মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আহবান এবং একজন ড. আতাউর রহমান।

প্রকাশিত: ৬:৩৪ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১৪, ২০২০, 743 জন দেখেছেন

নিজস্ব প্রতিবেদনঃ

সম্ভবত ২০১৪ সালের দিকের কথা।আমি তখন উপসচিব। সাংস্কৃতিক বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরে প্রশাসন শাখা দেখতাম। যেখানেই চাকরি করেছি, চেষ্টা করেছি জুনিয়র সিনিয়র সবাইকে নিয়ে ভালো একটা পরিবেশ সৃষ্টি করে থাকতে। প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরে চাকরি করার সময়ও তার ব্যত্যয় ঘটেনি।অফিসে গিয়েই ড. আতাউর রহমান সাহেবের রুমে যেতাম প্রায়ই।কম করে হলেও উনি অন্তত এককাপ তুলসী পাতার চা দিয়ে আপ্যায়ন করতেন। ।ড. আতাউর রহমান ছিলেন ঢাকা অঞ্চলের উপপরিচালক। প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের প্রধান কাযা’লয়ে বসতেন।সারাজীবন একটা ওষুধও খাননি।শুধু গাছ গাছরা দিয়েই নিজের চিকিৎসা করেছেন। অদ্ভুত ব্যাপার! অত্যন্ত আত্বপ্রত্যয়ী এই মানুষটি। নম্র,ভদ্র,বিনয়ী ও কাজ পাগল একজন মানুষ ড. আতাউর রহমান। সাধারণ মানুষকে তিনি অত্যন্ত ভালোবাসেন।

আমি প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর থেকে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে চলে আসি। এরপর আর ড. আতাউর সাহেবের সাথে দেখা হয় নাই। টেলিফোনে যোগাযোগ ছিল। মাঝেমধ্যে বইমেলায় দেখা হতো।
পাব’ত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে যোগদান করার পর প্রায়ই আমাকে পাব’ত্য এলাকায় ট্যুরে যেতে হয়।এই এলাকার উন্নয়নের জন্য আমাকে বিশাল একটা দায়িত্ব দিয়েছে সরকার। দায়িত্ববোধ থেকেই সেখানে যাই প্রায়ই। আমি সবার সাথে চেষ্টা করছি উন্নয়নকে আরও এগিয়ে নিতে।

ড. আতাউর রহমান সাহেবের পোস্টিং প্রত্নতাত্ত্বিক অঞ্চল কুমিল্লাতে।চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, সিলেট সহ বিশাল একটা এলাকা নিয়ে তিনি কাজ করেন।থাকেন কুমিল্লা শালবন বিহারে পরিবার পরিজন নিয়ে।একই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া বান্ধবীকে বিয়ে করে মহাসুখে আছেন একছেলে,এক মেয়ে নিয়ে।
প্রায়ই টেলিফোনে বলতেন, স্যার,শালবন বিহারে বেড়ায়ে যান।ভাবি, বাচ্চাদের নিয়ে আসেন।সেটাই স্বাভাবিক।কিন্তু আমার বউ আবার ঘরকুনো মানুষ। কোথাও যেতে চায় না।প্রায় বিশটা দেশ ঘুরেছি।প্রতিবারই বলেছি,চল আমার সাথে বিদেশের অভিজ্ঞতা নাও।শধু প্লেন ফেয়ারটা আমার দেয়া লাগতো।জিও সরকার দেবে,বিধান আছে। কোনদিনই নিতে পারিনি। ও ঘরের ভিতরই থাক।

আগামী ২/৪ দিনের ভিতর সরকারি প্রগ্রামে কক্সবাজার যাব আকাশ পথে।বললাম চল যাই, ২ দিন থাকবো।মনে হলো একটু রাজি রাজি ভাব।দেখা যাক।

ড. আতাউর রহমান সাহেবের ফোন। স্যার আপনিতো কুমিল্লা হয়ে পাব’ত্য চট্টগ্রাম এলাকায় যান।একটু ঘুরে যান শালবন বিহারে।সেদিন ট্যুরে যাওয়ার সময় দাউদকান্দি থেকে হঠাৎ ফোন দিলাম, আমি শালবন আসছি। খুব খুশী হলেন ড. আতাউর।
আমি ২০১৪/১৫ সালের দিকে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরে থাকার সময় শালবন বিহার পরিদর্শনে গিয়েছিলাম। বিশাল এলাকা নিয়ে এই বিহারটি।অনেক জমি পতিত পরে ছিলো। তখনকার অফিসারকে নিদে’শনা দিয়েছিলাম জমি খালি না রেখে ফল,শাকসবজির চাষ করতে।ওটা আর তেমন হয়নি।

