মোংলা পৌরসভার নির্বাচনে বিএনপি’র ১জন,আওয়ামী লীগের ৫,স্বতন্ত্র ১জন।

প্রকাশিত: ৫:১৬ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৮, ২০২০, 535 জন দেখেছেন

মিজানুর রহমান,মোংলা (বাগেরহাট)

মোংলা পোর্ট পৌরসভার সর্বশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ২০১১ সালে।এরপর নিয়ম অনুযায়ী ২০১৬ সালে নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ হলেও সে সময়ে সীমানা জটিলতা মামলায় স্থগিত হয়ে যায় সেবারের নির্বাচন। সেই সীমানা জটিলতা দূর হয়ে এখন চলছে ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রম। এরপর যে কোন সময় হতে পারে পৌর নির্বাচন।তাই আসছে নির্বাচনকে সামনে রেখে পৌর মেয়র প্রার্থী হতে দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার আশায় সকলে দৌঁড়ঝাপ শুরু করেছেন। বিভিন্ন দলের সম্ভাব্য এ সকল প্রার্থীরা যে যার মত লবিংগ্রুপিং চালিয়ে যাচ্ছেন। দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার ক্ষেত্রে মাঠ পর্যায়ের নেতা-কর্মীসহ হাইকমান্ডের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করেছে চলেছেন প্রার্থীরা। এলাকায় চালাচ্ছেন প্রচারণাও।তবে এ প্রচারণা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেই বেশি দেখা যাচ্ছে।এর মধ্যে আবার কেউ কেউ এলাকায় জনসমর্থন জোগাতে প্রচারণাও চালাচ্ছেন।প্রচারণার অংশ হিসেবে অনেকে সামাজিক কর্মকান্ডের মধ্যদিয়ে নিজেকে জানান দেয়ারও চেষ্টা করছেন।এখন পর্যন্ত মাঠে আওয়ামী লীগেরই ৫ জন প্রার্থীর নাম শোনা যাচ্ছে।তাদের মধ্যে রয়েছেন বাগেরহাট জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা ইদ্রিস আলী ইজারাদার, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি, বাগেরহাট জেলা পরিষদের সদস্য ও মোংলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ডেপুটি কমান্ডার শেখ আব্দুর রহমান,পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব শেখ কামরুজ্জামান জসিম, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ও মিঠাখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ইস্রাফিল হাওলাদার এবং উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মো: ইকবাল হোসেন।এদিকে বিএনপি থেকে মাত্র একজন প্রার্থীরই নাম শোনা যাচ্ছে তিনি হলেন বর্তমান পৌর মেয়র আলহাজ্ব মো: জুলফিকার আলী। আলহাজ্ব মো: জুলফিকার আলী পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক।তার দল থেকে আর কোন সম্ভাব্য প্রার্থী না থাকায় তিনিই পৌর মেয়র প্রার্থী হিসেবে অন্য দলের দিক দিয়ে খুবই সুবিধাজনক অবস্থায় রয়েছেন। ২০১১ সালে জুলফিকার আলী মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর মাঝে সীমানা জটিলতার মামলার কারণে আর নির্বাচন হয়নি।দীর্ঘ ১০ বছর মেয়রের চেয়ারে থাকার সুবাধে তিনি ব্যাপক উন্নয়ন করেছের পৌরসভার সর্বত্র জুড়ে।তার এ উন্নয়নে অভিভূত পৌরবাসী। মেয়র মো: জুলফিকার আলী বলেন,আমি এর আগে বিএনপির একক মনোনীত প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করে মেয়র হই।এবারও দল থেকে আমাকেই মনোনয়ন দিবেন। তিনি আরো বলেন,আমি যখন মেয়রের দায়িত্ব নিই তখন পৌরসভা দেনায় জর্জরিত ছিল।রাস্তাঘাট খারাপ ছিল।সকল ধরণের নাগরিক সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিল পৌরবাসী।আমি দায়িত্ব বুঝে নেয়ার পর পৌরসভার সর্বত্র যে আধুনিকতার ছোয়া লাগিয়ে দিয়েছে তাতে পৌরবাসী খুশী মনে আমাকে আবারো ভোট দিয়ে মেয়র নির্বাচিত করবেন বলে আমি আশাবাদী।
