রাজশাহীর পদ্মা নদীতে ৮ দিন পরে একই সাথে ভেসে উঠেছে মামাতো-ফুপাতো ভাই-বোনের লাশ

প্রকাশিত: ১০:২৮ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৪, ২০২০, 439 জন দেখেছেন

সুজন রাজশাহী প্রতিনিধি:

রাজশাহীর পদ্মা নদীতে নৌকাডুবির আটদিন পরে নিখোঁজ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী সাদিয়া ইসলাম সূচনা (২৪) এবং তার ফুপাতো ভাই রিমনের (১৪) মরদেহ উদ্ধার করেছেন স্থানীয়রা। শনিবার (০৩ অক্টোবর) ভোর ৬টার দিকে নগরীর উপকণ্ঠ নবগঙ্গায় নৌকাডুবির ঘটনাস্থলেই তাদের মরদেহ ভেসে ওঠে।রাজশাহী মহানগর নৌ-পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদি মাসুদ গণমাধ্যম কর্মীদের এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।নৌ-পুলিশের ওসি জানান, মরদেহ দুটি সকালে স্থানীয়রা ভাসমান অবস্থায় দেখতে পান। মরদেহ দুটি নদীর তীরে থাকার কারণে স্থানীয়রা উদ্ধার করতে সক্ষম হন। পরে ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স এবং পুলিশ সদস্যদের খবর দিলে তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।রাজশাহী ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের উপ-সহকারী পরিচালক জাকির হোসেন জানান, গত (২৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলের দিকে পদ্মা নদীতে ১৩ যাত্রী নিয়ে রাজশাহীর নবগঙ্গা এলাকায় এই নৌকা ডুবির ঘটনাটি ঘটে। এ সময় ১১ জনকে স্থানীয়দের সহায়তায় উদ্ধার করা হলেও সূচনা ও রিমন নিখোঁজ ছিলেন। মরদেহ না পেয়ে দু’দিন পর উদ্ধার কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়া হয়।অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, সাদিয়া আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের (এআইইউবি) বিবিএ তৃতীয় সেমিস্টারের ছাত্রী ছিলেন। তিনি ঢাকার ধানমন্ডি এলাকায় বসবাস করতেন। রাজশাহীর পবা উপজেলার খোলাবোনা এলাকায় চাচা জালাল উদ্দিনের বাড়িতে বেড়াতে এসে পদ্মায় নৌ ভ্রমণে গিয়েছিলেন তিনি। রিমনের বাড়িও নওগাঁয়, সম্পর্কে তারা মামাতো-ফুপাতো ভাই-বোন বলে জানা যায়।
উল্ল্যখ্য, গত (২৫ সেপ্টেম্বর) ২০২০ ইং বিকেলে পদ্মা নদীতে ১৩ যাত্রী নিয়ে রাজশাহীর নবগঙ্গা এলাকায় এই নৌকাডুবির ঘটনাটি ঘটে। এ সময় ১১ জনকে স্থানীয়দের সহায়তায় উদ্ধার করা হলেও সূচনা ও রিমন নিখোঁজ ছিলেন। মরদেহ না পেয়ে দু’দিন পর উদ্ধার কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়া হয়। নৌকাডুবির ঘটনায় নিখোঁজ ভাই ও বোনের লাশ আটদিন পরে রাজশাহীর পদ্মা নদী থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার ভোর ছয়টার দিকে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে লাশ দুটি ভেসে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ গিয়ে লাশ দুটি উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়না তদন্তের জন্য পাঠায়। উক্ত ঘটনায় গত মাসের শনিবার (২৬শে সেপ্টেম্বর) দুপুরে নৌকার দুই মালিকসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। নগরীর দামকুড়া থানায় রাজশাহী নৌপুলিশের কন্সটেবল শরিফুল ইসলাম বাদী হয়ে এ মামলা করেন। মামলার আসামিরা হলেন, নৌকার মালিক ঈসা, মিলন ও নৌকার মাঝি সুমন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাজশাহী নগর নৌপুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদি মাসুদ।