উখিয়ায় দেখা মিলেছে মানবতার ঝুড়ি

প্রকাশিত: ১০:২২ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২০, 664 জন দেখেছেন

আবদুর রহিম

উখিয়া কক্সবাজার প্রতিনিধি :

কক্সবাজার জেলার উখিয়ার ব্যস্ততম স্টেশন কোর্টবাজারে দেখা মিলল এক ভিন্নধর্মী চিত্র। ভালুকিয়া রোডের প্রবেশমুখে মায়ের দোয়া ফলবিতানে দেখা গেলো একটি ফলমূল ভর্তি ঝুড়ি এবং তার পাশে লিখা আছে-
”আপনার ক্রয়কৃত ফলের মধ্য হতে একটি ফল গরীব,অসহায় ও অসুস্থ ব্যক্তিদের জন্য ঝুড়িতে রেখে দেওয়ার অনুরোধ রইল।

ঝুড়ি থেকে গরীব,অসহায় ও অসুস্থ ব্যক্তিগন আপনার প্রয়োজনীয় ফল তুলে নিন।”

মায়ের দোয়া ফলবিতানের সত্ত্বাধিকারী মোহাম্মদ শাহ আলম এর কাছ থেকে জানা গেল, উখিয়ার স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘২ টাকায় শিক্ষা’ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে এই ভিন্নধর্মী কাজ করা হয়েছে।
এই সেবামূলক কাজে মানুষের কেমন সাড়া দেখতে পাচ্ছেন তা জানতে চাওয়া হলে শাহ আলম সিডব্লিউ বাংলাকে জানান, সবাই এই মহতি উদ্যোগকে সাদরে গ্রহণ করেছেন। অনেকে এখানে ক্রয়কৃত ফলের ১/২ টি রেখে দিচ্ছেন এবং যার প্রয়োজন সে সাচ্ছন্দে নিয়ে যাচ্ছেন।

এক অসহায় ব্যক্তি মানবতার ঝুড়ি থেকে প্রয়োজনমত ফল সংগ্রহ করতেছেন।

‘২ টাকায় শিক্ষা’ ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ রবিউল্লাহ জানান, ঝুলন্ত ঝুড়িতে রুটি এটি উসমানীয়দের উত্তম রীতিগুলোর মধ্যে একটি।কোন ব্যক্তি রুটি কিনতে আসলে সে দুটি রুটির মুল্য প্রদান করে একটি নিজের জন্য নিতেন।আরেকটি রুটি ঝুলন্ত ঝুড়িতে অভাবগ্রস্তদের জন্য রেখে যেতেন।অভাবী ব্যক্তি ঝুলন্ত ঝুড়িতে রুটি দেখতে পেলে,তিনি তার ক্ষুধা নিবারণের জন্য প্রয়োজনীয় রুটি ঝুড়ি থেকে নিয়ে নিতেন। তিনি তার প্রয়োজনের চেয়ে বেশী রুটি নেয়ার কথা ভাবতেন না।
এই রীতির সবচেয়ে সুন্দর দিকটি হল,অভাবী ব্যক্তিদের অবস্থার উন্নতি হলে তারা তাদের পুর্বের অবস্থা ভুলতেন না।তাই তারা যখন রুটি কিনতেন,তারাও বাড়তি রুটি কিনে ঝুড়িতে রেখে দিতেন।
হাদীসে রয়েছে “সে ব্যক্তি মুমিন নয়,যে পেট ভরে খায় অথচ তার প্রতিবেশী ক্ষুধার্ত “।
উসমানীয়দের ঝুলন্ত ঝুড়িতে রুটির এই রীতি হাদীসের শিক্ষাকে বাস্তবায়ন করার জন্য আমরা প্রাথমিকভাবে মায়ের দোয়া ফলবিতানে মানবতার ঝুড়ি টাঙ্গিয়ে দিয়ে উদ্বোধন করেছি।

তিনি আরও জানান, আমরা মহতি এই উদ্যোগে জনগণের প্রচুর সাড়া পাচ্ছি। সবার সহযোগিতা পেলে অক্টোবর মাস ব্যাপী বিভিন্ন বড় মার্কেট/ বাজারের ফল, সবজি, মুদির দোকানে এই মানবতার ঝুড়ি স্থাপন করা হবে।
মানবতার ঝুড়িতে ফল কিনে দান করতেছেন কয়েকজন মহৎ ব্যক্তি।

সত্যি এই সুন্দর উদ্যোগ প্রশংসার দাবিদার।
এভাবেই ফিরে পাচ্ছে ইসলামের হারিয়ে যাওয়া ইতিহাস ওসমানী খেলাফতের দানের মহিমা।

উল্লেখ্য, এর আগে ফাউন্ডেশনটি গরীব, অসহায় যাদের কোরবানি করার সামর্থ্য নেই এমন ৪১টি পরিবারের মাঝে কোরবানির গোশত বিতরণ করে। কোটবাজারের শহীদ এ.টি.এম জাফর আলম ডায়াবেটিক এন্ড কমিউনিটি হাসপাতাল রোডের দুই পাশে ও শহীদ এ.টি.এম জাফর আলম স্কুল এন্ড কলেজ প্রাঙ্গনে ৩০০টি বিভিন্ন প্রজাতির গাছ রোপন করে। হেফজখানা ও এতিমখানা’র শিক্ষার্থীদের শিক্ষা উপকরণ ও মধ্যাহ্ন ভোজের আয়োজন করে ফাউন্ডেশনটি।

২০২০ সালের ২০ই জুন কক্সবাজারে উখিয়া উপজেলার হলদিয়া পালং ইউনিয়নের শহীদ এটিএম জাফর আলমের জম্মস্থান ঐতিহ্যবাহী রুমখাঁ মাতবর পাড়া ও রুমখাঁ বাজার পাড়া গ্রামের সুশিক্ষিত একঝাঁক মানবতাবাদী তরুণের সমন্বয়ে ফাউন্ডেশনটির যাত্রা শুরু হয়। হত দরিদ্র শিক্ষার্থীদের শিক্ষার প্রতি আগ্রহী করা,শিক্ষার হার বৃদ্ধি, শিক্ষা ক্ষেত্রে সহায়তা,আর্থিক অভাবে ঝড়ে পড়া শিশুদের নিয়ে ‘দুই টাকায় শিক্ষা’ ফাউন্ডেশন কর্তৃক স্কুল প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্য নিয়ে ফাউন্ডেশনটির অগ্রযাত্রা শুরু হয়। এমনকি বিভিন্ন ক্ষেত্রেও দরিদ্র পরিবারে মানবিক সহায়তা প্রদান করার জন্য সদা-প্রস্তুত ফাউন্ডেশনটি।

ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি খাইরুল আমিন বলেন, আমরা প্রতিদিন নূন্যতম দুই টাকা করে সঞ্চয় করি ( দিতে চাইলে বেশি নেয়া যাবে ) এবং মাস শেষে প্রত্যেকের টাকাগুলো একত্রিত করে সমাজের সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা সামগ্রী প্রদান করি। এভাবে আমাদের ধারাবাহিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

তিনি আরো বলেন বলেন, আসুন ‘২ টাকায় শিক্ষা’ ফাউন্ডেশনের এই উদ্যোগে শামিল হই। মানবতার কল্যাণে এগিয়ে আসি।