রৌমারীতে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে রাতভর নির্যাতন ও হত্যার চেষ্টা

প্রকাশিত: ৯:০৭ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৮, ২০২০, 807 জন দেখেছেন

রৌমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি :

কুড়িগ্রাম রৌমারীতে থানায় যাওয়ার পথে একটি হত্যা মামলার বাদীকে তুলে নিয়ে রাতভর নির্যাতন করে হত্যার চেষ্টা করেছে দুবৃত্তরা ।

শনিবার রাতে উপজেলার সদর ইউনিয়নের রৌমারী – ঝগড়ারচর নামক এলাকা থেকে ওই যুবককে তুলে নিয়ে অমানবিক নির্যাতন চালিয়ে নেওয়া হয় সাদা কাগজে স্বাক্ষর । অনেক মারধরের পর রাস্তায় ফেলে রেখে চলে যায়,

এভাবে তুলে নিয়ে নির্যাতনের ঘটনায় গােটা এলাকায় সমালােচনার সৃষ্টি হয়েছে । নির্যাতিত শেখ ফরিদ ( ২৫) উপজেলার শৌলমারী ইউনিয়নের রফিকুল ইসলামের ছেলে।শেখ ফরিদ তার বাবা রফিকুল ইসলাম হত্যা মামলার বাদী । রােববার দুপুরে রৌমারী উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে গেলে নির্যাতনের স্বীকার শেখ ফরিদ অভিযােগ করে বলেন , শনিবার সন্ধ্যার দিকে । আমার বাবার হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ( আইও ) এসআই তুহিন মিয়ার ডাকে রৌমারী থানায় যাচ্ছিলাম । রৌমারী – ঢাকা মহাসড়কের ঝগড়ারচর নামক এলাকায় পৌছলে ওৎপেতে থাকা দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়নের খেতারচর গ্রামের আবুল হাসেমের ছেলে সেলিম ( ৩৫ ) , একই ইউনিয়নের আমবাড়ি গ্রামের মনিরুজ্জামানের ছেলে হাসান ( ৩০ ) , দাঁতভাঙ্গা গ্রামের নুরুল হকের ছেলে সবুজ মিয়া ( ৪০ ) , শৌলমারী ইউনিয়নের বড়াইকান্দি গ্রামের সমশের আলীর ছেলে চাঁন মিয়া ( ৫০ ) ও একই এলাকার শহর আলীর ছেলে রহিম বাদশাহ ( ৪৫ ) আমাকে তুলে নিয়ে যায় । পরে উপজেলার রৌমারী গ্রামের একটি বাড়িতে নিয়ে সারারাত শারীরিক নির্যাতন চালায় । এক পর্যায়ে তারা আমার কাছে । জোর করে একটি সাদা কাগজে স্বাক্ষর নিয়ে ছেড়ে দেয় ।

পরে আহতাবস্থায় রৌমারী হাসপাতালে ভর্তি হই । শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাতের চিহ্ন থাকার কথা স্বীকার করে রৌমারী উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসক মােক্তারুল ইসলাম সেলিম ।

উল্লেখিত ঘটনা,জেলা- কুড়িগ্রাম, থানা- রৌমারী, চর বড়াইকান্দি গ্রামের রফিকুল ইসলাম ও তার ছেলে রায়হান অতর্কিতে হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা, গত ১৩ মে ২০,দুপুর ১.৪৫ মিনিটে, এ ঘটনায় রফিকুল ও তার ছেলে রায়হানকে রৌমারী হসপিটালে ভর্তি করা হলে রৌমারী কর্মরত চিকিৎসক রফিকুলকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন, রংপুর নিয়ে যাওয়ার সময় রাস্তায় রফিকুলের মৃত্যু হয় হয়।

এ ঘটনায়,১৩ মে ২০২০, ৯ টা ১৫মিনিটে মৃত রফিকুল ইসলামের বড় ছেলে শেখ ফরিদ বাদী হয়ে ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন, আসামীরা হলেন ১,মোঃ মুকুল মিয়া (৪৫), ২,মোঃ আবুল হোসেন(৫০) ৩,সাখাওয়াত হোসেন(৩৮) ৪, সাইদুর রহমান(৩২)পিতা-আবুল হোসেন, ৫ ,নইবর হোসেন(৮০) ৬,সাইফুল ইসলাম (২৮) ৭,আসাদ আলী (২৭) ৮,রাশেদুল ইসলাম (২৫) ৯,আশরাফুল ইসলাম (১৮) ও ১০, ছাবিয়া বেগম (৪৮) এদের মধ্যে এক নম্বর আসামি মুকুল ও দশ নাম্বার আসামি ছাবিয়া বেগম আটক করলেও রৌমারী থানার পুলিশ বাকি আসামি পলাতক।

এব্যাপারে রৌমারী থানার অফিসার ইনচার্জ আবু মাে: দিলওয়ার হাসান ইনাম বলেন, হত্যা মামলার আসামিদের কে দ্রুত গ্রেপ্তার করা হবে এবং এই ঘটনার সাথে যারা জড়িত তাদের কেও দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।