রাজার হাটে সবজির বাজারে উর্ধ্বগতি, দিশেহারা খেটে খাওয়া মানুষ

প্রকাশিত: ১১:২৪ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৩, ২০২০, 534 জন দেখেছেন

রাশেদ স্টাফ রিপোর্টার কুড়িগ্রাম:

কুড়িগ্রামের রাজার হাটে সবজির মূল্য উর্ধ্বমূখি হওয়ায় বিপাকে পরেছে খেটে খাওয়া মানুষ। বাইরে থেকে যোগান আসলেও কমছে না নিত্য প্রয়োজনীয় এসব পণ্যের দাম। ফলে নাভিশ্বাস অবস্থা সাধারণ মানুষের। একদিকে বন্যার তান্ডবে নষ্ট হয়ে গেছে শাকসবজি।
অপরদিকে করোনার কারণে প্রায়ই কর্মহীন হয়ে পরেছে কর্মজীবি মানুষ। এমন পরিস্থিতিতে দুই থেকে তিনগুণ মূল্যের পণ্য কিনতে হিমসীম অবস্থা তাদের। চলতি বন্যায় জেলায় ১৭ হাজার হেক্টর ফসলি জমিন বিনস্ট হয়েছে। এরমধ্যে শাকসবজি ৯৫৩ হেক্টর ও মরিচ ২০৫ হেক্টর।

(৩ সেপ্টেম্বর) বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা যায় সজবির বাজার লাগামহীন। কাচামরিচ ৩০০ থেকে ৩২০টাকা, বেগুন ৬০টাকা, আলু ৩৫ থেকে ৪০টাকা, ছোট করলা ৯০টাকা, বড় করলা ৭০টাকা, মুলা এবং লাল শাক ২৫ থেকে ৩০টাকা, কলমির শাক ২৫টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

মিষ্টি কুমড়া প্রতিপিস ৭০ থেকে ৮০টাকা, চাল কুমড়া প্রতি পিস ৩০ থেকে ৪০টাকা, লাউ প্রতি পিস ৪০ থেকে ৫০ টাকা, কাঁচাকলা প্রতি হালি ৪০টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। অপর দিকে চালের দামও বেড়েছে প্রকার ভেদে কেজি প্রতি তিন থেকে পাঁচ টাকা।

রাজার হাট বাজারে সবজি কিনতে আসা অটোরিকসা চালক আক্কাস আলী জানান, অর্ধেক বেলায় অটো চালায়া কামাই হইচে ১৯০ টাকা। এককেজি বেগুনের দাম চায় ৬০ টেকা। করলা ৯০টাকা, মরিচ ৩০০ টাকা। সাধারন ক্রেতা মোজাহিদুল ইসলাম জানান এখন এক কেজির জায়গায় হাফ কেজি থেকে আড়াইশ’ গ্রাম সবজি বাড়িতে নিয়ে যেতে হচ্ছে।

অপর ক্রেতা সূধীসমাজ জানান, বাজারগুলোতে কোন মনিটরিং ব্যবস্থা না থাকায় ইচ্ছেমত দাম হাকাচ্ছে খুচড়া বিক্রেতারা। মূল বাজার থেকে বাইরের বাজারগুলোতে একই পন্য দশ থেকে পনের টাকা বেশি দামে বিক্রি করছে।

রাজার হাট বাজারের সবজি বিক্রেতা রুস্তম আলী জানান, বন্যায় কুড়িগ্রামের অধিকাংশ সবজির আবাদ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় জেলার বাইরে থেকে অধিক মূল্যে সবজি আনতে হচ্ছে। ফলে মূল্য বেড়ে গেছে। কাঁঠালবাড়ির সবজি চাষী রাসেল মিয়া জানান, একবিঘা উঁচু জমিতে লাউ, করলা আবাদ করেছিলাম। বন্যার পানিতে না ডুবলেও বৃষ্টিতে প্রচুর ক্ষতি হয়েছে। এত করলা নষ্ট হয়ে গেছে। লাউয়ের ফলন কিছুটা হলেও আসল মুলধন উঠবে না। বর্তমানে তিনি প্রতিপিস লাউ ক্ষেত থেকে ৩৫টাকায় বিক্রি করছেন।

বিষয়টি নিয়ে, ভাবনায় রাজার হাট পেজের, সভাপতি শফিকুল ইসলাম জানান, কুড়িগ্রামের সবজির আঁধার খ্যাত রাজারহাট উপজেলার ছিনাই, সদর উপজেলার কাঁঠালবাড়ি ইউনিয়নের চর সিতাইঝাড়সহ অন্যান্য এলাকায় বন্যা ও অতিবৃষ্টির কারণে সবজি ক্ষেতের ব্যাপক ক্ষতি হয়। এর প্রভাব বাজারে পরেছে। এরফলে নিম্ন আয়ের মানুষের পক্ষে সবজি কিনে খাওয়া এখন কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। যদিও রংপুর, বগুড়া ও চাপাই থেকে থেকে সবজির যোগান আসছে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর তলিয়ে দেখা উচিৎ মার্কেটে দ্রব্যমূল্যের এমন তারতম্য কেন হচ্ছে।

এ ব্যাপারে রাজার হাট ইজারাদার ইয়াছিন আলী জানান,করোনা ও বন্যা দুটোই প্রধান কারন সবজির বাজার উর্ধ্বমুখি হওয়ার। করোনায় সাধারন খেটে খাওয়া মানুষের কামই রোজগার না থাকায় পরিপুর্ন ফসল ফলাতে পারে নাই। তার উপর আবার বন্যার প্রভাব,সবজির ব্যাপক ক্ষতি,তিনি আরও জানান, খুব দ্রুত আমারা এই সংকট কাটিয়ে উঠেয়ে উঠবো।