পরিবেশ সম্মত সবজি উৎপাদনে ইলিয়টগন্জ দক্ষিণ আইপিএম মডেল ইউনিয়ন

প্রকাশিত: ৬:১৮ পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ২৬, ২০২১, 524 জন দেখেছেন

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

পরিবেশ সম্মত কৌশল অবলম্বনে জৈবিক পদ্ধতিতে কোন ধরনের কীটনাশক এবং ক্ষতিকারক কোন উপাদান ব্যবহার না করে নিরাপদ সবজি উৎপাদনের জন্য সারা বাংলাদেশে মাত্র ১০টি ইউনিয়নকে সরকারিভাবে আইপিএম মডেল ইউনিয়ন ঘোষণা করা হয়েছে। চট্টগ্রাম বিভাগের একমাত্র আইপিএম মডেল ইউনিয়ন হচ্ছে কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার ইলিয়টগন্জ দক্ষিণ ইউনিয়ন। এখানে ৫০০ সবজি চাষীকে ২০টি গ্রুপে বিভক্ত করে ২৫ জনের একটি করে দল সৃষ্টি করে আইপিএম বা সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা বিষয়ক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ১০০ একর সব্জির মাঠ প্রর্দশনী করা হয়েছে। ৫০ একরে টমেটো বাকি জমিতে খিরা, মিষ্টি কুমড়া, স্কোয়াশ সহ অনন্য ফসলের চমৎকার আবাদ হয়েছে। ঢাকা -চট্টগ্রাম মহাসড়কের সাথে ইলিয়টগঞ্জ বাজারের পশ্চিম পাশে টামটা, বিটমান, পুটিয়া, দৈয়াবাড়ি এবং দৌলতপুর মাঠে পরিবেশ সম্মত সবজি উৎপাদনের একক বৃহৎ প্রদর্শনী মাঠ সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। নিরাপদ সবজি, ফল উৎপাদনের পাশাপাশি কৃষক যেন সবধরনের চাষাবাদ স্বাস্থ্য সম্মত উপায়ে করে এবং ক্রেতা সাধারণ ও ভোক্তারা নিরাপদ খাদ্য গ্রহনের বিষয়ে সচেতন হয়ে উঠে এ বিষয়ে প্রচারণা চালানো হচ্ছে। সরেজমিনে মাঠ পরিদর্শনে দেখা যায় কৃষকদের সাথে কৃষি কর্মকর্তারা ফসল নিরাপদ রাখার জন্য কাজ করছেন। প্রত্যেক জমিনে ৮/১০ টি সেক্সফেরোমেন ট্যাপ স্হাপনের পাশাপাশি ১৫/ ২০টি ইয়েলো স্টিক বা হলুদ আঠালো ফাঁদ পেতে ফসলের ক্ষতি কারক পোকামাকড় দমন করা হচ্ছে। ফসলের মাঠে ৩০ টি ফসলের উপযুক্ত পরিবেশ সম্মত মশারী টানিয়ে তার ভিতরে টমেটোর চাষ হচ্ছে। ফসলের মাঠ যেন পিকনিক স্পট।

১৫৪টি আইপিএম-আইসিএম ক্লাবের সমন্বয়ে প্রতিষ্ঠিত দাউদকান্দি উপজেলা কেন্দ্রীয় আইপিএম- আইসিএম ক্লাবের সভাপতি পরিবেশ বান্ধব প্রযুক্তি উদ্ভাবন ব্যাবহার এবং সম্প্রসারণের জন্য দুইবার বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পদক প্রাপ্ত মতিন সৈকত বলেন ‘২০০০ সাল থেকে আমরা পরিবেশ বান্ধব কৌশল অবলম্বন করে বিষমুক্ত ফসল, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর দাউদকান্দি উপজেলার সহযোগিতায় বৈপ্লবিক উন্নয়নে কৃষকদের সরাসরি অংশ গ্রহনের মাধ্যমে এ প্রযুক্তি বাস্তবায়নের সংগ্রাম চালাচ্ছি।’
ইলিয়টগঞ্জ দক্ষিণ আইপিএম মডেল ইউনিয়ন বাস্তবায়নরত উপসহকারী কৃষি অফিসার মোঃ শামসুদ্দিন বলেন ‘আইপিএম মডেল ইউনিয়ন বাস্তবায়ন করতে আমরা দিন রাত কঠোর প্ররিশ্রম করছি। আমার সহকর্মী এবং উর্ধতন কর্মকর্তারা নিয়মিত মাঠ তদারকি করছেন। কৃষককে প্রচলিত ধ্যান-ধারণার বাইরে এনে নতুন করে সাজানো কঠিন বাস্তবতা। হাতে কলমে প্রশিক্ষণ দেয়ার পাশাপাশি তাদের মনোজগতে পরিবর্তন করে আধুনিক প্রযুক্তি প্রয়োগ করে সামনের দিনগুলোতেও যাতে পরিবেশ সম্মত নিরাপদ সবজি উৎপাদন করতে পারে সে লক্ষ্যে কাজ করছি।’
দাউদকান্দি উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ সারোয়ার জামান জানান ‘আমরা আনন্দিত এবং গর্বিত সারা বাংলাদেশে মাত্র ১০টি ইউনিয়নের একটি হচ্ছে আমার কর্ম এলাকায়। যত কঠিন কাজ হোক আমরা সুন্দরভাবে মাঠ সাজিয়েছি। কৃষককে প্রশিক্ষিত করেছি। অন্য সময়েও নিরাপদ সবজি উৎপাদনে তারা প্রশিক্ষণ লব্দ জ্ঞান কাজে লাগিয়ে অবদান রাখবে।