ভোজন রসিকদের প্রিয় নওগাঁর কুমড়া বড়ি

প্রকাশিত: ৪:৪৯ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১৫, ২০২০, 313 জন দেখেছেন

নাসির উদ্দিন(নওগাঁ)জেলা প্রতিনিধি-

উত্তরের গ্রামীণ জনপদ ভোজন রসিকদের প্রিয় নওগাঁর ঐতিহ্যবাহী একটি খাবারের নাম কুমড়া বড়ি। বিভিন্ন তরকারীর সাথে রান্না করে খাওয়ার প্রচলন বহুকাল আগে থেকেই। ভোজন রসিকদের খাবারে বাড়তি স্বাদ এনে দেয় কুমড়া বড়ি। ভোজন বিলাসী বাঙ্গালি গৃহিণী।তরকারিতে কেমন করে স্বাদ আনতে হয় সে দিক বিবেচনায় বাঙ্গালী গৃহিণীদের জুড়ি মেলা ভাড়।

আর শীতের আগমনীতে চালকুমড়া এবং কালাই দিয়ে নওগাঁ র ঐতিহ্যবাহী  কুমড়া বড়ি বানানোর ধুম পড়েগেছে।

গ্রামের বাড়ি গুলতে শুরু হয়ছে সাধ্যনুযায়ী  কুমড়াবড়ি বানানোর  নানা আয়েজন।

শীতে নদী বা বিলের পানি কমে যাওয়ার সাথে সাথে।অন্য যে কোন সময়ের চেয়ে  মিঠা পানির বাইম,গুচি, টেংরা,শোল,বোয়াল সহ বিভিন্ন প্রজাতির দেশীয় মাছ পর্যাপ্ত পরিমানে গ্রামের হাট বাজার গুলোতে সূলভ মুল্যে পাওয়া যায়। আর এসব মিঠা পানির মাছের সঙ্গে কুমড়া বড়ি রান্না করা খাবারে এনে দেয় বাড়তি স্বাদ।কুমড়া বড়ি দিয়ে তরকারি কথা শুনলেই ভোজন রসিকদের জিভে চলে আসে জল।  আর তাই শীতকে স্বাগত জানিয়ে চলছে। চাল কুমড়া ও মাস কালাই ডাল দিয়ে বড়ি বানানোর মহাৎসব। সূর্যোদয়ের সাথে সাথে শুরু হয় বড়ি তৈরির প্রক্রিয়া। শীতের মধ্যে গৃহিণীরা এই মজাদার খাবার তৈরিতে ব্যাস্ত সময় পাড় করছেন। নওগাঁর বিভিন্ন হাট বাজারে বিক্রি হচ্ছে এসব কুমড়া বড়ি। এ ছাড়া ও পাশের জেলার বিভিন্ন হাট থেকে পাইকারী নিয়ে এসে বিভিন্ন দোকানীরা খুচরা বিক্রি করছেন স্বাদের এই কুমড়াবড়ি। গ্রামের ধনী গরিব সব শ্রেণী পেশার ভোজন বিলাসী মানুষের নিত্যদিনের খাবার তরকারিতে ব্যাবহার হয় এই কুমড়া বড়ি। আর সে কারনেই কুমড়া বড়ি বানানোর আয়েজন একটু বেশি।

কুমড়া বড়ি বানাতে পাকা(পরিণত)বয়সের চাল কুমড়া কুঁড়ে নিয়ে  তার সঙ্গে মাস কালাই বেঁটে কালোজিরা ও পাঁচ পোড়ন দিয়ে রোদে শুকিয়ে বিশেষ কায়দায় তৈরি করা হয় নওগাঁর ঐতিহ্যবাহী  এই  কুমড়া বড়ি। বড়ি তৈরিতে বেশ ঘাম ঝড়াতে ও হয়। কুমড়া বড়ি তৈরিতে তিব্র রোদের তাপের বিশেষ প্রয়েজন। বড়ি তৈরির পর যদি পর্যাপ্ত রোদের বদল আকাশ মেঘালা  থাকে এবং তা দিনের পর দিন চলতে থাকে। তাহলে দিনের পর দিন এই কুমড়া বড়ি বানানোর পরিশ্রম আর হাড় ভাংঙ্গা খাটুনি সবই বৃথা যেতে পারে। কারন বড়ি বানানোর পর যত দ্রুত এটি পর্যাপ্ত রোদে শুকানো যায় ততই তৈরি কুমড়া বড়ি স্বুস্বাদু হয়।

তবে বর্তমান সময়ে মাস কালাই ডালের চাষ আবাদ খুব বেশী না থাকায় চরাদামে কিনে বড়ি তৈরি করতে হচ্ছে। অনেকই বানিজ্যিক ভাবে তৈরি করছে কুমড়া বড়ি, খুচরা বিক্রি করছে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা কেজি দরে।অতি মুনফা লাভের আশায়, মাস কালাই এবং চাল কুমড়ার  বিকল্প হিসেবে  ব্যাবহার করছে পেঁপে ও আটা ময়দা বলে জানাগেছে । এতে করে ঐতিহ্যবাহী এই খাবারের স্বাদ ও মান নষ্ট হবে বলে মনে করছেন বাজারে কুমরা বড়ি কিনতে আসা ভোজন রসিকেরা।