পঞ্চাশ হাজার বিঘা জমিনের বোরোধান প্রাকৃতিক মাছ ও পরিবেশ সংরক্ষণে মতিন সৈকতের কালাডুমুর নদ পূনঃখনন শুরু।

প্রকাশিত: ৭:৪৪ পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ১১, ২০২০, 363 জন দেখেছেন

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

গতকাল ১০ ডিসেম্বর, ২০২০।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবসে কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার কালাডুমুর নদ পূনঃখনন কার্যক্রম উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি দাউদকান্দি উপজেলা চেয়ারম্যান মেজর অবঃ মোহাম্মদ আলী।
সন্ধ্যায় গৌরীপুর বাজার সংলগ্ন লক্ষীপুর ব্রীজ পয়েন্টে মুনাজাত, বক্তব্য এবং ভেকু দিয়ে মাটি কাটার মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু হয়।
তিনি বলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দিনরাত উন্নয়ন চালিয়ে যাচ্ছেন। কালাডুমুর নদ পূনঃখনন মতিন সৈকতের আন্দোলনের ফসল। মাননীয় এমপি মহোদয় কালাডুমুর নদ পূনঃখননের জন্য জাতীয় সংসদে অনেক বার আবেদন করে জনগণের সুবিধার্থে গৌরীপুর থেকে ইলিয়টগঞ্জ পর্যন্ত ১১ কিলোমিটার পূনঃখননের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। কাজের কোন অনিয়ম, গাফলতি সহ্য করা হবেনা। মাননীয় এমপি মহোদয় এবং আমার ও জনগণের পক্ষে মতিন সৈকত-কে কাজের তদারকি করার জন্য প্রতিনিধিত্ত করার অনুরোধ করছি। এসময়ে বক্তব্য রাখেন দাউদকান্দি উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ তরিকুল ইসলাম নয়ন। কালাডুমুর নদ পূনঃখনন আন্দোলনের সভাপতি দুইবার বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পদক এবং রাষ্ট্রপতির অভিনন্দন প্রাপ্ত কৃষি পরিবেশ সমাজ উন্নয়ন সংগঠক মতিন সৈকত। উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এডভোকেট আহসান হাবীব চৌধুরী। দাউদকান্দি উত্তর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সালাম, নদী খনন ঠিকাদার মোঃ আল আমিনসহ স্হানীয় নেতৃবৃন্দ।
গোমতী নদীর শাখা কালাডুমুর। দাউদকান্দির গৌরীপুর থেকে উৎপত্তি হয়ে গৌরীপুর, জিংলাতলি, ইলিয়টগঞ্জ উত্তর এবং দক্ষিণ ইউনিয়ন অতিক্রম করে পানি সরবরাহ খালের মাধ্যমের পার্শ্ববর্তী মুরাদনগর, চান্দিনা, দ্বেবিদার এবং কচুয়া উপজেলায় প্রবাহিত হয়েছে। কালাডুমুর নদ আনুমানিক পঞ্চাশ হাজার বিঘা জমিনের প্রায় ১২ লক্ষ ৫০ হাজার মণ বোরোধান উৎপাদনে সেচের পানির একমাত্র উৎস। এছাড়া খড়া মৌসুমে প্লাবন ভূমির মৎস্য প্রকল্পগুলো পানি সরবরাহ করার পাশাপাশি নৌ-পথের নাব্যতা সৃষ্টি, প্রাকৃতিক মাছের অভয়ারণ্য, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, পরিবেশ সুরক্ষায় নদটি পূনঃখনন অপরিহার্য।
কালাডুমুর নদ বালি পলি জমে ভরাট হয়ে গেছে। শুকনো মৌসুমে শুকিয়ে যায়। বোরোধান আবাদে মারাত্মক বিপর্যয় সৃষ্টি করে। কচুরিপানায় ভরে যায়। এসব দেখে আদমপুরের মতিন সৈকত কৈশর থেকেই কালাডুমুর নদ নিয়ে কাজ শুরু করেন। ১৯৯৭ থেকে তিনি আজ পর্যন্ত ২৫ বছর একটানা কালাডুমুর নদের পানি দিয়ে মাত্র দুইশ টাকার বিনিময়ে ধান রোপণ থেকে পাকা ধান কাটা পর্যন্ত মৌসুমব্যাপী সেচের পানি সরবরাহ করে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দৃষ্টান্ত স্হাপন করেছেন।
মতিন সৈকত তিনি দশক যাবত কৃষি পরিবেশ সমাজ উন্নয়নে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তিনি কালাডুমুর নদকে নিজের নদ বলেন। নদটি তার উদ্যোগে ২০০৭ সালে প্রায় ২ কিলোমিটার ২০১৫ সালে আধা কিলোমিটার পূনঃখনন হয়। নদটি পূনঃখননের জন্য ২০ মানববন্ধন, সংবাদ সম্মেলন, কোদাল মিছিল, প্রতিকী অনশণ, নদী মেলা, নদী অলিম্পিয়াড সহ নদী পাড়ের জনগণকে জাগিয়ে তোলার কাজ করেন। ব্যক্তিগত উদ্যোগে প্রায় ১৩ কিলোমিটার কালাডুমুর নদ পরিমাপ করে পানি উন্নয়ন বোর্ডে জমা দিয়েছেন। কালাডুমুর পূনঃখনন জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে কথা বলেছেন। কৃষিমন্ত্রী, কৃষি সচিব, জাতীয় নদী কমিশনের চেয়ারম্যান, বিএডিসির চেয়ারম্যান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের উর্ধতন কর্মকর্তা সহ সংশ্লিষ্ট মহলে আবেদন করেছেন। স্হানীয় জনগণ কালাডুমুর নদীকে মতিন সৈকতের নদী বলেই জানে। কালাডুমুর নদ পূনঃখনন শুরু হওয়ার মতিন সৈকত বলেন কালাডুমুর পূনঃখনন ছিল আমার জীবনের অন্যতম সেরা লক্ষ্য। কৃষি, পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের পাশাপাশি জনকল্যাণে বহুমূখী উপকারে আসবে। আলহামদুলিল্লাহ। আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, এমপি মহোদয়, উপজেলা চেয়ারম্যান, উপজেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অভিনন্দন জানাচ্ছি।