ওসি প্রদীপ নিভিয়ে দিয়েছিল, সাংবাদিক ফরিদুল মোস্তাফার আলো প্রদীপ

প্রকাশিত: ১:৫৪ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৭, ২০২০, 694 জন দেখেছেন

উখিয়া (কক্সবাজার) সংবাদদাতা : কক্সবাজার টেকনাফের ওসি প্রদীপের রোষানলে পড়ে নির্যাতনের স্বীকার সাংবাদিক ফরিদুল মোস্তাফার ঘটনা জানতে সাংবাদিকদের একটি টিম কক্সবাজার যাচ্ছেন,টিমের সাংবাদিক সংঘটনের, মানবাধিকার সংঘটনের নেতা,আইনজীবী, প্রশাসনের সাবেক কর্মকতাদের টিম গঠন হচ্ছে।

সাংবাদিক মোস্তাফা দীর্ঘ ১১মাস কারাগারে রয়েছেন।তবে কেন এতদিন কারাগারে রয়েছেন?কেন তিনি এতদিনে বের হননি এত সকল ঘটনার কারণ জানতেই কক্সবাজার যাচ্ছেন, সাংবাদিক নেতারা।জেলগেটে তার শারীরিক অবস্থারও খোঁজ খবর নেওয়া হবে।

স্থানীয় সাংবাদিকরা জানিয়েছেন,পুলিশের নানা দুর্নীতি ও অনিয়মের প্রচারের জেরে “কক্সবাজার বাণী ” পত্রিকার সম্পাদক সাহসী সাংবাদিক ফরিদুল মোস্তাফা কে মাদক মামলায় ফাঁসানো হয়েছে।

অভিযোগ উঠেছিল টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাসের বিরুদ্ধে। তবে গ্রেফতার কালে পুলিশের কাজের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস পায়নি, অনেক সাংবাদিক। তবে তারা সাবেক মেজর সিনহার হত্যার পর ওসি বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন।

ক্রসফায়ারের ভয়ে রাতে আধারে কক্সবাজার থেকে পালিয়ে রাজধানীতে আসা সাংবাদিক ফরিদুল মোস্তাফার জিবন আজ বিনা চিকিৎসায় কক্সবাজার কারাগারে নিস্তেজ প্রায়।

সাংবাদিক ফরিদুল মোস্তার উপর ওসি প্রদীপের অমানুষিক নিযার্তনের বর্ণনা তুলে ধরা হলঃ

অন্ধ প্রায় চোখ,ডান হাত ভাংগা, হাতের আঙ্গুল থেতলানো মোস্তাফা বুঝি আর সাংবাদিকতা করতে পারবে না। জানা যায় –সাংবাদিক ফরিদুল মোস্তাফার পরিবার কে নানা ভাবে হয়রানি করেছে টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার।কোনো গ্রেফতারী পরোয়ানা ছাড়াই ঢাকার পল্লবী থেকে ধরে নিয়ে এনে তিন দিন আটক রাখে।
প্রথমে চোখে মরিচের গুডা ছিটিয়ে অমানুষিক নির্যাতন করা হয়।পরে মিথ্যা মামলা দিয়ে আদালতে পাঠানো হয়।

২০১৯সালে পরিবারের পক্ষ থেকে ঢাকার আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ফরিদুল মোস্তাফার স্ত্রী হাসিনা আক্তার লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ জানিয়েছিলেন। তিনি বলেন তার স্বামী বিভিন্ন সময় টেকনাফ থানার ওসি সহ পুলিশ সদস্যদের নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির সংবাদ প্রচার করতো।এই কারনেই তাকে ২০১৯সালের ২১সেপ্টেম্বর রাজধানীর মিরপুর এলাকার বাসা থেকে ধরে নিয়ে গিয়ে শারীরিক নির্যাতন করে,মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে।সে সময় তার চোখে মরিচের গুডা দিয়ে নির্যাতন করায় বর্তমানে তার চোখ দু’টি নষ্ট হওয়ার উপক্রম প্রায়।এছাড়া তার হাত ভেংগে দিয়েছে।চিকিৎসক জানিয়েছে তার এক চোখ নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

ফরিদুল মোস্তাফার মেয়ে সুমাইয়া বলেন,তাদের পরিবারের কেউ কোনো মামলার আসামী নন।কখনো তারা কোনো অনিয়মে জড়াননি।এরপর পুলিশ ঠাণ্ডা মাথায় তার বাবাকে মামলা দিয়ে সমাজে তাদের পরিবারকে হেয় করেছে।

এদিকে সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির প্রধান সমন্ধয়কারী ও বি এম এস এফ’র সাধারণ সম্পাদক আহমেদ বাবু জাফর বলেন,সাংবাদিক ফরিদুল মোস্তাফাকে যেভাবে নির্যাতন করা হয়েছে, তা আইয়ামে জাহিলিয়াতের নির্যাতন কে হার মানিয়েছে।কোনো সভ্য মানুষ কিংবা পুলিশ দ্বারা চোখে মরিচের গুডা দিয়ে বেয়োনেট দিয়ে শরীরের বিভিন্ন জায়গায় খুচিয়ে, এমন কি গোপনাঙ্গে আঘাত করা হয়েছিল।এই ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে সাংবাদিকদের একটি টিম শীঘ্রই কক্সবাজার যাবেন।