বিদ্যুৎপৃষ্টে গৃহবধুর মৃত্যু পল্লীবিদ্যুতের গাফিলাতি

প্রকাশিত: ৬:৪৬ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২০, 473 জন দেখেছেন

নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধিঃ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলা ইব্রাহিমপুর সাহা পাড়ায় ২৫/০৯/২০২০ শুক্রবার সকালে পল্লীবিদ্যুতের গাফিলাতির কারণে বিদ্যুৎপৃষ্ট হয়ে এক গৃহবধুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। সে ইব্রাহিমপুর সাহা পাড়ার শান্তি রঞ্জন সাহার স্ত্রী লক্ষী রাণী সাহা (৩৫),দুই খুটির মাঝখান থেকে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে পুকুর ঘাটে পড়ে থাকায় এই দূর্ঘটনা ঘটে।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়,লক্ষী রানী সাহা সকালে রান্নাবান্নার কাজে পুকুর ঘাটে গেলে তাকে ঐখানে বিদ্যুতের ছিঁড়া তার পেচানোরত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে প্রতিবেশী টুম্পা রানী সাহা।

এই সম্পর্কে টুম্পা রানী সাহা বলেন, আমি ঘর থেকে বের হয়ে পুকুরের ঘাটে লক্ষ্য করে দেখি লক্ষী রানী সাহা ঘাটলার উপরে পড়ে আছে, আমি কাছে গিয়ে তাকে উঠাতে চাইলে আমাকে কে যেন জোরে ধাক্কা দিয়ে দূরে ঠেলে দেয়।পরোক্ষণে আমি আমার স্বামীকে ডেকে এনে এগিয়ে গিয়ে দেখি তার হাতের মুঠোতে বিদ্যুতের ছেঁড়া তারের একাংশ ও সারা শরীলে তার পেচানো রয়েছে এবং হাতের খানিকটা বিদ্যুতের আগুনো জ্বলে গেছে,পরে আমার চিল্লাচিল্লিতে আশেপাশের লোকজন হাজির হয়।

ঘটনার আরেক প্রত্যেহ্মদর্শী তাদের নিকট আত্মীয় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বৃদ্ধা বলেন,আমরা বার বার পল্লী বিদ্যুতের লোকজনের কাছে ঝুঁকিপূর্ন লাইন ঠিক করার কথা বলেও কোন প্রতিকার পাইনি,তারা এসে কি করে না করে তাদের জিজ্ঞেসা করলে বলে লাইন ঠিক হয়ে গেছে। আজ আরো অনেক লোক মারা যেত এদের গাফিলতির কারনে ,পল্লী বিদ্যুতের লোকজনের গাফিলতির কারনেই লক্ষী মারা গেছে বলে কান্না শুরু করে দেয়।

যেখানে প্রত্যেক মাসে বিদ্যুৎ বিলের সাথে সার্ভিস চার্জ বাবদ টাকা নেয়া হচ্ছে তারপরও তারা কেন ঠিকমত সার্ভিস করছে না এই সম্পর্কে এ জি এম কম বদর উদ্দিন এর নিকট জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান,লাইন কভার দেয়ার জন্য দুই খুঁটির মাঝে ১৫০ ফিট দূরত্ব থাকে কিন্তু এখানে এর বেশি থাকায় তার ছেঁড়ার ঘটনাটি ঘটেছে, তাছাড়া পাশে কয়েকটি কাঁঠাল গাছও রয়েছে এবং ঘরের বারান্দায় ২০০ টাকার যে খুটি ব্যবহার হয় তা দিয়ে সাপোর্টিং লাইন টানা হয়েছে। আমি নিজে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি।এই রকম আরো অনেক জায়গায় ঝুঁকিপূর্ন লাইন রয়েছে,দ্রুত এই সকল ঝুঁকিপূর্ন লাইনে কাজ করা হবে।

এই বিষয়ে সুশীলরা মনে করেন,পল্লী বিদ্যুতের যদি গাফিলতি না থাকত তবে অল্প বয়সে লক্ষীর প্রাণ ঝরে যেত না,তাই অতি দ্রুত দায়িত্বে অবহেলাকারীদের শাস্তির দাবিসহ এই উপজেলার সকল ঝুঁকিপূর্ন লাইন সংস্কারের জন্য আমরা জোর দাবি জানাচ্ছি।