পিস্তল ঠেকিয়ে ছিনতাইয়ের মামলা করায় কুপিয়ে জখম

প্রকাশিত: ৮:২৪ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৪, ২০২০, 624 জন দেখেছেন

সুজন রাজশাহী প্রতিনিধি:

ছোট্ট একটা দোকান দিয়ে সংসার চালান রাকিবুল ইসলাম রাকিব (৩০)। গত ২৫ আগস্ট এলাকার দুই ছিনতাইকারী রাকিবের মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে ২০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় রাকিব থানায় মামলা করেন। কিন্তু এক সপ্তাহেও পুলিশ আসামিদের গ্রেপ্তার করতে পারেনি।
বৃহস্পতিবার রাতে ওই দুই ছিনতাইকারী পিটিয়ে ও কুপিয়ে রাকিবকে গুরুতর আহত করেছে। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে রাকিব এখন অসহ্য যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন। তার দুটি হাত ও একটি পা ভেঙে গেছে। মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে রয়েছে গুরুতর জখম।
রাজশাহী নগরীর নতুন বিলশিমলা এলাকায় রাকিবের দোকান। দোকানের নাম ‘রাকিব টেলিকম অ্যান্ড এলপি গ্যাস স্টোর’। অভিযুক্ত দুই ব্যক্তি হলেন- সওদাগর ও বিদ্যুৎ। এরা ওই এলাকার চিহ্নিত ছিনতাইকারী ও মাদকসেবী। দুজনের বিরুদ্ধেই থানায় বেশ কয়েকটি করে মামলা রয়েছে।
গত ২৫ আগস্ট রাত ১০টার দিকে এ দুই ছিনতাইকারী অস্ত্র নিয়ে রাকিবের দোকানে প্রবেশ করে। এ সময় রাকিবের কপালে পিস্তল ঠেকিয়ে দোকানে বিদ্যুৎ বিলের ও বিকাশের টাকা নিয়ে তাকে ভয়-ভীতি দেখিয়ে পালিয়ে যায়। যাওয়ার সময় তারা হুমকি দেয় ঘটনা পুলিশকে জানালে এরপর তাকে গুলি করে জানে মেরে ফেলা হবে। তবে রাকিব এ বিষয়ে থানায় মামলা করেন।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ব্যবসায়ী রাকিব জানান, মামলা দায়েরের পর পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করতে পারেনি। অভিযুক্তরা তাকে ফোন করে মামলা তুলে নেয়ার জন্য চাপ দিত। মামলা না তুললে তাকে মেরে ফেলারও হুমকি দিত। সন্ত্রাসী সওদাগর ও বিদ্যুতের পরিবারের সদস্যরা তার বাড়িতে গিয়ে মামলা তুলতে বলত। কিন্তু তিনি মামলা তোলেননি। তাই ক্ষিপ্ত হয়ে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর আসামিরা আবার তার দোকানে যায়।
এরপর তাকে লোহার পাইপ দিয়ে পেটানো হয়। হাসুয়ার আঘাতে জখম করা হয় মাথা। যাওয়ার সময় এবার তারা হুমকি দিয়েছে যে আইনের আশ্রয় নিলে এবার তার আড়াই বছরের ছেলেকে মেরে ফেলা হবে।
রাজশাহী মহানগর পুলিশের মুখপাত্র গোলাম রুহুল কুদ্দুস বলেন, ছিনতাইয়ের ঘটনার পর থেকেই আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের তৎপরতা ছিল। কিন্তু তাদের গ্রেপ্তার করা যায়নি। রাকিবের ওপর হামলার ঘটনায় তার স্ত্রী থানায় আরেকটি মামলা করেছেন। আসামিদের গ্রেপ্তার করতে পুলিশ সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলেও দাবি করেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।