাসি ফুটেছে বলে জানান।

সোনার পাড়ার প্রবিণ পান ব্যবসায়ী সিরাজ সওদাগর বলেন বিগত বছরগুলোতে পানের দাম ভালো না পেলেও এবার পানের ফলন ও দাম ভালো পাওয়ায় পান চাষে দিন দিন আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের। এদিকে পানের বরজ বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে এলাকার বেকারদের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হচ্ছে। সারা বছর পানের বরজে কাজ করে সুন্দর ভাবে জীবিকা নির্বাহ করতে পারছেন প্রতিটা অঞ্চলের কয়েক শতাধিক দিনমজুর পরিবার।

পান চাষীরা বলেন বিগত পুরো বছর মিলে পান চাষ করে বিক্রি করতে পারিনি কষ্টে গড়ে ওঠা পানের বরজ থেকে। কিন্ত আমরা হাল ছেড়ে না দেওয়ায় আজ আমরা চড়া দামে পান বিক্রি করে খুশিতে জীবিকা নির্বাহ করছি। এবং শীতের সময় পান উত্তোলন কম হলেও কিন্তু বিক্রি হয় বেশি দামে। শীতের পরে আস্তে আস্তে দাম কমে যাওয়ার সম্ভবনা ও রয়েছে বলে জানান পান বিক্রয় মহল।

পাইকারি পান ব্যবসায়ী সিরাজ সওদাগর জানান, ভালোমানের বড় পান বিক্রি হচ্ছে প্রতি বিশ গন্ডায় ৪০০-৫০০ টাকা যা আগে ছিল ১৫০-২০০ টাকা, মাঝারি মানের বিক্রি হচ্ছে ৩০০-৪০০ টাকায়, যা আগে ছিল ১০০-১৫০ টাকা ও ছোট আকারের পানের প্রতি বিশ গন্ডায় বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১৫০ টাকায়, যা আগে ছিল অনেক কম।

এবং বর্তমানে এসব বাজার থেকে তিন ভাগের ও বেশি পান চালান হয় রোহিঙ্গা শিবিরে আর এক ভাগ ঢাকা-শহরে চালান দেন বিশিষ্ট পান ব্যবসায়ীরা। তাই উখিয়ায় খেলি পান বিক্রেতার ও মাঝে তীব্র চাপ পড়ে।

বালু খালী বাজারের ব্যবসায়ী বাবুল মিয়া বলেন উখিয়ায় পানের বাজার গুলো এখন বেশ চড়া। হাটবাজার ও পাইকারি মোকামগুলোতে সর্বকালের রেকর্ডমূল্যে বিক্রি হচ্ছে পান। বর্তমান বালু খালী বাজারে পানের চাপ খুবই একটু বেশি হচ্ছে যখন থেকে বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের আগমন হয় তখনই বালুখালী পান বাজারের পুর্বের ঐতিহ্য খুজে পায় প্রবিণ ব্যবসায়ী মহল।