সম্প্রতি রাঙ্গামাটি সফরের সময় শালবন বিহারে গিয়ে ড. আতাউর রহমান সাহেবের অদ্ভুত সব কাজকর্ম দেখে রীতিমতো আশ্চর্য হয়েছি।পতিত জমি প্রায়ই শাকিসব্জি,ফলমূলে ভরে গেছে।ওষধি গাছ লাগানো হয়েছে প্রচুর। বিহারের জলাশয়ে করা হয়েছে মাছের চাষ।
আম,জাম,লিচু,কাঁঠাল,আনারস,পেয়ারা,বেল,কলা,আতা,শরিফা, কদবেল, পেপে, কুল সহ সব দেশী ফলের গাছ লাগানো হয়েছে। আগের গাছগুলো পরিচযা’ করা হচ্ছে।এছাড়া কুমড়া,লাউ,চিচিঙ্গা,শশা,লালশাক,ডাটাশাক, পুইশাক, ঢেরস,গীমাকলমি,করলা,কচু,আগাম মুলা,টমেটো, ফুলকপি,বাধাকপি এগুলোর চাষ হচ্ছে।বাদ পরেনি,মিস্টি আলু।কোন কোন সবজি গাছ জাংলায়, কোনটা বা গাছে উঠিয়ে দেয়া হয়েছে।
বিভিন্ন ধরনের ফুলের সমাহারও তিনি ঘটিয়েছেন, চাষ করছেন।পাহাড়ি এলাকা থেকে নিয়ে এসেছেন কিছু দুল’ভ ওষধি গাছও।
ওষধি গাছের মধ্যে তুলসীগাছ, শেতদ্রন,রক্তদ্রন,ওলট কম্বল, সহ আরও প্রায় ১৫/২০ প্রজাতির গাছ রয়েছে যেগুলোর নাম মনে নাই।সারা সময় অফিসের ফাঁকে তিনি এগুলো নিয়েই পরে থাকেন।

করোনা পরিস্থিতিতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী পতিত সব ধরনের জমি চাষের আওতায় আনার জন্য নিদে’শনা দিয়েছেন। তিনি ওষধি গাছের উপর জোড় দিয়েছেন। ড. রহমান সেই কাজটি অক্ষরে অক্ষরে পালন করছেন, এর মধ্যে কোন ভুল নাই।তিনি ঘুরে ঘুরে সবকিছু দেখালেন।সরকারের একজন উচ্চ পযার্য়ের কম’কতা’ হয়েও শ্রমিকদের সাথে তিনি নিজে মাঠে গিয়ে কাজ করে থাকেন, সবাইকে হাতেকলমে কাজ শেখান।
উৎপাদিত ফল,শাকসবজি তিনি কম’চারী,গরীব মানুষ, প্রতিবেশী, স্থানীয় সুধীজন,সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা কম’চারি, ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক সবার মাঝে বিলিয়ে দেন।নিজ খরচে এই কাজগুলো তিনি করে থাকেন এবং তৃপ্ত হন।
করোনা পরিস্থিতিতে নিজের শ্রমিক দিয়ে এবং নিজ হাতে পাশের গ্রামের কৃষকের ধান কেটে দিয়েছেন। তাঁর সহধর্মিণী এইকাজে যথেষ্ট অনুপ্রেরণা দেন ও সাহায্য করে থাকেন।অত্যন্ত অল্প সময়ের মধ্যে আমাকে আপ্যায়ন করলেন, লাঞ্চ করালেন। সত্যি, তুলনা হয় না।

ড. আতাউর রহমান, কথায় কথায় জানালেন এবং যে সব তথ্য দিলেন তা নিম্নোক্তভাবে বলা যায়।
যেমনঃ

১। শাকসবজি ১০বিঘায় (কুমিল্লাসহ চটগ্রাম ও সিলেট অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন গুলোর ফাঁকা পরিত্যক্ত জায়গায়) চাষ করেছেন।তার অঞ্চলে সকল প্রত্নতাত্ত্বিক এলাকায় প্রায় একশত একর জমি পতিত পরে আছে। বাকি জমি তিনি আস্তে আস্তে চাষের আওতায় আনবেন বলে জানালেন।

২। ১০টা প্রত্নতাত্ত্বিক সাইটে উৎপাদিত শাক-সবজি ৫০০টি পরিবারের মধ্যে বিতরণ করেছেন।

৩। ৪০০০টি তুলশী গাছ লাগানো হয়েছে এবং সেটা থেকে হাজারো মানুষের মধ্যে তার পাতা ও চারা বিতরণ করেছেন।
৫। করোনা পরিস্থিতিতে আম-কাঁঠাল ২০০ পরিবারের মধ্যে বিতরণ করেছেন।
৬। নিজ উদ্যোগে ধানকাটা হয়েছে প্রায় ১০০বিঘা জমিতে (৫০টি পরিবারের)।
ড. আতাউর রহমান সাহেবের এই ধরনের উদ্যোগ, অবশ্যই প্রশংসার দাবি রাখে।সারা বাংলাদেশে সকল সরকারি,বেসরকারি, আধা সরকারি প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয়, স্কুল কলেজ,মাদ্রাসা, সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে হাজার হাজার হেক্টর জমি পতিত পরে আছে।এগুলো চাষের আওতায় আনা যেতে পারে। এই সব জমিতে বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি, ফলমূল (খাট জাত বা Dwarf variety) এবং উচ্চমুল্