নবীনগরে এতিমের জায়গা জবরদখল ও মিথ্যা চাঁদাবাজি মামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন 

প্রকাশিত: ৬:৪২ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৬, ২০২০, 620 জন দেখেছেন

নবীনগর(ব্রাহ্মনবাড়ীয়া) প্রতিনিধিঃ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর থানাধীন রতনপুর ইউনিয়ন এর বাজেবিশারা গ্রামের বিত্তশালী মুক্তিযোদ্ধা মৃত ফজলুল রহমানের পরিবার কর্তৃক প্রতিবেশী এতিম মাহবুবের ৮ শতাংশ ডোবা আকার ভূমি জবরদখল ও সেই জায়গার বিষয়টি সুষ্ঠু সমাধানের লক্ষ্যে গ্রামীণ শালিস করায় শালিসীদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা করার প্রতিবাদে আজ বাজেবিশারা গ্রামবাসী মানববন্ধন করেন।

তথ্য সূত্রে জানা যায়, বাজেবিশারা গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা মৃত ফজলুল রহমানের এক পুত্র অস্ট্রেলিয়া ও আরেক পুত্র আমেরিকা প্রবাসী হওয়া সত্বেও তাদের প্রতিবশী এতিম মাহবুবের ৮ শতাংশ জায়গায়
জোর করে ড্রেজার দিয়ে বালু ভরাট করতে গেলে সাধারণ গ্রামবাসী বিষয়টি ন্যাক্কার জনক মনে করেন।এই নেক্কার জনক বিষয়টি সুষ্ঠু সমাধানের জন্য পরপর ৩টি গ্রামীণ শালিসি বৈঠক করে এতিম মাহবুবের জায়গা তাকে ফেরত দিতে বলায় মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের হাসিনা বেগম গ্রামীণ শালিসকে অমান্য করে নবীনগর থানায় অভিযোগ করলে এতিম মাহবুবও থানায় আরেকটি অভিযোগ করেন। তাদের পাল্টাপাল্টি অভিযোগের বিষয়টি গ্রামে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার সৃষ্টি হবে বলে মনে করে উপজেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে বিগত ১৮/০৮/২০ ইং তারিখে শালিসি বৈঠক বসেন।উক্ত শালিসি বৈঠকে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের পক্ষের লোকজন তাদের ভরাট করা জায়গার মালিকানার কোন কাগজপত্র না দেখাতে পারায় কাগজপত্র দেখানোর জন্য কৌশলে পরবর্তী তারিখ নিয়ে শালিস থেকে চলে আসেন। পরবর্তীতে জানা যায়,শালিসি বৈঠকের ধার্য্য তারিখের আগেই তারা শালিসে উপস্থিত থাকা গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গের নামে একটি মিথ্যা চাঁদাবাজি মামলা দায়ের করেন। এই খবর শুনার পর এলাকায় গ্রেফতার আতংকে জনমনে অস্থিরতা বিরাজ করছে এবং মুক্তিযোদ্ধা পরিবার হয়ে কি করে মিথ্যা মামলা দায়ের করল জনমনে নানান প্রশ্ন নাড়া দিয়ে উঠেন।তারই ভিত্তিতে গ্রামবাসী একত্রিত হয়ে আজ বিকালে জবরদখলকৃত জায়গায় সামনে জবরদখলকৃত ভূমি ফেরত ও সাধারণ মানুষদের মিথ্যা চাঁদাবাজি মামলা দিয়ে হয়রানি করার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেন।
১৮/০৮ তারিখের মিটিং উপস্থিত থাকা নবীনগর উপজেলার সাবেক মুক্তিযোদ্ধার ডেপুটি কমান্ডার সামছুল আলম সরকার বলেন,আমি জায়গা সংক্রান্ত বিষয়ে সুষ্ঠু সমাধানের জন্য উভয় পক্ষের শালিসি বৈঠক উপস্থিত ছিলাম চাঁদাবাজির বিষয়ে কোন আলোচনা হয় নাই,বৈঠকে ৮ শতাংশ জায়গার উপর উভয়ের দাবি থাকায় স্ব-স্ব প্রমাণাধি কাগজপত্র দেখানোর বিষয়ে কথা হলে মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের পক্ষ থেকে ৪ শতাংশ জায়গার কাগজ দেখিয়েছে আর বাকী ৪ শতাংশ জায়গার কাগজ দেখানোর কথা বলে পরবর্তী তারিখ নিয়েছে।তিনি হত বিম্ব কন্ঠে আরো বলেন,কি বলেন এই বিষয়টায় চাঁদাবাজি মামলা হয়েছে!

এই সম্পর্কে মানববন্ধনে উপস্থিত থাকা আব্দুর রউফ বলেন,গ্রামে যেন বিশৃঙ্খলা না হয় সর্ব সম্মতিক্রমে আমরা পরপর তিনটি বৈঠক করেছি কিন্তু মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের পক্ষ থেকে গ্রামীণ শালিস অমান্য করেন এখন শুনতেছি শালিসে উপস্থিত কারো কারো নামে মিথ্যা চাঁদাবাজি মামলা দিয়েছে, আমরা তার সুষ্ঠু সমাধান চাই।

মানববন্ধনে উপস্থিত থাকা মিথ্যা চাঁদাবাজি মামলার আসামি নূরউজ্জামানের মা আরজা বেগম বলেন, আমার ছেলে ইলেকট্রিকাল কাজ করে নবীনগরে বউ পোলাপাইন লইয়া থাকে আমার ছেলেরে যারা মিথ্যা মামলায় ফাঁসায়ছে আমি তারার বিচার চাই।
এই সময় মানববন্ধনে উপস্থিত থাকা সবাই একসুরে বলেন, আমরা এতিমের সম্পদ ফিরিয়ে দিতে ন্যায় কথা বলায় আমাদের হয়রানি করতেছে আমরা তার ন্যায় বিচার চাই।