এর আগে ২০১৬ সালে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের মনোনয়ন পেয়েছিলেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ইদ্রিস আলী ইজারদার।তবে সে সময় সামীনা জটিলতার কারণে নির্বাচন স্থগিত হয়ে যায়। মনোনয়ন প্রতাশী ইদ্রিস আলী ইজারদার বলেন,আসছে নির্বাচনেও আবারো তাকে দলের হাইকমান্ড মনোনয়ন দিবেন এমন প্রতাশ্যা তার। তিনি আরো বলেন,২০১৬ সালে তিনি দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার পর থেকে পৌরসভার সীমানা জটিলতা সংক্রান্ত মামলাসহ অন্যান্য বিষয়েও মোংলা থেকে ঢাকা পর্যন্ত ব্যাপক দৌঁড়ঝাপ করে নির্বাচনের পরিবেশের সৃষ্টি করেছেন।এজন্যও তার অবদানের দাবীদার তিনি।পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ আ: রহমান বলেন, তৃণমুলের নেতা-কর্মীদের প্রতি আমার আস্থা ও বিশ্বাস আছে।তারা তাদের দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়ে যে সকল সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম কেন্দ্রীয় মনোনয়ন বোর্ডে পাঠাবেন এবং মনোনয়ন বোর্ড যাকে চুড়ান্ত প্রার্থীতা দিবেন আমি দলের স্বার্থে তার হয়েই কাজ করবো।আমি না পেলেও দলের সিদ্ধান্ত মেনে নিবো।তিনি আরো বলেন,মোংলা-রামপালের উন্নয়নের কারিগর আমাদের রাজনৈতিক অভিভাবক খুলনা সিটি মেয়র আলহাজ্ব তালুকদার আব্দুল খালেক ও স্থানীয় সাংসদ উপমন্ত্রী বেগম হাবিবুন নাহারের সিদ্ধান্তের উপর আমরা সকলেই আস্থাশীল। তারা যে সিদ্ধান্ত দিবেন তা আমরা নেতা-কর্মী ও সমর্থকেরা রাজপথে বাস্তবায়ন করবো ইনশাল্লাহ।মনোনয়ন প্রত্যাশী পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব শেখ কামরুজামান জসিম পৌরসভার বার বার নির্বাচিত সাবেক চেয়ারম্যান মরহুম শেখ আ: হাই ও উপজেলা পরিষদের বার বার নির্বাচিত ভাইস চেয়ারম্যান কামরুন নাহার হাইর বড় ছেলে।পিতা মাতার সফল নেতৃত্বের উত্তরসূরী হিসেবে শেখ কামরুজ্জামান জসিমেরও এলাকা জুড়ে রয়েছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা।আলহাজ্ব শেখ কামরুজ্জামান জসিম বলেন,পৌর মেয়র হিসেবে আমি দলের কাছে মনোনয়ন চাইবো। আমার প্রিয় নেতা ও অভিভাবক খুলনা সিটি মেয়র আলহাজ্ব তালুকদার আব্দুল খালেক এবং স্থানীয় সাংসদ উপমন্ত্রী হাবিবুন নাহার যে সিদ্ধান্ত দিবেন সেটি মেনে নিয়েই আমি কাজ করবো।উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ইস্রাফিল হাওলাদার বলেন, আমি পৌরসভার নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী প্রত্যাশী।দলের কাছে মনোনয়ন চাইবো, আমার রাজনৈকিত অভিভাবক মোংলা-রামপালের রুপকার,খুলনা সিটি মেয়র আলহাজ্ব তালুকাদার আব্দুল খালেক এবং মোংলা-রামপালের সংসদ সদস্য হাবিবুন নাহার যে সিদ্ধান্ত দিবেন সেটি মেনে নিবো। উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মো: ইকবাল হোসেন বলেন,দলের কাছে মনোনয়ন চাইবো। দল মনোনয়ন দিলে দলের সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে নির্বাচন করবো।সর্বশেষ স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নাম শোনা যাচ্ছে মোংলা বন্দরের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী,সমাজ সেবক ও মোংলা প্রেসকাবের সভাপতি আলহাজ্ব এইচ এম দুলালের।তিনি দীর্ঘদিন ধরে সমাজসেবাসহ বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় কর্মকান্ডের সাথে জড়িত থাকার সুবাদে পৌর শহর জুড়ে তার ব্যাপক জনপ্রিয়তা ও সুনাম রয়েছে।দলমত নির্বিশেষে তার কর্মকান্ডে তিনি সকল শ্রেণী পেশার মানুষের কাছে দানবীর-হাতেমতাই বলেও আখ্যা পেয়েছেন।মোংলা পোর্ট পৌরসভার নির্বাচনকে ঘিরে শহরের অলিগলিতে বইছে নির্বাচনী আমেজ।কে,কে প্রার্থী হচ্ছেন,কে নির্বাচিত হলে কেমন হবে পৌরসভা। এতসব নিয়ে ভোটারদের মাঝে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।