বিদ্যালয়ের জমি আনুমানিক ২৫ বছর থেকে প্রভাবশালীদের দখলে

প্রকাশিত: ৬:৩১ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২০, 699 জন দেখেছেন

রাশেদ, স্টাফ রিপোর্টার (কুড়িগ্রাম)

কুড়িগ্রামের রাজারহাটে সিঙ্গারডাবরী হাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টির জমি আনুমানিক ২৫ বছর থেকে প্রভাবশালীদের দখলে। বিদ্যালয়ের জমি ব্যবসায়িরা দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ দখলে রাখায় শিক্ষা কার্যক্রম ব্যহত হচ্ছে।

জানা গেছে, উপজেলার ঘড়িযালডাঁঙ্গা ইউনিয়নের সিঙ্গারডাবরীহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ১৯২৪ ইং সনে প্রতিষ্ঠিত হয়। এলাকার আসাদুল
হক জানান, আমার দাদা মৃত ধনমামুদের দানকৃত ৭০ শতক এবং এলাকার মৃত আফান উল্লাহর দেয়া ২২ শতক মোট ৯২ শতক জমির উপর সিঙ্গারডাবরীহাট
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি স্থাপিত। এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীর অভিভাবকগণ অভিযোগ করেন, বিদ্যালয়টি স্থাপনের সময় পুরো ৯২ শতক জমিই বিদ্যালয়ের দখলে থাকলেও ধীরে ধীরে বিদ্যালয়টির পূর্ব দিকে উত্তর-দক্ষিণাংশের প্রায় ২০ শতক জমি বেদখল হয়ে যায়। বিদ্যালয়টি সিঙ্গারডাবরীহাট বাজার সংলগ্ন হওয়ার সুবাদে বর্তমানে ১৮ জন ব্যবসায়ী স্থাপনা গড়ে তুলে বিদ্যালয়ের জমিতে ব্যবসা-বাণিজ্য করছেন।

গতকাল রাজারহাট উপজেলার সরকারি সর্ভেয়ার জমিটি সম্পন্ন রুপে মেপে ১৮ টি দোকান বিদ্যালয়ের জমিতে পায়।

এই দোকান গুলোর কারনে বিদ্যালয়ের মাঠ সংকুচিত হওয়ায় শিক্ষার্থীদের চলাফেরা ও চিত্তবিনোদন বন্ধের উপক্রম হয়েছে। ভেঁঙ্গে পড়েছে বিদ্যালয়ের প্রাশসনিক কাঠামো। ব্যহত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম।

অবৈধ দখলদার ব্যবসায়ি সিন্ধু রায় বলেন,আগে এই জায়গা ব্যবহারের জন্য সিঙ্গারডাবরীহাট দ্বি-মূখী উচ্চ বিদ্যালয় ভাড়া আদায় করতো। ১০/১২ বছর
পূর্বে প্রাথমিক বিদ্যালয় জমি জরিপের পর এই দোকান গুলোর জায়গা তাদের বলে নিশ্চিত করার পর অনেকদিন প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির লোকজন বিদ্যালয়ের অনুষ্ঠানের জন্য টাকা নিত। কয়েক বছর ধরে দিতে হচ্ছে না। একই কথা বলেন,অন্য দখলদারাও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব উমর আলী জানান,যারা অবৈধ ভাবে বিদ্যালয়ের জমি দখল করে আছেন,তাদের কাছ থেকে কোন দোকান ভাড়া নেয়া হয় না।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ছোলায়মান মিঞা বলেন, বিদ্যালয়টির সীমানা নিধার্রনের জন্য সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর দরখাস্ত প্রদান করে ছিলাম সে অনুপাতে গতকাল সরকারি সার্ভেয়ার জমিটি মেপে ১৮ টি দোকান সরকারি বিদ্যালয়ের জায়গায় পায় । ওই সকল দখল দারদের স্থাপনা সরিয়ে নেওয়া জন্য আমরা নোটিশ প্রদান করবো। তারা না শুনলে আইন আনুক ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

এলাকাবাসী জানান অবৈধ দখলদারগন ক্ষমতা দাপটে বিদ্যালয়ের জমিতে দোকান উত্তোলন করে মোটা অংকের জামানত সহ প্রতিমাসে ২০০০ থেকে ২৫০০ টাকা ভাড়া উত্তোলন নিজের আখের গোছাচ্ছে।

উক্ত বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জানান ওই ভাড়া কে বা কাহারা উত্তোলন করে নেয় আমরা জানি না। স্কুলের জমি তারা দখল করে খাচ্ছে তাই আমি উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে জানাই। স্যার সেই অনুপাতে ব্যবস্থা গ্রহন করছে।