শিক্ষকদের তোপের মুখে রাবি উপাচার্য, স্থগিত ভর্তি পরীক্ষা কমিটির সভা

প্রকাশিত: ১০:০৬ পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ২১, ২০২০, 529 জন দেখেছেন

সুজন রাজশাহী প্রতিনিধি:

সরকারি সিদ্ধান্ত অমান্য করায় শিক্ষকদের তোপের মুখে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষা কমিটির সভা স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছেন উপাচার্য এম আবদুস সোবহান।
বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ সিনেট ভবনে এই সভা শুরু হয়েছিল। সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার আবদুল বারী উপস্থিত থাকায় অন্য শিক্ষকরা এর প্রতিবাদ করেন এবং তাকে সভাস্থল থেকে বের করে দেওয়ার দাবি জানান। কিন্তু ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রারকে সভাস্থল থেকে বের করে না দিয়ে পরীক্ষা কমিটির সভা স্থগিত করে প্রশাসনের লোকদের নিয়ে চলে যান উপাচার্য। ভর্তি পরীক্ষা কমিটির ওই সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, দুজন উপ-উপাচার্য, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার, ১০ জন ডিন, ১২ জন জ্যেষ্ঠ অধ্যাপক, ১৮ জন হল প্রাধ্যক্ষ, ৫৯ জন সভাপতি, ৩ জন ইনস্টিটিউট পরিচালক উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া আমন্ত্রণক্রমে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা, জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ ও হিসাব পরিচালক।এসব তথ্য নিশ্চিত করেন ভর্তি পরীক্ষা কমিটির সদস্য ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক মো. সুলতান-উল- ইসলাম সুলতান -উল-ইসলাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক আবদুল বারীকে সাত কর্ম দিবসের মধ্যে অব্যাহতি দেওয়ার জন্য উপাচার্যকে চিঠি দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। কিন্তু তাকে অব্যাহতি না দিয়ে পরীক্ষা কমিটির সভায় রাখায় আমিসহ অন্য শিক্ষকরা তার প্রতিবাদন করেন। একই সঙ্গে সভাস্থল থেকে তাকে বের করে দেওয়ার দাবি জানান শিক্ষকরা। এ ছাড়া উপাচার্যের অর্থনৈতিক অনিয়মের বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে চিঠি নিয়েও কমিটির অন্য সদস্যরা উপাচার্যের কাছে জানতে চান। উপাচার্য তখন শুধু বলেন, পরবর্তীতে তিনি এসব বিষয় নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছে জানতে চাইবেন।এই অধ্যাপক বলেন, সভায় বাংলা বিভাগের অধ্যাপক খন্দকার ফরহাদ হোসেন জ্যেষ্ঠ অধ্যাপক ক্যাটাগরিতে উপস্থিত ছিলেন। তিনি ও উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহা ছাড়া আর কেউ উপাচার্যের পক্ষে কথা বলেননি। উপাচার্য কেন সরকারি সিদ্ধান্তের বিষয়ে ব্যবস্থা নেননি, কমিটির অন্য সদস্যরা তার প্রতিবাদ করেন। ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের সভাপতি আরও বলেন, সরকারি সিদ্ধান্ত না মেনে রেজিস্ট্রারকে সভায় নিয়ে আসায় শিক্ষকদের প্রতিবাদের একপর্যায়ে উপাচার্য সভা স্থগিত করে বেরিয়ে যান। তখন অন্য শিক্ষকরাও সভাস্থল ত্যাগ করেন। প্রসঙ্গত, বিশ্ববিদ্যালয়ের নানা অনিয়মের বিষয়ে ইউজিসির দীর্ঘ তদন্তের পর পাঠানো তদন্ত প্রতিবেদন আমলে নেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। গত ১০ ডিসেম্বর থেকে ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট ১২টি চিঠি পাঠায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এসব চিঠিতে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রারকে অব্যাহতি দেওয়া, বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় তলা বিশিষ্ট বাসা দখলে নিয়ে সরকারি অর্থ ক্ষতি করায় উপাচার্যের কাছে সেই ক্ষতিপূরণ সরকারি কোষাগারে জমা দিতে বলা, উপাচার্যের মেয়ে ও জামাতার চাকরি কেন বাতিল করা হবে না-এসব বিষয়ে ব্যবস্থা নিয়ে জানতে চাওয়া হয়। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য চৌধুরী মো. জাকারিয়াসহ আরও অনেকের কাছে নানা বিষয়ে কৈফিয়ত জানতে চাওয়া হয়।